মার্গে অনন্য সম্মান শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার (সেরার সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৯৫
বিষয় – ব্যতিক্রম

খাপছাড়া

সমাজে যা কিছু ঘটে তা নিয়ে যত কথাই
হোক না কেন একটু খাপছাড়া হলেই তা
নজরে পড়ে সকলেরেই~আর তা নিয়ে
দিন রাত হৈ চৈ,বাজার গরম~একেই বলে
ব্যতিক্রমী ঘটনা ।
কেন হবে না,সেই যে স্কুলে পড়ার সময়
বাংলা ব্যাকরণে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির কথা
মনে পড়ে,সেই যে সেই “ কুলটা ” কথা,
নিয়মের গন্ডি না মেনেই সে কেমন বহাল
তবিয়তে রাজ করে ।
কথায় কথায় কত কথা,কানা ছেলের নাম
পদ্মলোচন,যাকে দেখতে নারি তার চলন
বাঁকা ,তরমুজ -এ রকম কত কথা ব্যতিক্রমী
হয়ে সমাজকে এক নতুন পথে নিয়ে চলে যার
মধ্যে রহস্য আর তির্যকে তাকে অন্য মাত্রা
দেয় বলেই ব্যতিক্রম যেন এক জীবনধারার
মস্ত উপকরণ হয়ে ভাষা,সাহিত্যে বিশেষ
স্হান পেয়ে থাকে ।
ব্যতিক্রম শুধুমাত্র যে তির্যক বা শ্লেষের
ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় ,তা কিন্তু সবসময় নয়।
তার বিশেষ এক ভূমিকাও থাকে। একজন
অন্যজন বা অনেকজনের মধ্যে যখন পৃথক
অবস্হান নিয়ে সমাজের দর্পণে এক নতুন
অভিরেখা প্রতিফলিত করে ও জনমনে বিশেষ
স্হান পায় তখন সে এক ব্যতিক্রমী সুদূরের
সত্যসন্ধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ব্যতিক্রমের এমন চরিত্র যা সমাজকে নতুন
আলো দেয় ,ভাবতে শেখায়-যুক্তির মধ্যে দাঁড়
করিয়ে দেয় ।
সহজাত প্রবৃত্তি হতে যখন কোন পৃথক
সত্ত্বা দেখা দেয় যেমন নলজাত শিশু,এক
ব্যতিক্রমী উদাহরণ কিন্তু সে প্রথমদিকে
তার সত্ত্বা চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকলেও সে এখন
ব্যতিক্রমী হয়েও বিজ্ঞানের অগ্রগতির
সোপান হয়ে অন্য ঘরানা নিয়ে ঘর করে
চলেছে ।
আবার সামাজিক সত্ত্বার মধ্যে থেকেও
স্বাধীনতার অভিব্যক্তির অভিপ্রায়ে একক
মা,বা সিঙ্গেল মাদার অথবা একক বাবা
বা সিঙ্গেল ফাদার হওয়ার যে প্রবণতা দেখা
দিয়েছে সেও এক ব্যতিক্রমী ফসলের
নয়া রূপরেখা যা মা কিংবা বাবা হতে
ইচ্ছুক হয়েও যে পারিবারিক বন্ধনের মধ্যে
আবদ্ধ থেকে সহজাত পরিমিতির শিশুজীবন
কি সেই অভিলাষী মননের পরচায়ক হতে
পারবে ,ব্যতিক্রমী তাই অনেক প্রশ্ন তুলে~।
সিংহ আর বাঘের পারিবারিক বন্ধনে
যে “বাংহ ” তা ও এক ব্যতিক্রমী
জীবনমিতির নয়া সংস্করণ ।
আবার গাছের বনসাই যা জীবনবোধের
অণু পরিবার রূপে পরিচিতি পায় সেও তো
ব্যতিক্রমের পদচারণার নতুন এক
অভিধারা বলে মনে হয় ।
আজ,এমন এক যুগ সন্ধিক্ষণে সভ্যতা এসে
দাঁড়িয়েছে যা পার্থিব জীবনের যাত্রপথে
নানান ব্যতিক্রমী সমন্বয়ের পাঠ্যসৃচীর
এক অভিযোজন হয়ে মানুষকে চলতে
শেখাবে বলে মনে হয় ।
ব্যতিক্রম আজ তাই চলার পথে শুধুমাত্র
রহস্যের বা শ্লেষের কিংবা উপহাসের পাত্র
তা আর না হয়ে সে এক বিকল্প চিন্তাধারার
নতুন সূচক হিসেবে ভাবতে শেখায় বলে
সকলেই মনে করে ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।