গ এ গদ্যে শম্পা সাহা

অপরাধী

রমা মা।রমা অপরাধী মা।না কেউ ওকে ওসব বলেটলে না।ও নিজেই ভাবে।
ছোট্ট মেয়েটার তখন বয়স কত?এই মাস দুই।রাহুল জানাল ও আর এসব দায়িত্ব ফায়িত্ব নিতে পারছে না।রমা ইচ্ছে হলে ওর সঙ্গে থাকতে পারে নতুবা বাপের বাড়ি ও যেতে পারে।কিন্তু কোন দায় ও নিতে পারবে না।
-এ আবার কোন কথা হল?
-যা পারবো না তার দায় জোর করে নিতে হবে?
-তুমি জানো এর বিরুদ্ধে আইনি ব‍্যবস্থা নেওয়া যায়।
-তা নাও।কেউ কি বারণ করেছে?আমি যদি না পারি তো আমার কি করবার আছে?
-নিজের বৌ বাচ্চার দায়িত্ব নিতে পারো না এটা আবার গর্ব করে বলছো?
-যা বাবা!আমার অক্ষমতাও কি দোষের?কেউ যদি কিছু না পারে তা কি দোষের হয়?
-নিজেকে অক্ষম বলতে লজ্জা করে না।কেমন বাবা তুমি?
-লজ্জা কিসের?আমি কি তোমাদের মারধর করছি? না মেয়ে বেচে দিচ্ছি?
-তাহলে এখন আমি কি করবো?
-যা খুশি!তখনই তো বলেছিলাম আমার বাচ্চাটাচ্চা চাই না।তুমিই তো জোর করলে।এতদিন তো যা পারলাম দিলাম আর পারছি না।
-এভাবে কি হাত তুলে নেওয়া যায়?
-সে আমি কি বলবো?তোমার রাস্তা খোলা!আমি যেতেও বলবো না আর থাকতেও না।তোমার ইচ্ছা!
-তুমি তো মাসে দুহাজার টাকা করেও দিতে পারো?তাহলেই হয়ে যাবে।আমার টিউশনি তো আছে।
-কোথা থেকে পাবো?আর তাছাড়া তুমি তো বেকার দেখেই বিয়ে করেছিলে।যদি তোমার বাবা কিছু টাকা দেন ব‍্যবসার জন‍্য।তাহলে হয়তো চেষ্টা করতে পারি!
-বাবা কোথা থেকে টাকা দেবে?
-ওঃ।বাবার বেলায় কোথা থেকে, আর আমার বেলায় দিতে হবে!একে কিন্তু মানসিক অত‍্যাচার বলে।শালা ,ছেলে হলেই দাও দাও দাও।শালা নিয়ম কানুন ও সব মেয়েদের জন‍্য।যেন ছেলেরা টাকা রোজগারের মেশিন!ইচ্ছার বিরুদ্ধেই সব করে যেতে হবে!ধুস্!
রাগে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে যায় রাহুল।রমা কথা বাড়ায় না, শুধু হিসেব কষে।বিয়েটা বাবা মায়ের অমতে।অন‍্য জায়গায় সম্বন্ধ দেখা শুরু হতেই তড়িঘড়ি বিয়ে।বিয়ের পর থেকে রমার টিউশনি আর রাহুলের এক দোকানে কাজ মোটামুটি চলে যেত।
এরমধ্যেই সামান্য অসাবধানে এই বিপদ।রমা প্রেগনেন্ট।যদিও সেদিন রমা বারবার সতর্ক করেছিল।শেষে বয়ে যায় আবেগে।রাহুলের তখন ভালোবাসার স্রোতে ভেসে বেঁহুশ অবস্থা।
কপাল খারাপ হলে দুর্বা ঘাসেও পা কাটে।তাই প্রেগন্যান্সি জানার পরদিন থেকেই রাহুল চাপ দিতে থাকে বাচ্চাটা নষ্ট করার জন‍্য কিন্তু রমা রাজি হয়নি।ওদের আর কি ? এমনি সময়ের শুক্রাণু আর এই সময়ের শুক্রাণুতে কোনো পার্থক্য নেই কিন্তু রমা!যে জেনেছে তার শরীরেও একটা নতুন প্রাণ আশ্রয় নিয়েছে, সে মাটিতে পা দিয়ে তাকে মা বলে ডাকবে!রমা কি করে রাহুলের কথায় রাজী হতে পারে?মা হবার লোভ যে মেয়েরা কোন ছোট্ট বেলা থেকে নিজের অজান্তেই লালন করে!
বাচ্চা হবার মাত্র দুমাস, হঠাৎই রাহুলের চাকরিটা যেতেই মনে মনে রাহুল যে কচি মেয়েটাকেই দোষী মানছে তা ঠারেঠোরে নয় সরাসরিই বলে আর তারপরের এই বিদ্রোহ!
কিন্তু চলে যাও বললেই তো যাওয়া যায় না!আর থানা পুলিশ করে লাভ নেই।রাহুল শুধু দায় নেবে না এছাড়া তো আর কোনো অন‍্যায় ও করেনি যে ওকে পুলিশে দিতে হবে!তাছাড়া কেস করেই বা কি লাভ?টাকা কোথায় পাবে?এ সব বড়লোকী রমার সাজে না।তাছাড়া রাহুল এ কেস লড়বেও না।ও স্পষ্ট বলেছে,
-জেলে যেতে হলে যাবো।কিন্তু দায়িত্ব নেব না।এখন তোমার যদি আমাকে জেলে পাঠিয়ে শান্তি হয় তো তাই পাঠাও!তারপর?একদিন তো বের হব!
প্রচ্ছন্ন হুমকি।রমা নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে।ওদের নিজেদের মাথাগোঁজার ঠাঁইও নেই।অবনীশ রায় লেনের এক ভাড়া বাড়ির একটা মাত্র ঘরে ওদের বড় হওয়।ছোট ভাই ক্লাস নাইন।শিবতলা মাঠের কোণে ওর বাবার চায়ের দোকান আর মা এক বাড়ি রান্নার কাজে।এতে করে ডাল আলুসেদ্ধতে দিন কোনরকমে কাটে।এর মধ্যে ও আবার কোথায় গিয়ে উঠবে?বিড়ম্বনা এতে সবারই বাড়বে বই কমবে না।
তাই সবদিক বিচার করে রমা রাহুলের কাছে থেকেই যায়।কারণ এখানে রাহুলদের নিজেদের বাড়ি!হোক একতলা,দুখানা ঘর,একটা টানা বারান্দা গ্ৰীল ঘেরা।ওখানে দিব‍্যি গোটা দশ ছেলেমেয়ে এঁটে যায়।ওখানেই রমা পড়ায় রোজ দুবেলা।বাড়ি গেলে তো ওটাও বন্ধ।তাছাড়া ঘরে মেয়ে রেখে এখানে দিব‍্যি পড়ানো যাবে।
শাশুড়ি শ্বশুর গ্ৰামের বাড়িতে।রিটায়ার হবার পরপর শহরের অবস্থা দেখে ওখানেই গিয়ে থিতু হয়েছেন।তাই এ বাড়িতে পড়ানোর অনেক সুবিধা এ বাড়ি ছাড়লে সামান্য আয়ের রাস্তাও একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে!
যদিও বিয়ের আগে থেকেই রমা টিউশনি করে।তবে তখন বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে।ওদের তো আর পড়ানোর মত জায়গা ছিল না।এখন বোঝে বাবা ওর বিয়ের ব‍্যবস্থা করেছিল একটা পেট কমানোর জন‍্য।ছেলে ভালো মাইনের চাকুরে।কিন্তু রাহুলকে ভালোবেসে রমা ঘর ছাড়ে!সেটা যে কতবড় ভুল রমা বারবার সেটাই ভাবে।
তবে ওর করারই বা কি ছিল?রাহুল বেকার তাই বাবা ওদের সম্পর্কে রাজী নয় আবার এত দিনের সম্পর্ক মুছে অন‍্য কাউকে বিয়ে করতেও যে মন চায়নি!চাকরির চেষ্টা ওরা দুজনেই করছিল,কিন্তু রমার বাবা অপেক্ষা করতে চায়নি।তাই এক প্রকার বাধ‍্য হয়েই এই।
সব হিসেব রমাকে শেষ পর্যন্ত রাহুলের কাছে থেকে যেতেই বললো।রমা বুঝল হাল ওকেই ধরতে হবে,আর কিছু করার নেই।জোর কদমে টিউশন শুরু করে রমা।ধীরে ধীরে পসার বাড়তে থাকে।রমা যে পড়ায়ও খুব ভালো।এইট,নাইন,টেন,ইলেভেন, টুয়েলভে।সপ্তাহে দুদিন করে শুধু ইতিহাস।কিন্তু তাতেও ওর আয় মন্দ হত না।ধীরে ধীরে অভাব চলে গেল,রোজগার নেহাৎ মন্দ না।তিন জনের সংসার দিব‍্যি চালিয়েও রমা শ্বশুর শাশুড়ি, বাবা মাকেও মাসে দুহাজার করে পাঠাত।
দেশের বাড়িতে রাহুল গিয়ে দিয়ে আসতো আর নিজেদের বাড়িতে রমা।
সকাল বেলা, খুব ভোর থাকতে উঠে রান্না বান্না সেরে পড়াতে বসতো।সকালে এক ব‍্যাচ কারণ মেয়েটা বড় হচ্ছে,ওকে স্কুলে যাবার জন্য তৈরি করে দেওয়া।তারপর সারাদিনে ঘরের বাকি কাজ সারা,মেয়েকে স্কুলে দিয়ে এসে বাদবাকি কাজ সেরে ফের মেয়েকে আনতে যাওয়া।এরপর মেয়েকে বাড়িতে এনেই কোনরকমে ওকে জামাকাপড় ছাড়িয়ে খেতে দিয়েই পর পর পড়ানো।দু ব‍্যাচ,রোজ।
তিতলি মায়ের কাছে আসতে চাইতো,আবার যখন একেবারেই ছোট খিদেতে কাঁদত।তখন রমা নতুন করে ব‍্যাচ পড়ানো শুরু করেছে,রেপুটেশন তৈরি করতে হবে,তাই বাচ্চাকে একটা বোতল হাতে ধরিয়েই ছুটে এসেছে বাইরে।টিভি চালিয়ে দিয়েছেআর তিতলি হাঁ করে গোগ্ৰাসে গিলেছে সিনচ‍্যান,ডোরেমন, নোবিতাদের।ধীরে ধীরে তিতলি পড়াশোনা শুরু করলো ।রমা বাধ‍্য হল তিতলির জন‍্য প্রাইভেট টিউটর রাখতে।কি করবে?ওর মেয়ের জন‍্য দিতে হয় পাঁচশো আর সেই সময়ে এক ব‍্যাচ পড়িয়ে ওর রোজগার পাঁচ হাজার।তাই বাকি সাড়ে চার হাজার লাভের জন‍্য মেয়েকে তো কারো কাছে পড়াতে দিতেই হত!
রাহুলকে অনেক বলেছে,
-তুমি তো মেয়েটার কাছে একটু থাকতে পারো
-থাকা আবার কি?
-বাচ্চা মানুষ, কাঁদে
-আমি তো বলেছি না পোষালে চলে যাও
তখনো রমা ভেবেছে চলে যাবে।কিন্তু কলকাতা শহরে একটু ভদ্র জায়গায় ভাড়া মানেই কম পক্ষে পাঁচ হাজার।তবে তাতেও ব‍্যাচ পড়ানোর জায়গা পাওয়া যাবে না!আবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ালে?মেয়েকে দেখবে কে?মেয়ের জন‍্য লোক রাখতে গেলে তাও চার পাঁচ হাজারের ধাক্কা।তারচেয়ে এখানেই বেশ।অন্তত পড়ানোর জায়গাটা তো পাওয়া যায়।
মাঝে মাঝে রাহুলকে বলেছে
– তুমি একটু যদি সংসারটা ধরতে আমি একটু চাকরির চেষ্টা করতাম।
না রাহুল রাজী হয়নি আর সবদিক বিচার করে রমা রাহুলকে ঘাঁটায়নি।কারন তবু এখানে বেশ রোজগার হয়।চাকরি চাইলেই তাকে এখনি কুড়ি হাজার মাইনের জব কে দেবে? তার মত এই সাধারণ ইতিহাসে গ্ৰ‍্যাজুয়েট রাস্তায় ফ‍্যা ফ‍্যা করে ঘুরে বেড়ায়।তার চেয়ে এই ভালো।মেয়েটাতো
মানুষ হয়ে যাচ্ছে।
রাহুল কোনো দায়িত্ব নেয় না।ওকে দুবেলা খেতে দিলেই শান্তি।সারাদিন নিজের ইচ্ছে মত ঘুরে বেড়ায়।শুধু খাবার সময় বাড়ি।রমা ভাবে, তবু তো বাড়িতে থাকতে পারি।রাহুলের জন‍্য বা বাড়ির পেছনে যাই খরচ হোক,এই বাড়ি এত জায়গা এই শহরে কোথাও পাওয়া যাবে না।আর এর ধারেকাছে যেতে গেলে ভাড়া যা লাগবে তারচেয়ে এখানে রমার খরচ কম।
ধীরে ধীরে বেশ কিছু টাকা জমায় রমা মেয়ের জন্য।ওর জন্য কেউ কিছু করেনি বলে কি ও ওর মেয়েকেও কিছু দেবে না?তিতলির কি দোষ?এই রাহুলকে যদি বিয়ে না করতো তাহলে হয়তো মেয়েটা একটা ভালো বাবা পেত।নিজেকে ভীষণ দোষী মনে হয় রমার।
ছুটির দিন গুলোতে মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে যায়,ভালো সিনেমা আসলে মা মেয়েতে নন্দনে গিয়ে সিনেমা দেখে খাওয়াদাওয়া করে ফিরে আসে।রাহুল ওদের সঙ্গে যেতে চায় না,তিতলি বার কয়েক বলে শুধু মুখ ঝামটা খায়।রমা বোঝে রাহুল খরচ এড়াতে চায় ।ও আর বলে না।এখন ওরা দুজনেই দুজনের বন্ধু, বড় আশ্রয়।খালি মেয়েটা যখন অন‍্য বাচ্চাদের সঙ্গে তাদের বাবাকে দেখে জুলু জুলু চোখে তাকায় রমার নিজেকে অপরাধী মনে হয়।নিজের একটা ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল মেয়েকে দিতে হচ্ছে ভেবে দীর্ঘশ্বাস পড়ে ওর।
মনে পড়ে বাচ্চা মেয়েটা রমার কাছে যেতে গিয়ে ধমক খেয়ে মাথা নিচু করে চলে এসেছে,রমা ব‍্যস্ত পরের ছেলেমেয়ে মানুষ করতে।হয়তো তিতলির কোন প্রশ্ন আটকেছে,রমার শাসন,
-এখন যাও।আমি এদের পড়িয়ে তোমাকে দেখাচ্ছি!
হয়তো খিদে পেয়েছে,মেয়েটা খিদেয় ছটফট করেছে।রাহুল বাইরে,পড়াতে বসে মেয়েকে ম‍্যাগি করে দিতে গেলে ছাত্রছাত্রীরা যদি বাড়িতে গিয়ে বলে
– ম‍্যাডাম পড়াতে বসে রান্না করে।
সব বুঝেও চোখ বড় বড় করেছে তিতলিকে।পরে গিয়ে দেখেছে মেয়ে বিভোর হয়ে টিভিতে দেখছে কার্টুন আর হেসে উঠছে।
একবার তিতলির দাঁত তুলতে গিয়ে রক্ত বন্ধ হচ্ছে না।টানা তিনদিন রক্ত বেড়িয়েছে।তুলো ভিজে গাল বেয়ে রক্ত গড়িয়ে বালিশ ভিজিয়ে দিয়েছে। পড়ানোর পর বারান্দা থেকে ঘরে গিয়ে দেখে তিতলি টিভির দিকে মনযোগ দিয়ে তাকিয়ে আর মুখের সামনে ধরা বাটি লালায় রক্তে মাখামাখি হয়ে প্রায় অর্ধেক ভর্তি।বার বার তুলোর জন‍্য মাকে ডাকতে হবে ভয়ে মেয়ে বুদ্ধি করে বাটিতে ধরেছে রক্ত!
এখন তিতলি বড়।মাকে বড্ড ভালোবাসে ,মায়ের দুঃখ কষ্টের সঙ্গী, মায়ের মাথা যন্ত্রণায় মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়,পড়িয়ে পড়িয়ে মায়ের কোমর ব‍্যথা হয়ে গেলে কোমর ম‍্যাসাজ করে দেয়,মা পড়াতে বসলে মাকে চা করে দেয়।পড়াতে পড়াতে মায়ের গলাটা কেমন ধরে আসে।ওর মা যে ওর জন‍্যেই এত খাটাখাটনি করে এটা তিতলি বোঝে,ওর মায়ের জন‍্য ভীষণ কষ্ট হয়।ও চায় তাড়াতাড়ি আরো বড় হয়ে একটা চাকরি জোগাড় করতে।তখন আর মাকে পড়াতে দেবে না।মায়ের গলা কেমন ফ‍্যাঁসফেসে হয়ে গেছে।ডাক্তার বাবু বলেছেন,”ভয়েস রেষ্ট”,কিন্তু ওর মায়ের কি ভয়েস রেষ্ট দিলে চলে?
মেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে ঘুমন্ত মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে চুমোয় চুমোয় ভড়িয়ে দেয় রমা।সারাদিন রোজগার করতে গিয়ে সেই ছোট্ট থেকে আজ পর্যন্ত যত বার অবহেলা করেছে সে কথা মনে করে কাঁদে, কষ্ট পায়,নিজেকে অপরাধী মনে হয়।ঘুমন্ত মেয়েকে রোজ গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে প্রায় দিন ই কাঁদে।নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে রমা মনে মনে।টুক করে এক আধদিন পায়েও ধরে।এ মেয়েটার স্বাভাবিক শৈশব, মায়ের আদর কেড়ে নেবার জন্য নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হয় যে!
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।