সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ২০)

কেমিক্যাল বিভ্রাট
বহু দিন ধরে চুরি করছে সে। এ রকম লোক জীবনে দেখেনি। বুঝতে পারল, ইনি আর পাঁচ জনের মতো নন। চুপিচুপি এ ঘরে ঢুকে পড়ল সে।
ভেতরে ঢুকতেই উনি লাইট নিবিয়ে দিলেন। বললেন, লাইট জ্বললে ওরা সন্দেহ করতে পারে। ফলে নাইট ল্যাম্পের আবছা আলোয় আমরা কথা বলতে লাগলাম। উনি বললেন, এত রাতে কেউ বেরোয়?
আমি বললাম, কী করব বাবু…
— খেয়েদেয়ে বেরিয়েছিলি?
— না, কখন খাব?
— দাঁড়া, এখানে বস। আমি আসছি। বলে, ভেতর থেকে বড় একটা প্লেটে করে একগাদা খাবার নিয়ে এলেন তিনি। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী করিস?
আমি বললাম, চুরি করি।
উনি বললেন, চুরি করা যে খারাপ, সেটা জানিস?
বললাম, খুব ভাল করেই জানি। আর সেটা জানি দেখেই তো রাত্রিবেলায় বেরোই। না-হলে তো দিনের বেলাতেই চুরি করতাম।
উনি জানতে চাইলেন, বাড়িতে কে কে আছে?
বললাম, মা, বউ, ছেলে আর একটা মেয়ে
শুনে তিনি খুব বকাঝকা করলেন। বললেন, তুই যে চুরি করতে বেরোস, ওরা জানে?
বললাম, আগে কেউ জানত না। কিন্তু প্রথম যে দিন ধরা পড়লাম, গণধোলাই খেয়ে বাড়ি ফিরলাম। কে মেরেছে, কেন মেরেছে, রাস্তায় মারলেও কেউ কেন আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি, এ সব প্রশ্নের যথাসম্ভব বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দেওয়ারও চেষ্টা করলাম, তাতে আমি কেন মার খেয়েছি, সেটা বুঝতে না-পারলেও, মা আর বউ নিশ্চয়ই কিছু একটা সন্দেহ করেছিল। কিন্তু তার কয়েক মাস পরেই যখন চুরির দায়ে আমাকে পুলিশে ধরল, তখন আর কোনও অজুহাত টিকল না। ধরা পড়ে গেলাম।
উনি বললেন, আজ যে চুরি করতে বেরিয়েছিস, ওরা জানে?
আমি বললাম, না। ওরা জানে আমি নাইট গার্ডের একটা চাকরি পেয়েছি। সেই কাজে বেরিয়েছি।
ওনার সঙ্গে কথা বলতে বলতে কখন যে ভোর হয়ে গেছে জানি না। ভোরের তেরচা আলো জানালা দিয়ে আসতেই উনি বললেন, এ কী রে, তোর তো হাত ছড়ে গেছে। রক্ত বেরোচ্ছে।
আমি বললাম, ও কিছু না। এ রকম কত হয়।
উনি বললেন, কত হয় মানে? না না, আমার বাড়িতে এ সব চলবে না। দাঁড়া, বলে উনি ভেতরে গিয়ে ডেটল, তুলো আর গজ নিয়ে এলেন। কিন্তু ডেটল দেখেই আমি আঁতকে উঠলাম।
উনি জিজ্ঞেস করলেন, কী হল?