মার্গে অনন্য সম্মান শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার (সর্বোত্তম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৬৭

বিষয় – বুদ্ধিজীবী

জীবন দর্শন

সমাজ এমন এক পীঠস্হান যার ভিত্তি

যার অবকাঠামো,পরিকাঠামো অনেকখানি
নির্ভর করে তার চলমান জীবন ধারণের
মূল ধারাগুলি যারা মূল্যায়ন করে থাকেন
তাদের অভিজ্ঞতা ,সৃজনশীল পটভূমিকা ,
পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণের বাস্তব রূপায়ণের
দলিল ,দস্তাবেজে যা দর্পণের মত কাজ
করে থাকে দেশে বিদেশে সর্বত্র এবং সমাজ
সেই মোতাবেক এগিয়ে চলে বলে অনেকেরই
বিশ্বাস ও অভিমত বলে প্রকাশ পায় ।
সাধারণত সমাজের স্রোতে ইনারাই ভিন্ন
চোখ দিয়ে সমাজকে দেখে থাকেন। সেই
চোখই সমাজের দর্পণ যা প্রতিফলিত করে
মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ,চালচলন,বাতাবরণ ও
রাষ্ট্রের ভূমিকা সাথে বেসরকারী উদ্যোগে
নানান কর্মপ্রয়াসের রূপরেখা।
এই রূপরেখা যে কেউ তো করলে তা গুরুত্ব
পায় না। কিন্তু প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ,
সমাজ সংস্কারক ,সাহিত্যিক ,বিজ্ঞানী ,
পরিবেশবিদ,রাজনৈতিক বিশ্লেষক যারা
সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত তাঁদের কথা
সমাজের বেশীর ভাগ মানুষ,বিশেষ করে
সৃজনশীল ও মননশীল মানুষ বেশ গুরুত্ব
দিয়ে বিচার করে থাকেন ।
তাই ইনারা রাজনৈতিক নেতা নেত্রী না হয়েও
সম্মানের অধিকারী ও সমাজ পরিবর্তনে
বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকেন যার মূল্য
টাকা দিয়ে বিচার হয় না।
মূলতঃ ইনারা বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে জীবন
নির্বাহ করে থাকেন আবার পেশাগত ভাবে
জড়িত থেকেও তাঁদের ধীশক্তি,তাঁদের
অভিজ্ঞান ,দক্ষতা ও কর্মপদ্ধতি সমাজকে
শেখায় তারাও এই অংশের দাবীদার আর
তাই ইনারা বুদ্ধিজীবী ।
তবে বুদ্ধি,বোধন ও চেতন ~সেও তো এক
উপকরণ। আর উপকরণ যখন তখন তো
তাকে সমাজ কাজে লাগায় তার দৃষ্টিভঙ্গির
চরিত্র ও অভীষ্ট স্বার্থকে কাজে লাগাতে যা
সকল উপকরণের ক্ষেত্রে বিচার্য। তবে এই
বুদ্ধিকে কাজে লাগান হয়েছে সেই বৈদিক
যুগ হতেই, সমাজকে দখল রাখতে ও কায়েমী
স্বার্থকে বজায় রাখতে আর তখন হতেই
শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব ।
বুদ্ধিজীবী তার বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে নিজের
স্বার্থকে যেমন চরিতার্থ করে থাকেন বিনিময়ে
সে তার সে মেধাকে দেয় বন্ধক। আর
এখানেই বুদ্ধির চারিত্রিক বৈধতা ও
অবৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়।
তাই এটম বোম তৈরীর ফর্মুলা আবিষ্কার
করার পর তা যখন ধ্বংসাত্মক কাজে
লাগান হয় বিজ্ঞানীর অমত সত্ত্বেও তখনই
বুদ্ধিজীবীর চেহারার আসল আবরণ
উন্মোচিত হয়,তার গায়ে কালো দাগ পরে।
তাই বুদ্ধিজীবী মানেই মহৎ,বুদ্ধিজীবী মানেই
দর্পণ তা কিন্তু নয়~এখানেও বাঘনখের
বিষদাঁত আছে।
সমাজকে যেমন তারা আগিয়ে নিয়ে যেতে
পথ প্রদর্শক ঠিকই একই সাথে সমাজকে
পিছনে ঠেলে দিতেও ওস্তাদ আর তাই
গনেশের দুধ পান ও সত্যের আবরণে
ব্যাখ্যায়িত হয়। মোমবাতির আলো কখনো
জ্বলে পরিবর্তনের দামামায় আবার সেই
মোমবাতি জ্বলে না যখন সমাজকে কালো
অন্ধকারে ডুবিয়ে দিতে এক শ্রেণী বিচরণ
করে।
কাজেই বুদ্ধিজীবী যেমন জীবন দর্শনের
পূরোধা,মানব চেতনার অগ্রদূত ঠিক তেমনি
পিছনের পথে হাঁটারও সৈনিক আর তাই তো
সতীদাহপ্রথা,বিধবা বিবাহ চালু ও
বাল্যবিবাহ বন্ধেও এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী
বিরোধিতা করেছিল।
হাল আমলে শিল্প কারখানা স্হাপনে ও
বুদ্ধিজীবীদের একাংশের চরিত্র বিমোহিত
করেছে যার ফল এখন ভুগতে হচ্ছে।
কাজেই বুদ্ধিজীবী আজ সমাজের দর্পণ
হলেও সমালোচনার উর্দ্ধে তারাও নয়~
এ কথা মনে রাখা দরকার।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।