সাতে পাঁচে কবিতায় শর্মিষ্ঠা সেন

১. ভার্টিগো
এক সমুদ্র কান্না জমা ছিল বুকে, বুঝিনি,
স্বপ্নে হাহাকার করে ওঠার আগে পর্যন্ত!
আপাদমস্তক সুখের দোলনায় চেপে মৃদু দোল। হঠাৎ এমন আকাশ ছুঁয়ে ফেলব তো ভাবিনি! নীল রং -এ মন কেমন করে বলে চোখ থাকতো দিগন্ত রেখায়, যেখানে সবুজ নরম ঘাসেরা শহরে গিয়ে মিশেছে।
বাইশ তলায় অক্সিজেন নেই বাঁচার মতো!
২.ব্যক্তিগত
তোমার সব চিঠির ঠিকানা তো আমার ডাক বাক্সের, তাহলে সেদিন লিখতে লিখতে আমায় দেখে লুকিয়ে ফেললে বইএর আড়ালে। মূহুর্তে নগ্নতা ছড়িয়ে গেল শরীরময়। দুহাতে আড়াল করার ব্যর্থ প্রচেষ্টায় চরাচর যেন তারিয়ে তারিয়ে চেটেপুটে গেল আমার অহংকার টুকু! জেনে গেল ভালবাসার উল্টোপিঠে অনেকটা অবহেলাও মেশানো আছে!
৩.শ্রাবণ
তুমুল বৃষ্টিতে সেদিন চুপচুপে ভিজে এলে,
বাড়িয়ে দিয়েছিলাম একটা ভেজা রুমাল, কারণ, অপেক্ষায় আমিও ভিজেছিলাম ততটাই।
তারপর বৃষ্টি থেমেছিলে। ঝলমলে রোদের সাথে এক আকাশ রামধনু উঠেছিল। চা খেতে খেতে তেতো মুখে দেখছিলে আমার প্রসাধনহীন চেহারা, আসলে
তুমি রূপটান পছন্দ কর বলেই আমার এতে অনীহা।
প্রাণপ্রিয় যা কিছু, সে তো নিজগুণেই সুন্দর!