সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ৪০)

কেমিক্যাল বিভ্রাট

তা হলে কি ওর স্কুল ছুটি! নাকি ও স্কুলেই যায়নি! নাকি কোনও কারণে স্কুলবাস আসছে না! সার্ভিসে গেছে। হয়তো অন্য কিছু করে যাতায়াত করছে। কত কিছুই হতে পারে। সে হোক। আরে বাবা, ও যাতে করেই আসুক, সে তো গলির মুখেই দাঁড়িয়ে আছে, নাকি! তার চোখ এড়িয়ে ও যাবে কী করে! নাকি ওর শরীর খারাপ! স্কুলেই যাচ্ছে না!
ও যখন স্কুলে যায়, সে সময় দেখতে পারলে হত, ও স্কুলে যাচ্ছে কি না। না, তখন চিঠি দেওয়া ঠিক হবে না ঠিকই, তবু জানা তো যেত… কিন্তু ওর পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। কারণ, তখন ওর বাবা ল্যাবরেটরিতে চলে গেলেও, মা তো বাড়িতে থাকেন! মায়ের সামনে কি বিনা কারণে বেরোনো যায়! জিজ্ঞেস করলে কী বলবে! তাই তার পর দিন আর ওই ভাবে নয়, শেষ চেষ্টা হিসেবে গলির মুখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অভিমন্যু দেখতে লাগল, ওদের গলির সামনে দিয়ে যাতায়াত করা প্রত্যেকটা গাড়িকে। বিশেষ করে নজর রাখতে লাগল ওদের স্কুলের হলুদ রঙের লাক্সারি বড় বাসটা যায় কি না…
হ্যাঁ, ওই তো… হঠাৎ ওর চোখে পড়ে গেল ওদের স্কুলবাসটা। হ্যাঁ, ওই তো, এ দিকেই আসছে। কিন্তু না, ওটা তাদের গলির সামনে এসে দাঁড়াল না। যে ভাবে আসছিল, সে ভাবেই চলে গেল। প্রতিদিন ওকে নামিয়ে দিয়ে যে দিকে যায়, সেই দিকে।
অভিমন্যুর মন ভেঙে গেল। নাঃ, আজও চিঠিটা ওকে দেওয়া হল না! বাড়ি ফিরে আবার চিঠিটা নিয়ে বসল। এই তিন দিন ধরে একই ভাবে পকেটে ঘুরতে ঘুরতে চিঠিটা কেমন যেন ময়লা ময়লা হয়ে গেছে। একটু তুবড়ে-তাবড়ে গেছে মনে হচ্ছে। এত নরম হয়ে গেছে যে, ঝটপট খুলতে গেলে ভাঁজ থেকে হয়তো ছিঁড়েও যেতে পারে। তাই আবার নতুন করে চিঠিটা কপি করতে বসল সে। কপি করতে গিয়ে বদলে গেল অনেক শব্দ। অনেক লাইন। অনেক কথার মানেও।
নাঃ, আর পাড়ার মুখে গিয়ে দাঁড়ানো যাবে না। রোজ রোজ দাঁড়ালে লোকে সন্দেহ করতে পারে। যদিও তাদের পা়ড়ার কেউই কারও কোনও ব্যাপারে থাকে না। আগ বাড়িয়ে কোনও কিছুতে নাকও গলায় না। তবুও… কার মনে কী আছে, কিছু তো বলা যায় না। যেমন গত কাল ও যখন দাঁড়িয়ে ছিল, তখন তাকে দেখে ফেলেছিল লালিদি। তাকে ওই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গলির ভেতরে ঢুকেও বারবার ফিরে ফিরে তাকে দেখছিল। ডান দিকে বাঁক নেওয়ার সময় এক মুহূর্তের জন্য যেন দাঁড়িয়েও পড়েছিল। হয়তো ভেবেছিল, যে ছেলেটা কোনও দিন ওই ভাবে দাঁড়ায় না, আজ হঠাৎ সে দাঁড়িয়ে আছে কেন!
লোকে বলে, লালিদি নাকি সব ব্যাপারেই কানাঘুষো করে। এর কথা তার কাছে, তার কথা ওর কাছে লাগায়। তিলকে তাল করে ছাড়ে। এই নিয়ে অশান্তিও হয়। তবু তার স্বভাব যায় না। অবশ্য ফিরে ফিরে দেখছিল মানে যে তাকেই দেখছিল, সেটা নাও হতে পারে। আসলে তার নিজের মনের মধ্যেই ‘কেউ তাকে দেখে ফেলতে পারে’, ভয় আছে বলেই হয়তো তার এই সব মনে হচ্ছে!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।