ভৌতিক ছোটগল্পে শম্পা সাহা

শিরোনাম- ও কে?

কলকাতার হরেণ রায় লেনের ঐ ফ্ল্যাট বাড়িতে আমরা ভাড়া গেলাম পুজোর আগে আগে। সালটা 2007 এর অক্টোবর মাস। ঐ ফ্ল্যাটে ভাড়াটে বলতে আমরা, আর আমাদের উপরের তলায় থাকতো বাড়ির মালিক, তার স্ত্রী আর তাদের একমাত্র মেয়ে মলি। সে বছর বাইশের এক টগবগে তরুণী। ঐ বাড়িতে ভাড়া যাবার পর প্রায়ই বাড়িয়ালা কাকু কাকিমার সঙ্গে দেখা হলেও মলিকে আমরা কোনোদিন দেখিনি। কারণ ফ্ল্যাট বাড়ির কালচার অনুযায়ী আমাদের ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধই থাকত, তবে শুনতে পেতাম অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের হৈ হুল্লোড়ের আওয়াজ, বুঝতাম মলি তার বন্ধুদের সঙ্গে এলো বা বের হলো। শুধু একদিন ওকে দেখেছিলাম বের হতে, তাও পেছন দিক থেকে।
আমাদের যাবার দিন পঁচিশেক পরেই আত্মহত্যা করে মলি। কি কারণ স্পষ্ট জানি না, নতুন এ পাড়ায় আসা, এলাকাও নতুন, আর অপরিচিত কারোকে জিজ্ঞাসা করতেও কেমন লাগছিলো। তবে কানাঘুষোয় শুনেছিলাম প্রেমঘটিত কোনো একটা কারণে। মলি মারা গিয়েছিল, দুপুর বেলা, গলায় ওড়না জড়িয়ে। আমরা নিচের তলায় থাকলেও কিছু টের পাইনি।
মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বাড়িয়ালা কাকু কাকিমারা চলে গেলেন বাইরে, মাস তিনেকের জন্য। কারণ ঐ বাড়িতে মেয়ের স্মৃতি তাদের খুব কষ্ট দিচ্ছিল।
ডিসেম্বর মাস, বেশ শীত, তখন প্রায় দুপুর দুটো, আমি স্নান সেরে আমার বেড রুমের পাশ থেকে যেতে গিয়ে দেখলাম যে আমার ঘরে খাটে কে বসে রয়েছে, কিন্তু সে সময় তো বাড়িতে আমি ছাড়া কেউ নেই, কর্তা অফিসে, সাত মাসের মেয়ে তো ঘুমোচ্ছে,তাহলে! চোখের ভুল? না তো, স্পষ্ট দেখলাম, মলি!
আরেক দুপুর বেলা, মেয়ে ঘুমোচ্ছে, সেদিন ও প্রায় দুটো আড়াইটে, স্পষ্ট কান্নার আওয়াজ, আমি আর মেয়ে ছাড়া তো কেউ নেই, তাহলে কাঁদছে কে? মোবাইলে রেকর্ড ও করলাম, কিন্তু কে কাঁদছিল আজ ও জানতে পারি নি। প্রায় দুপুরে কে কাঁদতো, কেই বা আমার ঘরে এসে বসতো? মলি? কিন্তু কেন?
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে, নাম, ঠিকানা পরিবর্তিত)
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।