সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ৩০)

কেমিক্যাল বিভ্রাট
কিন্তু না, তিনি কোনও ম্যাসেজ তো পড়েনই না। কাউকে রিং ব্যাকও করেন না। কারণ উনি কারও নম্বরই সেভ করে রাখেন না। এমনকী জবালার নম্বরটাও সেভ করা নেই। উনি মনে করেন, ফোন ধরতে পারিনি তো কী হয়েছে, দরকার তো আমার নয়, যাঁর দরকার হবে, প্রয়োজন হলে তিনি আবার করবেন। যদি একশো বারও না ধরি উনি একশো একবার করবেন।
দরকার ছাড়া এমনিতে খুব একটা কথা হয় না স্বামী-স্ত্রীতে। কিন্তু এই ফোন করা নিয়ে ঔপমানবের সঙ্গে জবালার একদিন কথাও হয়েছিল। কারণ তাঁর ছেলেও নাকি একদম বাবার মতো। হুবহু জেরক্স কপি। মুখের সামনে এগিয়ে না দিলে কিচ্ছু খায় না। তাই ছেলে স্কুল থেকে ফিরলে যাতে ফ্রিজ থেকে বার করে পুডিংটা খেয়ে নেওয়ার কথা ছেলেকে মনে করে তিনি বলে দেন, সেটা ঔপমানবকে বলার জন্য বারবার ল্যান্ড ফোনে ফোন করে ছিলেন জবালা। কিন্তু অত বার ফোন করেও উনি যখন ঔপমানবকে পেলেন না, তখন তাঁর মোবাইলে ফোন করেছিলেন। একবার নয়, দু’বার নয়, আট-ন’বার। কিন্তু উনি ফোন ধরলে তো…
ফোনের আওয়াজ তিনি না-ই শুনতে পারেন, কিন্তু ফোন করতে গেলেই তো দেখতে পাওয়ার কথা, কে ফোন করেছিল। আর সারা দিনে উনি কাউকে ফোন করেননি, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
জবালা অভিমান করে বলেছিলেন, রাস্তাঘাটে আমার যদি কোনও বিপদ-আপদ ঘটে কিংবা ছেলেরই যদি কিছু হয়, আমি যদি তোমাকে সেটা জানানোর জন্য বারবার ফোন করি, তুমি তো সেটাও ধরবে না?
— আরে বাবা, আমি খেয়াল করিনি।
— কিছুই খেয়াল করবে না? আমি মরে পড়ে থাকলেও খেয়াল করবে না, আমি মরে গেছি না বেঁচে আছি?
— বাজে কথা বোলো না।
— ও, আমি যা বলি, সবই বাজে কথা, না? আর তুমি যা বলো সবই কাজের কথা?
চলবে