|| ১ বর্ষ পুর্তি || স্বর্ভানু সান্যাল (সাহিত্য Megh) [প্রবাস]
সকল বৃক্ষই এক সময় বীজ অবস্থায় ছিল। সকল সৃষ্টিই কখনো না কখনো একটি চিন্তার আকারে ছিল। সকল ব্রহ্মাণ্ডেরই একটা বিগ ব্যাং মুহূর্ত থাকে যখন সে অব্যক্ত থেকে ব্যক্ত হয়, ব্যপ্ত হয়, অরূপ থেকে রূপায়িত হয়। টেকটাচটকও এমনই একদিন কয়েকজন অক্ষরকর্মীর ভাবনার আকারে ছিল। সেইসব সাহিত্যপ্রেমী এবং সুলেখক/সুলেখিকাদের উদ্যোগে, উদ্দীপনায় ও সদিচ্ছায় আজ পত্রিকাটি বাংলার সাহিত্যমহলে একটি পরিচিত নাম। আজ টেকটাচটক তার জীবনের চলার পথে এক বছর পূর্ণ করল। তাকে জন্মদিনের শুভেচছা।
জন্মদিন সততই স্মৃতির সরণী ধরে পেছনে ফিরে তাকানোর দিন। যারা প্রথম থেকে এই পত্রিকার সাথে যুক্ত তারা হয়তো শুরুর সেই বিগ ব্যাং মুহূর্তের কথা লিখতে পারবে। আমি বলতে পারি আমার কথা। কবি প্রাপ্তি সেনগুপ্তর সাথে আলাপ সামাজিক মাধ্যমে। তাঁর কাব্যগ্রন্থ সংগ্রহ করার সুযোগ হয় আমার ২০১৯-এর বইমেলায়। তার কিছুদিন পরেই উনি আমায় প্রবাসীদের পাতা সম্পাদনা করার অনুরোধ করেন। সাহিত্য মেঘ নামটিও ওনার দেওয়া। আমি প্রথমে ইতস্তত করি কারণ আমার কোনো পত্রিকার সম্পাদক হওয়ার যোগ্যতা আছে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। কিন্তু শেষমেশ রাজি হয়ে যাই এই ভেবে যে পৃথিবীর সকল পাঠশালাতেই একটা সহজ পাঠ থাকে। আর সে পাঠ গ্রহণ করতে আমি উৎসুক থাকি এবং থাকব জীবনের প্রায় সব অধ্যায়েই। আর প্রবাসে থাকা সাহিত্যশিল্পীদের এরকম একটা প্লাটফর্ম দেওয়ার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাতে হয় বই কি! “তোমার পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শকতি” বলে নেমে পড়েছিলাম।
টেকটাচটক-এর এক বছরের জন্মদিনে এই কামনা করি যে এই সাহিত্য পোর্টাল-এর সাহায্যে উন্নত সাহিত্য সৃষ্টি হোক, এই পত্রিকার দ্বারা বাঙালি সৃষ্টি করুক নিজের মনন ও মানসীকে। সাহিত্য সে সকল ভাষাতেই সঙ্গীতের মতই জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভৌগোলিক সীমারেখার ঊর্ধে। সাহিত্য মানুষের নিভৃত মুহূর্তের রাখালিয়া সুর, বিপন্ন বিভাবরীর কোজাগরী, আনন্দবাসরের পেয়ালার ঠুংঠাং আর বিপ্লবের বারুদ। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুদায়িত্ব সুস্থভাবে পালন করার অঙ্গীকার নিয়ে টেকটাচটক তার পথ চলতে থাকুক এবং পাঠকের আশীর্বাদে তার শ্রী ও মান বৃদ্ধি পাক এই কামনা করি।