সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ৩১)

দেবমাল্য
— এমনিতে তো কোনও শত্রু নেই। তবে আমি যেখানে ব্যবসা করি, হাওড়ার কালীবাবুর বাজারের কাছে; সেখানে দুষ্কৃতীদের খুব দাপট। ওরা খুন, রাহাজানি, অপহরণ… সব করতে পারে। ওদের নামে লোকাল থানায় ভুড়ি ভুড়ি কেস রয়েছে। আমার মনে হয় কী জানেন, আমার বউকে ওরাই বোধহয় কিডন্যাপ করেছে…
— আপনার এটা মনে হচ্ছে কেন?
— ওরা আমার কাছে পঁচিশ লাখ টাকা চেয়েছিল।
— কেন?
— আসলে ওখানে তো রোজই ঝুট-ঝামেলা লেগে থাকে। ভীষণ ডিস্টার্বিং এলাকা। আর যা-ই করা যাক, ওখানে ব্যবসা করা খুব মুশকিল। তাই ভাবছিলাম, কারখানাটাকে অন্য কোথাও সিফট করব। সেইমতো তোড়জোড়ও শুরু করেছিলাম। খুব সন্তর্পণে। ভেবেছিলাম, ওরা টেরও পাবে না। কিন্তু ওদের নেটওয়ার্ক যে এত বড়, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি। আমি কাজ শুরু করার আগেই কী করে যেন ওরা সেটা জানতে পেরে গিয়েছিল। তাই কারখানায় এসে হুমকি দিয়ে গিয়েছিল, আমি যদি কারখানাটা অন্য কোথাও তুলে নিয়ে যাই, তা হলে ওদের পঁচিশ লাখ টাকা দিতে হবে।
— কে বলেছিল ?
— মাছ স্বপন।
— আপনি থানায় জানাননি?
— না।
— কেন?
— এমনিই।
— হুম্। মাথা নাড়িয়ে ‘হুম্’ শব্দটা এমনভাবে উচ্চারণ করলেন পুলিশ অফিসারটি, মনে হল, কেন ও পুলিশকে জানায়নি, সেটা উনি বুঝতে পেরেছেন। তার পর টেবিলের ওপরে কাগজ চাপা দেওয়া বড় গোলাকার কাচের পেপারওয়েটটাকে ঘোরাতে ঘোরাতে একটু সময় নিয়ে উনি বললেন, এখন বলুন, আপনি আমার কাছে কী চান?
অতশত না ভেবেই দেবমাল্য বলল, আমার বউকে।
ও সরাসরি এলে হয়তো উনি এত কথা মন দিয়ে শুনতেনই না। আর এ ধরনের উত্তর শুনলে যে কী বলতেন, তা উনি নিজেও জানেন না। কিন্তু ও এসেছে রণোর সঙ্গে। রণোকে উনি খুব ভাল করে চেনেন। খুব পরোপকারী ছেলে। তাই তেমন কিছু বলতে পারলেন না। মুখে হাসি ফুটিয়ে শুধু বললেন, আপনার বউ যদি আমার কাছে থাকত, তা হলে আপনাকে বলতে হত না। আপনি বলার আগেই আমি আপনার বউকে দিয়ে দিতাম।
এত টেনশনের মধ্যেও কথা ক’টা যেন এক ঝলক নির্মল বাতাস বয়ে আনল। তাতে একটু ভরসা পেয়ে দেবমাল্য বলল, দেখুল না, আপনারা তো পুলিশে আছেন, সব পারেন। আমার বউকে যত তাড়াতাড়ি খুঁজে পাওয়া যায় একটু চেষ্টা করে দেখুন না…
গলার স্বর একেবারে পাল্টে সহানুভূতির সঙ্গে পুলিশ অফিসারটি বললেন, আপনি এ ভাবে বলছেন কেন? এটা তো আমাদের ডিউটি। আপনি একটা কাজ করুন, ও ঘরে গিয়ে প্রথমে বউয়ের নামে একটা মিসিং ডায়েরি করুন।
— কী বলব?