সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ৩৮)

দেবমাল্য
লোকটা বলল, নেই। ‘নেই’ শুনেই দেবমাল্যর দিকে তাকিয়ে ইশারা করল রাজীব। যেন বলতে চাইল, হিসেব মিলে গেছে। দুয়ে দুয়ে চার। তার মানে সামশের এখন আপনার বউয়ের সঙ্গেই আছে। তার পর রিসিভারে মুখ রেখে জিজ্ঞেস করল, কাল ওর বউদিকে ট্রেনে তুলে দিয়ে ও আর ফেরেনি, না?
ও প্রান্ত থেকে ভেসে এল, কেন ফিরবে না? আপনি কে বলছেন?
রাজীব বলল, আপনি আমাকে চিনবেন না। আমার নাম রাজীব ঘোষ। আমি দেবমাল্যর বন্ধু।
— ও, আপনি ছোটবাবুর বন্ধু? কিন্তু ছোটবাবু তো এখানে নেই। দৌলতাবাদের গেছেন।
— জানি। উনি আমার সামনেই বসে আছেন।
— তা হলে ছোটবাবুর কাছ থেকে সামশেরের নম্বরটা নিয়ে ওকে মোবাইলে ফোন করে নিন না… না হলে ঘণ্টাখানেক পরে করুন।
— ঘণ্টাখানেক পরে মানে? ও কি ওখানে নাকি?
— হ্যাঁ, এই তো বেরোল।
— কোথায় গেছে?
— তাগাদায়। দশ মিনিট আগে করলেও পেয়ে যেতেন।
আরও কী কী বলতে যাচ্ছিল লোকটা, কিন্তু আর কথা বাড়াল না রাজীব। লাইনটা কেটে দিয়ে দেবমাল্যর দিকে তাকাল। একটুক্ষণ কী চিন্তা করে বলল, আপনি বোধহয় ভুল দেখেছেন। কারণ, আপনার বউয়ের সঙ্গে আপনি যাকে সাইকেল রিকশায় করে যেতে দেখেছেন বলছেন, সে তো ওখানে। এত কম সময়ের মধ্যে তার পক্ষে নিশ্চয়ই বহরমপুর থেকে হাওড়ায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। কী বলেন? তার তো হেলিকপ্টার নেই…
রাজীবের কথা শুনে একদম থ’ হয়ে গেল দেবমাল্য। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল তার মুখের দিকে।