সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ২২)

দেবমাল্য

ও ‘ভাল’ বলেই উঠতে যাচ্ছিল। ভদ্রমহিলা বললেন, না না, উঠতে হবে না। এখন একটু বিশ্রাম করো। রণো ওষুধ নিয়ে আসছে।

রণো! রণোটা আবার কে! এই ভদ্রমহিলাকে সে যেমন আগে কোনও দিন দেখেনি, রণোকেও কি দেখেনি! আস্তে আস্তে করে ও বলল, রণো কে?

ভদ্রমহিলা বললেন, রণোকে চেনো না? ও তো আমার ছেলে। ও-ই তো তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।

আমাকে এখানে রণো নিয়ে এসেছে! কিন্তু রণোটা কে? এটা জানার জন্য মন ছটফট করলেও, যে তাকে তার বাড়িতে নিয়ে এসেছে, তার মাকে কি জিজ্ঞেস করা যায়, রণো কে? তাই একটু ঘুরিয়েই সে জানতে চাইল, ও আমাকে কোথায় পেল?

— কেন? ট্রেনের মধ্যে।
— কোন ট্রেনে?

— ও মা, তাও মনে নেই? লালগোলা প্যাসেঞ্জারে।

— ওখানে আপনার ছেলে কী করছিল?

— ও তো তোমাকে খুঁজতেই ট্রেনে উঠেছিল।

আমাকে খুঁজতে! আমি লালগোলা প্যাসেঞ্জারে ছিলাম! ওখানে কী করছিলাম! ঝট ঝট করে মাথার মধ্যে পর পর অনেকগুলো দৃশ্য সরে সরে গেল। ঠিক তখনই ঘরে ঢুকল সেই ড্রাইভার। যে তাকে ভোররাতে হোটেল থেকে স্টেশনে নিয়ে গিয়েছিল।

সে ঢুকতেই ওই ভদ্রমহিলা বললেন, ওই তো রণো এসে গেছে।

ও মনে মনে বলল, ও, এরই নাম তা হলে রণো! ফের উঠতে যাচ্ছিল দেবমাল্য, রণোই বলল, একদম না, একদম না, ডাক্তার আপনাকে রেস্ট নিতে বলেছেন।

— ডাক্তার!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।