ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজ আমেরিকার ডায়েরি || সুব্রত সরকার – ১০

আমেরিকার ডায়েরি- ১০
।। সাউথ ক্যারোলাইনার দিনরাত্রিগুলো ।।
(১৯ অগাস্ট সোমবার – ২৮ অগাস্ট বুধবার)
সাউথ ক্যারোলাইনায় এই পর্বে টানা এগারো দিন থাকব ডুলুং এর কাছে। তারপর আবার দশ দিন আমেরিকার নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়ে ফিরে আসব সাউথ ক্যারোলাইনায়। তখন আবার পাঁচ রাত্রি যাপন করে ফিরে যাব একদম আমার স্বদেশে। আমার প্রিয় শহরে। শেষ হবে ৪২ দিনের আমেরিকা ভ্রমণ! বলব গুডবাই আমেরিকা!..
গতকালই এসেছি সাউথ ক্যারোলাইনায় টানা ১৩ দিন আমেরিকার অনেক বড় বড় শহর, জনপদ দেখতে দেখতে। শুরু করেছিলাম নিউইয়র্ক- ম্যানহাটন থেকে। তারপর একে একে সিরাকিউজ, নায়াগ্রা, বস্টন, ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড- বল্টিমোর হয়ে সাউথ ক্যারোলাইনায়।
আজ সাউথ ক্যারোলাইনায় আমার দ্বিতীয় দিন। আজ কোথাও ভ্রমণ নয়। আজ রোমন্থন। আজ বিশ্রাম। আজ শুধুই স্মৃতিযাপন। মাথার মধ্যে কত স্মৃতি। এই তেরো দিন শুধুই ছুটে বেড়িয়েছি। সেই সব বেড়ানোর স্মৃতি নিয়ে আজ একলা ঘরে একা একা ফিরে হবে দেখা।
ডুলুং প্রথম দিনের ক্লাস করতে চলে গেল কলেজে। ওর রুমমেট কোয়েলও চলে গেল। বাড়ি ফাঁকা। আমি একা। আমেরিকায় এসে এই প্রথম এমন একা হয়ে গেলাম! একা মানেই বোকা!.. এমন অনুভব আমার হয় না! বরং আমি একলা থাকাকে উদযাপন করতে শিখেছি। একদিন হঠাৎই যখন জীবন আমার পাল্টে গিয়েছিল, তারপর থেকে ধীরে ধীরে শিখেছি একলা বাঁচতে। একলা পথ চলতে!..”জীবনের অনেকটা পথ একেলাই ফেলে এসেছি…” পরিণত বার্ধ্যক্যে পৌঁছে হয়তো এই গান গুণ গুণ করে গাইব।
ওরা চলে গেছে কলেজে। ফিরবে বিকেলে।আমি নির্জন ঘরে আমার মত করে গুছিয়ে নিলাম কাজগুলো। একটু বিশ্রামও হলো। সারাদিন শুয়ে, বসে, বই পড়ে, গান শুনে আর স্মৃতির সাথে সখ্যতা করে কেটে গেল। তার মধ্যেই কিছুটা লিখলাম আমেরিকার ডায়েরি। এ এক চলমান ভাষ্যরচনা। কতকিছু দেখছি, শুনছি, সব কি আর লিখতে পারছি!..
ঘরের টুকিটাকি কাজও করে ঘরটা গুছিয়ে রেখেছি। রান্না করেছি। আজ রেঁধেছি ভাত, আলু ব্রোকোলির তরকারি ও মাছের ঝোল। এখানকার তেলাপিয়া মাছের ফিলে দিয়ে মাছের ঝোল। এই প্রথম দেখলাম এমন প্যাকেটে ভরা তেলাপিয়া। কি সুন্দর ফ্রেশ! এতটকু কাঁটার আবর্জনা নেই। আমেরিকা যে তেলাপিয়াকে এত মর্যাদা দিয়েছে দেখে বেশ অবাক লাগল। আমরা তো জানি, তেলাপিয়া হলো একটু কমা জাতের মাছ! এলেবেলেরা খায়। সাবঅল্টার্ণ জনতা পছন্দ করে! ওর কোনও স্ট্যাটাস নেই। কিন্তু আমেরিকা ওকে ওয়ালমার্টে রেখে বিক্রি করছে!.. তেলাপিয়া জিন্দাবাদ!..
রান্না করেছি বললে কেমন যেন স্পর্ধার মত শোনায়! আসলে ভজহরি মান্নার মত চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডুলুং এর মুখে শুনলাম, “ভালোই তো হয়েছে।…”
যাক্ খাওয়া তো গেছে!..রান্না আমার কোনওদিনই করতে ভালো লাগে না। বরং সব কিছু কেটেকুটে ধুয়ে মুছে রেডি করে দিতে ভালো পারি। এখানে এসে অনেকদিন পর রান্না করলাম। “এভাবেও ফিরে আসা যায়!..” চন্দ্রবিন্দুর গানে আছে এই লাইনটা। আমি কিন্তু সেভাবে রান্নায় ফিরে আসি নি। চাইও না। এ নিছকই হাতা খুন্তি নাড়া!..
তৃতীয়দিন কলেজ যাওয়ার আগে ডুলুং বলল, “আজ ক্লাস করে তাড়াতাড়ি ফিরে আসব। বিকেলে তোমাকে নিয়ে যাব আমার ইউনিভার্সিটিতে।”
সিরাকিউজে সোহমের ইউনিভার্সিটি দেখেছি। খুব ভালো লেগেছে। কি সুন্দর ওদের ক্যাম্পাস। অপূর্ব সব বিল্ডিং। আজ ডুলুং এর ইউনিভার্সিটি দেখতে যাব এই আনন্দে একদম তৈরী হয়েই থাকলাম।
ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যারোলাইনার বাসে করেই চলে গেলাম ওদের হর্সশু গেটে। SAGA থেকে দশ মিনিট লাগল। বাসে স্টুডেন্টদের ফ্রি। অন্যদের টিকিট লাগে। ডুলুং বলল গাড়ির চালককে, “মাই ড্যাড ইজ ভিজিটিং মি। ক্যান হি অলসো রাইড উইথ মি ..?”চালক ছিলেন একজন আফ্রিকান-আমেরিকান মহিলা। সুন্দর হেসে বললেন, “ওকে, ওয়েলকাম।” কিন্তু টিকিট নিলেন না!..ডুলুংকে হেসে বললাম,” মনে হয় আমার আমেরিকার ডায়েরিগুলো উনি পড়ছেন, তাই কনসিডার করে দিলেন খুশি হয়ে!..”
University of South Carolina য় প্রবেশ করলাম। হর্সশুর গেট দিয়ে ঢুকেই সবুজের সমারোহে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। কি স্নিগ্ধ, সবুজ সুন্দর চারপাশ। এতটুকু বেমানান কোনও কিছু নজরে পড়ল না। সবটাই যেন ভালোবাসা আর যত্ন দিয়ে মোড়া। একটু একটু করে এগিয়ে গেলাম। ডুলুং একে একে নিয়ে যাচ্ছে সব বিল্ডিংগুলোর কাছে। ওর ডিপার্টমেন্ট একটু দূরে। ওদিকেও যাব।
এই ইউনিভার্সিটির জন্ম ২০০ বছর আগে। বর্তমানে এটি একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি। দেশ বিদেশের বহু ছাত্র ছাত্রীরা পড়তে আসে। রিসার্চ করে।
ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের মধ্যে একে একে দেখলাম Rutledge College , McKissick Museum, Davis College, Thomas Cooper Library। প্রত্যেকটা বিল্ডিং এর পরিচয় একটু একটু জানলাম। তারপর গেলাম ডুলুং এর ডিপার্টমেন্টের Humanities Classroom Building-এ। বিরাট বিল্ডিং। এখানে আর্টস গ্রুপের সব সাবজেক্টের ক্লাস হয়। রিসার্চ ওয়ার্ক হয়। এলিভেটরে করে তিনতলায় গেলাম। ডুলুং এর ক্লাসরুম দেখলাম। এর পাশেই রয়েছে J Welsh Humanities Building। এখানে ওর নিজের একটা shared office space আছে সেটাও দেখলাম। পি এইচ ডির স্টুডেন্টরা এরকম একটা করে রুম পায়। সোহমেরও এমন shared office আছে দেখেছি কারণ গ্রাজুয়েটের ছাত্র ছাত্রীরা, যাদের ওরা পড়ায় তারা এসে দেখা করতে পারে। কথা বলার সুযোগ পায়। সব কিছুই এত পরিচ্ছন্ন, ঠিকঠাক যে ভালো লাগবেই। আনন্দও হচ্ছিল কত সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করছে, পড়াচ্ছে- বাবা হিসেবে এসব নিজের চোখে দেখে মনের মধ্যে ভালো লাগা তৈরী হয় বৈকি। সব জায়গায় এমনই তো হওয়া উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এরকম হলেই তো শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা দান দুটোই সুন্দর হয়।
আমাদের দেশের কথা মনে পড়ে যায় এসব দেখলে, আমরা সত্যি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় অযত্নে, বড় অবহেলায় অসুন্দর করে রাখি। তার ওপর আছে কদর্য রাজনীতি। তাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এমন পরিবেশ নেই। সেগুলো গৌরবময় না হয়ে রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হয়ে রয়েছে সেই কবে থেকে!..
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাট ক্যাম্পাস। প্রচুর গাছপালা চারদিকে। ম্যাগনোলিয়া ফুলের গাছ অনেক দেখলাম। পার্কিং জোন আছে অনেকগুলো। কত রকমের ফুল হাসছে বাগানজুড়ে। ক্যাফে আছে অনেক। ছাত্র ছাত্রীরা এই বিল্ডিং থেকে ঐ বিল্ডিং দৌড়ে দৌড়ে গিয়ে ক্লাস করছে। বিশাল বড় একটা দোকান দেখলাম- এখানে ইউনিভার্সিটির লোগো দেওয়া হরেক জিনিস বিক্রি হচ্ছে। ছাত্র ছাত্রীরা ভিড় করে কিনছে।
এবার আমরা এক ঐতিহাসিক পাথুরে মূর্তির সামনে এসে দাঁড়ালাম। তিনজনকে নিয়ে গ্রানাইট পাথরে খোদাই করা ভাস্কর্য। তার নিচে লেখা – DESEREGATION AT THE UNIVERSITY OF SOUTH CAROLINA, September 11, 1963। মূল ঘটনাটা হল আমেরিকান ইতিহাসে সাদা ও কালো আমেরিকানদের দ্বন্দ্ব ও বিভেদ। এই ইউনিভার্সিটিতে ১৯৬৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে এই দুই মানুষের বিভেদ আর ছিল না। সাদা ও কালো একসাথে বসে পড়াশোনা করার অধিকার অর্জন করেছিল।
School Of Journalism And Mass Communications বিল্ডিং দেখলাম। তার পাশেই রয়েছে ইউনিভার্সিটির নিজস্ব থিয়েটার হল- LONGSTREET THEATRE । এই থিয়েটার বিল্ডিং এর স্থাপত্য বড় অপূর্ব।
ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যারোলাইনা যেন একটা শহর জুড়ে। কত তার বিল্ডিং। এক একটা ডিপার্টমেন্ট এক একদিকে ছড়ানো। সব ঘুরে ঘুরে দেখা সম্ভব নয় একবেলায়। আজ অনেকটা দেখলাম। ভালো লাগল খুব। সন্ধের মুখে হাঁটতে হাঁটতে ফিরে এলাম সাগা অ্যাপার্টমেন্টে।
ফিরে এসে একটু রেস্ট নিয়ে কফি খেয়ে রাতের রান্নার আয়োজন শুরু করলাম। আজ হবে ভাত, ডাল, বেগুন ভাজা ও SALMON ( সামন) মাছের ঝোল। এই মাছ কোনওদিন রান্না করি নি। একবার ডুলুংকে বললাম, “মাছ নয় ভাজা করি। ডাল দিয়ে খেয়ে নেব।”
ডুলুং বলল, “দু’ পিস নয় রাখো ভাজা মাছ। বাকি পিসগুলো ঝোল করো।” আমি তো বেকায়দায় পড়ে গেলাম। ও রেসিপি বলল। আমি জয় মা বলে সামন মাছের ঝোল রেঁধে ফেললাম।
নিজের ঘোল কি আর কেউ টক বলে!.. সত্যি বলছি, ভালোই হলো মাছের ঝোল রান্না । খুব আনন্দ করে বাপ বেটি মাছ ভাজা ও ঝোল দিয়ে পেট পুরে ভাত খেলাম। মাছটা কি সুস্বাদু। মনে হচ্ছিল শুধু মাছ ভাজাই যেন যথেষ্ট।
রাতের খাওয়া শেষ করে সব গুছিয়ে এসে বসলাম। দাঁত ব্রাশ করে ওষুধ খেলাম। তারপর একটু মোবাইল খুলে দেখি অনেক সুপ্রভাত মেসেজ এসে জমা হয়েছে। কলকাতায় এখন প্রভাত। আমেরিকায় রাত্রি। একই বিশ্বে দুই মেরুর কত তফাৎ! তফাৎ কি শুধু সময়ের! খাদ্য, সংস্কৃতি, যাপন – সবই কত আলদা। এই আলাদা টাইমজোনে বসে নিজেকে মানিয়ে গুছিয়ে নিয়ে মেয়ের সংসারে ভালোই কাটিয়ে দিচ্ছি দিবস রজনী!
আমরা কখনো কখনো ধৈর্য হারিয়ে বলি, “বাবার হোটেল খাচ্ছো তো কিছু বুঝতে পারো না..”, আমি এখন “মেয়ের হোটেলে” খাচ্ছি!.. কি মজা!…
শুভরাত্রি!…
চতুর্থ দিন বিকেলে ডুলুং কলেজ থেকে ফিরে আমাকে নিয়ে গেল সাউথ ক্যারোলাইনার Congaree National Park দেখাতে। শহর থেকে বেশী দূরে নয়। তিরিশ চল্লিশ মিনিটের পথ। উবের ডেকে আমরা চললাম।
কয়েক মাইল যাওয়ার পর শহরের চেনা ছবি হারিয়ে গেল। শুরু হলো প্রকৃতির রাজত্ব। এ যেন এক সবুজ সরণী বেয়ে জঙ্গলের পথে অরণ্য অভিযান। কি অপরূপ নির্জন, নিসর্গময় এক পথ দিয়ে এই জঙ্গলে পৌঁছে গেলাম।
Congaree National Park নর্থ আমেরিকার এক অন্যতম প্রাচীন ঘন গভীর জঙ্গল। প্রায় সাতাশ হাজার একর জায়গা জুড়ে এই জাতীয় উদ্যান। এই জঙ্গলে অনেক শতাব্দী প্রাচীন গাছ সারিবদ্ধ হয়ে আকাশমুখী উচ্চতায় দাঁড়িয়ে আছে। পাইন গাছের ঘন জঙ্গলে কোঙ্গারিকে বড় অপূর্ব লাগে। কেমন ধূপছায়া আলো অন্ধকারে কোঙ্গারিকে বেশ রোমাঞ্চকরও মনে হয়। এই বহু শতাব্দী প্রাচীন গাছগুলো আমেরিকার অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। ওরা যুদ্ধ দেখেছে। দাসত্ব, স্বাধীনতা এবং অনেক ধ্বংসেরও নীরব দর্শক। এই গভীর জঙ্গলে দেখা যায় এই সব গাছগুলো- American beech, Sweetgum, Swamp chestnut oak, American holly, Water tupelo,Dwarf Palmetto, Loblolly pine, Bald Cypress।
এই জঙ্গলে পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ানো দারুণ মজা। ভয়ংকর কোনও বন্যপ্রাণী নেই। আছে কাঠবিড়ালি, শিয়াল, পেঁচা, সবুজ ব্যাঙ, পাঁচ রঙা গিরগিটি, প্রজাপতি, ফড়িং, কাঠঠোকরা, হরিণ, কেন্নো ও ছোট ছোট হলদে-সাদা পাখি। তাই এখানে কোন জিপ সাফারি হয় না। যা হয় সেগুলোকে বলে ট্রেইল, হাইকিং, বোটিং, কায়াকিং।
এই ট্রেইলগুলো হলো- Longleaf Trail, BatesFerry Trail, Bluff Trail, Sims Trail, Weston Lake Trail, River Trail, Oakridge Trail, Kingsnake Trail, Fork Swamp Trail। এছাড়াও করা যায় Hiking in the Congaree Wilderness। সবই মোটামুটি দুই থেকে আট – দশ মাইলের মধ্যে। ফলে হাতে সময় নিয়ে এই ট্রেইলগুলো করলে কোঙ্গারিকে দারুণ ভাবে আবিষ্কার করা যায়।
Self Guided Boardwalk Tour তো ভীষণ মজার। আমি আর ডুলুং এটাই করলাম। কারণ কলেজ থেকে ফিরে এখানে আসতে আসতে বিকেল হয়ে গেছে। যদিও সন্ধ্যা নামে এখানে অনেক পরে। দিনের আলো থাকে। কিন্তু কোঙ্গারি শহর থেকে একদম বিচ্ছিন্ন নির্জন এক জায়গায় অবস্থিত। আমাদের নিজেদের গাড়ি নেই। উবের ডেকে ফিরতে হবে। তাই আমরা শুধুই Boardwalk Tour করেছি। HARRY HAMPTON VISITOR CENTRE থেকে শুরু হয়েছে এই Boardwalk এবং Bluff Trails।
Harry Hampton ছিলেন পেশায় সাংবাদিক এবং এই জঙ্গলের একজন সেবক। তাঁরই প্রচেষ্ঠায় কোঙ্গারি জঙ্গল জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা লাভ করেছে।
ডুলুং এই ন্যাশনাল পার্কে আগে একবার সোহমকে নিয়ে এসেছিল। তাই ওর কিছুটা চেনা আছে এই Boardwalk এর পথ। সেই চেনা পথ ধরেই জঙ্গলের গভীরে অনেকটা হাঁটলাম। জঙ্গলকে দেখলাম। অনুভব করলাম জঙ্গলের সান্নিধ্য। বুক ভরে নিলাম সবুজ বাতাস। আহ্ কি শুদ্ধ সতেজ মনে হল! জঙ্গলের অনেকটা গভীরে যাওয়ার পর খুব ছোট ছোট পোকা ও মশা আমাদের কামড়াতে শুরু করল। এটা খুব বিরক্তির ও ভয়ের মনে হলো। গভীর জঙ্গলের মশাকে ভয় পাই। আমাদের দেশে তো এই সব মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়। গতবছর সারান্ডার জঙ্গলে বেড়াতে গিয়ে এমন পোকা ও মশা পেয়েছিলাম। খুব সাবধানে ঘুরে ফিরে এসেছিলাম। তাই আর বেশী গভীরে না গিয়ে ফিরে এলাম চেনা পথ ধরে।
কোঙ্গারির বন- জঙ্গল বড় শান্ত। অপরূপ নির্জনতা নিয়ে সেজে আছে। চারপাশে আকাশ ছোঁয়া বড় বড় প্রাচীন বৃক্ষ। এখানে এসে পিকনিকও করা যায়। সে ব্যবস্থা রয়েছে দেখলাম। হাতি বাঘ সিংহ গন্ডার কুমীর পাইথন ময়ূর কিছুই নেই এ জঙ্গলে, তবু কোঙ্গারিকে ভালো লাগে শুধুই তার আরণ্যক সৌন্দর্যের জন্য। এ জঙ্গল মনকে গ্রাস করে নেয় তার সবুজ সতেজতা দিয়ে।
সন্ধে হয়ে এসেছে। ডুলুং উবের বুক করল। কিন্তু গাড়ি আসবে পঁচিশ মিনিট পর। এবং ভাড়াও বেশি পড়ল। এলাম ২৮ ডলারে, ফিরব ৩৯ ডলারে!..
পার্কিং লটে এসে দাঁড়ালাম। নিঝুম চারপাশ। একটা পাতা পড়লেও শব্দ শোনা যায়। এই শান্ত নির্জনতায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম, সব মিলিয়ে আরও দশ বারোদিন এখনো থাকব সাউথ ক্যারোলাইনায় ডুলুং এর কাছে। ওকে নয় বলব, “আরেকদিন চল হাতে সময় নিয়ে, কোঙ্গারিকে ভালো করে দেখে আসি। এই জলে- জঙ্গলে একটু বনবিহারীর মত বেড়িয়ে আসি। বনে এলাম, মনে কোনও সুখস্মৃতি থাকবে না তা কি হয়!.”
।। হাট বসেছে শনিবারে…।।
আজ শনিবার। ডুলুং এর কলেজ ছুটি। আজ সকালটা আমরা বেড়াব। আমেরিকার হাট দেখতে যাব। হাট বসবে সকাল নটা থেকে দুপুর একটা।
এখানকার বাঙালি ছাত্র ছাত্রীরা নাম দিয়েছে “শনিবারের হাট।” আসলে এটা আমেরিকার জনপ্রিয় FARMERS MARKET। সব শহরেই নাকি দেখা যায়। সপ্তাহের এই একটা দিন ওরা খুব মজা করে ফার্মাস মার্কেটে এসে। আর বাজারও করে চুটিয়ে। ওদের এই বাজার খুব ঝলমলে। জিনিস যেমন বিক্রি হয়, তার সাথে নাচ, গান, হুল্লোড়, সুরাপানও চলে। কলম্বিয়ায় প্রতি শনিবার বসে এই ফার্মাস মার্কেট।
আজ সকালে আমেরিকার হাট দেখব। তার সাথে দেখব সাউথ ক্যারোলাইনার STATE HOUSE। ইউনিভার্সিটি থেকে পায়ে পায়েই পৌঁছে যাওয়া যায় এই দু’ জায়গায়। আজ আমরা দু’জন নয় চারজন। আমি, ডুলুং, কোয়েল। আর বাংলাদেশ থেকে আসা প্রথম বছরের পি এইচ ডির ছাত্র অরুণাভ দাস। বাংলাদেশের অশান্ত পরিবেশের কারণে ওর ভিসা পেতে দেরী হয়েছে, তাই দুদিন পর এসে পৌঁছেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। SAGA তেই অরুণাভ ঘর নিয়েছে। ওর রুমমেট সাউথ আমেরিকার প্যারাগুয়ের একটি ছেলে। অরুণাভ ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। ওর পি এইচ ডির বিষয়- পোস্ট কলোনিয়াল লিটারেচার।
প্রথমে আমরা গেলাম স্টেট হাউস দেখতে। এটি সাউথ ক্যারোলাইনার প্রশাসনিক ভবন। স্টেট হাউসের ভেতরে আমেরিকান ইতিহাসের অনেক কথা কাহিনী ছবি সহ সাজানো রয়েছে। ঘুরে ঘুরে দেখলাম। স্টেট হাউসের দ্বিতীয় তলায় সংস্কারের কাজ হচ্ছে বলে এখন প্রবেশ নিষেধ। ডুলুং বলল, ওপরের ঘরগুলো খুব সুন্দর। সোহমকে নিয়ে আগে একবার এসেছিল। স্টেট হাউসের বাগান ও চারপাশ ভীষণ সুন্দর করে সাজানো। সময় কাটাতে বেশ লাগে।
স্টেট হাউসের পাশের ফুটপাতে দেখলাম কিছু প্রতিবাদী মানুষজনের জমায়েত। একটু দূরে পুলিশের গাড়ি। জমায়েতের কাছে গিয়ে দেখলাম হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ১৫- ২০ জন প্রতিবাদ জানাচ্ছেন -প্রতিবাদের ভাষাগুলো পড়লাম-GAZA CEASEFIRE NOW, STOP ARMING ISRAEL, FREE PALESTINE, BIDEN IS COMPLICIT, NO 14 BILLION DOLLARS 4 ISRAEL।
ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের সামনেও দেখেছিলাম এমন কিছু পোস্টার। তবে সেখানে কোনও ভাষণ বা স্লোগান শুনি নি। এখানে সামান্য ভাষণ ও স্লোগান শুনলাম। STATE HOUSE এর পাশেও প্রতিবাদ হচ্ছে! স্লোগান দেওয়া যাচ্ছে। এমন শান্ত প্রতিবাদ সাধারণত আমাদের দেশে দেখি না। প্রতিবাদীদের চোখ মুখ দেখলাম যথেষ্ট অশান্ত, আর দাঁত কামড়ে থাকা শক্ত চোয়াল। কিন্তু ভেতরের উত্তেজনাকে সংযত রেখে প্রতিবাদের কথাগুলো বলে যাচ্ছে।
এরপর আমরা রাস্তা বদল করে কয়েক পা হেঁটেই পৌঁছে গেলাম শনিবারের হাটের কাছে। হাট যেখানে বসে সে জায়গাটা হল SODA CITY। এটা Columbia Metropolitan Convention Centre এর অধীন। অনেকটা লম্বা চওড়া একটা সরণী। তার দু’পাশ জুড়ে বসেছে দোকান। হরেকরকম দোকান। ভীষণ রঙিন লাগল জায়গাটাকে। বহু মানুষ চলে এসেছেন। বাজার করছেন। ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জিনিস পছন্দ করে কিনছেন। আনন্দ করে খাওয়াদাওয়া করছেন। তারমধ্যেই গায়কেরা গাইছেন। নাচ করছেন। অনেক মানুষ খুশি হয়ে এই সব শিল্পীদের ডলার দিচ্ছেন। শিল্পীদের এটাই হয়তো জীবিকা।
এখানে সেন্ট্রাল ও সাউথ আমেরিকার পেরু, চিলি, আর্জেন্টিনা, নিকারাগুয়া, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, গুয়েতেমালা লেখা প্রচুর টুপি ও টি শার্ট বিক্রি হচ্ছে। বুঝতে পারলাম না সাউথ আমেরিকার নাম লেখা জিনিস এই হাট – বাজারে এত কেন? ভীষণ রঙিন ও মনকাড়া সব টুপি ও গেঞ্জিগুলো। আমার গুয়েতেমালা টুপিটা দেখে অঞ্জন দত্তর গানের একটা মজার লাইন মনে পড়ে গেল- “তুমি না থাকলে সুমন গিটার ফেলে গুয়েতেমালায় নামতা শেখাতে যেত…” খুব মজার গান। আমার একটা প্রিয় গান। এই গানেই আরও কয়েকটা এমন সুন্দর কথা আছে, ” তুমি না থাকলে সকালটা এতো মিষ্টি হোত না, তুমি না থাকলে মেঘ করে যেত, বৃষ্টি হোত না”। আমিও তখন মনে মনে গাইলাম ডুলুং এর দিকে চেয়ে, “তুই না থাকলে আমেরিকায় আমার আসা হোত না, তুই না দেখালে শনিবারের হাট দেখা হোত না!..”
হাটে কাপড় জামা হরেক জিনিসের মধ্যে পেয়ে গেলাম সব্জির দোকান। এটা একটা মোবাইল ভ্যান। গাড়ির মধ্যে নানান সব্জি, মধু, মাশরুম ও আরো অনেক কিছু। আমরা দর করলাম অনেক কিছুর। একটা ধারণা নেওয়ার জন্য। তারপর কিনলাম ছোট্ট ছোট্ট দুটো বেগুন ও মোটামুটি ১৮/ ২০ টা ঢেড়শ। দাম পড়ল তিন ডলার।
আমার যা স্বভাব কনভার্ট করে ফেললাম মনে মনে, তাহলে পড়ল ২৪৯ / টাকা!..এরপর ঘরে এসে কি আর ঐ ঢেড়শ খেতে ইচ্ছে করবে!..
সব্জি যার থেকে কিনলাম সে বেশ মজার আমেরিকান। ধরে ফেলেছে আমার কনভার্ট করে দাম যাচাই করার ব্যাপারটা। “ও নো, ইউ ডোন্ট থিংক কনভারসন… উই আর্ণ ডলার, উই পে ডলার!.. সো কাম অন… “তারপর হেসে আমার সাথে হ্যান্ডশেক করল। ছবি তুললাম দু’জনে।
সকালে কোনও ব্রেকফাস্ট করে বের হই নি। খিদে পেয়েছে। কিছু খেতে হবে। কি খাব? এক জায়গায় দেখলাম বোর্ডে লেখা- Locally MADE WINE – FREE SAMPLE। খালি পেটে কি আর ফ্রি স্যাম্পেল ওয়াইন খাওয়া ঠিক হবে!.. তাই খাবার আগে খুঁজে বের করলাম। খেলাম সেই Chicken Wrap।
এরপরও কিছুটা সময় এলোমেলো ভাবে ঘুরে বেড়ালাম। গান শুনলাম।
আমেরিকানদের ফামার্স মার্কেট আমাদের ‘শনিবারের হাট’ এভাবে ঘুরে বেড়িয়ে অনেক মজা পেলাম। একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা হলো। ওরা নয় বলে ফার্মাস মার্কেট। কিন্তু ব্যাপারটা তো সেই হাটের মতই হলো। আমেরিকায় এসে হাটও দেখলাম!..
।। নদীর সাথে দেখা, নদীর কথা বলা…।।
শহরের পাশেই Cayce ( কেসি) জনপদ। এখানে কোঙ্গারি নদীকে বেশ লাগে দেখতে। আমি আর ডুলুং একদিন বিকেলে চলে গেলাম নদীর সাথে দেখা করতে। এই জায়গাটাকে বলে- Three Rivers Point.
SAGA থেকে উবের ডেকে চললাম নদীর কাছে। ভাড়া পড়ল ১১ ডলার। যাওয়ার পথে কলম্বিয়া শহরের আরেকটা দিক দেখলাম। যত দেখি এই অপূর্ব নির্জনতা আর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চারপাশ মন তত মুগ্ধ হয়। Cayce খুব পশ এরিয়া। চমৎকার চমৎকার সব বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট। আর তেমন সুন্দর সব ফুলের বাগান। আর এই সুন্দরী জনপদের পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে এক সুন্দর নদী কোঙ্গারি।
কোঙ্গারির সাথে আরও দুটো জলধারা এসে মিশেছে। এই ত্রিধারা হলো- Congaree, Saluda, Broad। এই তিনধারাকে নিয়ে কোঙ্গারি যেতে যেতে একসময় গিয়ে হারিয়ে যায় আটলান্টিকের জলে। মহাসাগর কোঙ্গারিকে গ্রাস করে নেয়। সেই আটলান্টিকের রূপ আমি দেখে এলাম কদিন আগে মেরিল্যান্ডে।
নদীর ধার ধরে একটা পায়ে চলার লম্বা রাস্তা দু’পাশে চলে গেছে। আমরা মাঝখান থেকে হাঁটা শুরু করলাম। প্রথম বাঁদিক ধরে হাঁটতে হাঁটতে একদম এক সেতু পর্যন্ত গেলাম। এই নদীর ওপর তিনটে সেতু দেখা যায়। আমরা মাঝখানের সেতু থেকে শুরু করেছিলাম হাঁটা। এ নদী শান্ত নদী। জল বয়ে চলেছে কুল কুল করে। কোনও বড় স্রোত নেই। জলধারার জলোচ্ছ্বাস নেই। আজ রবিবার। ছুটির দিন। তাই দেখলাম ইউনিভার্সিটির অনেক ছাত্র ছাত্রীরা চলে এসেছে বেড়াতে। তবে ওদের বেড়ানো অন্যরকম। ওরা টায়ারের মত এক জাতীয় ফোলানো রঙিন সব গামলায় শুয়ে বসে ভাসতে ভাসতে চলেছে। কি সুখ। কি আনন্দ। ভাসছে তো ভাসছেই। ভাসতে ভাসতে কোথায় চলে যাবে জানি না!..
অনেক সাহেবকে দেখলাম খুব গভীর মনোযোগ নিয়ে ছিপ ফেলে বসে আছে জলের দিকে চেয়ে। কি মাছ উঠবে জানি না, কিন্তু এটা যে তার সখের নেশা সেটা সাহেবকে দেখে মালুম হলো।
অনেক মেমসাহেবা নদীর ধারে গাছের ডালে নিজস্ব হ্যামকে শুয়ে বই পড়ছে দেখলাম। সত্যি জীবনকে তালি মেরে উপভোগ করা বোধহয় এগুলোকেই বলে।
নিজের পোষ্য নিয়েও অনেকে চলে এসেছে এই নদীর ধারে হাঁটতে। প্রেমিক প্রেমিকারাও আছে। আমার চোখে অ্যাফ্রো-আমেরিকান কয়েকটা ইয়ং কাপলকে দেখলাম খুব অন্তরঙ্গ আনন্দে সময় কাটাচ্ছে নদীর ধারে বসে।
এই নদী পথ ধরে হাঁটতে খুব ভালো লাগে। কোঙ্গারিকে দেখতে দেখতে যাওয়া যায়। নদীর ওপারে হাল্কা জঙ্গল। জঙ্গলের পরে কলম্বিয়া শহর। সেই শহরের বড় বড় বাড়িগুলোকে দেখা যায় এখান থেকে। যেমন দেখলাম Bank of America, Wells Fargo, Truist এরকম নামের বড় বড় হাইরাইজ বিল্ডিংগুলো।
বাঁদিক থেকে এবার আমরা হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম ডানদিকের পথে। এপথে চোখে পড়ল অপূর্ব সব বাড়ি। দেখে মনে হল বিলাসবহুল বাংলো বোধহয় এগুলোকেই বলে। যেমন তার শৈলী, তেমন তার রং। ফুলের বাগান দিয়ে ঘেরা এই লাক্সারি কটেজগুলো সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো। প্রত্যেকটা বাড়ির ব্যালকনি নদীর দিকে মুখ করে। এই বারান্দায় বসে নদীকে দেখো। নদীর সাথে কথা বলো। নদীর কথা শোনো।
এপথে গাছের ডালে একটা পাখির ছোট্ট লাল বাড়ি চোখে পড়ে গেল। কি মিষ্টি করে বানানো বাড়িটা। একদম আদর্শ বার্ড হাউস। চোখ এড়িয়ে কিছুতেই যাবে না। আমি আর ডুলুং থমকে দাঁড়ালাম। ওমা সেখানে দেখি আমাদের চড়াই পাখির দল খেলা করছে! আমেরিকায় চড়াই পাখি!.. প্রথমে তো বিশ্বাসই হচ্ছিল না। তারপর ভিডিও করলাম। ভালো করে দেখলাম, সত্যিই তো আমাদের চড়াই পাখিই ওরা। খুব আনন্দ হল চড়াইগুলোকে দেখে।
এপাশের পথটা ছোট। হাঁটতে হাঁটতে তৃতীয় সেতুটায় এসে উঠলাম। দু’পাশ মিলিয়ে প্রায় তিন মাইল হাঁটলাম। কোঙ্গারিকে দেখলাম। অনেক ছবিও তুললাম।
সেতুর কাছে উঠে পেয়ে গেলাম বড় রাস্তা। একটু আগেই উবের করে এসেছিলাম এই রাস্তাটা দিয়েই। তখন বুঝতে পারি নি। এখন মনে হলো, তাহলে তো হেঁটেই চলে যেতে পারব সাগায়।
হাঁটা শুরু করলাম। ডুলুং একবার বলল, “পারবে তো? জিপিএস বলছে বাইশ মিনিট লাগবে।” আমি পাল্টা আমার স্মার্ট ওয়াচ দেখে নিয়ে বললাম, “আজকে ছ’ হাজার নশো স্টেপ হয়েছে। চল পারব হাঁটতে। সাত হাজার করতে হবে!.. “
ডুলুং হাসলো।
আমি মনে মনে বললাম, “সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে যখন আসতে পেরেছি, তখন সাত হাজার স্টেপ তো হাঁটতেই হবে!..”
এই পথে হেঁটে না এলে দেখা হোত না আমেরিকায়ও কাশ ফুল ফোটে! হঠাৎ দেখি এক জায়গায় পথের ধারে সবুজ ঘাসের জঙ্গলে শরতের কাশফুল। একটা দুটো নয়। গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুল। প্রথমে মনে হলো, এটা নিশ্চয়ই অন্য কিছু। কিন্তু না। কাছে গিয়ে দেখলাম আমাদের গ্রাম বাংলার সেই কাশফুলই এগুলো। জড়িয়ে ধরলাম কাশফুলগুলোকে। আদর করলাম। ডুলুং আমার এই আবেগের মুহূর্তকে ক্যামেরা বন্দী করে ফেলল। আমেরিকায় এসে এক বিকেলে চড়াইপাখি ও কাশফুল দেখার আনন্দ আমাকে মাতিয়ে দিল।
এই জন্যই কি লোকে বলে, বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ!
SAGA য় এসে দেখলাম আজ ন’হাজার একশো দুই স্টেপ হাঁটা হলো!..
“কতটা পথ পেরোলে তবে পথিক বলা যায়”…How many roads must a man walk down / before you call him a man… বব ডিলানের এই গান গুণ গুণ করতে করতে এলিভেটরের দিকে এগোলাম। বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছি, পথিকের পথ চলাতেই তো আনন্দ!..
শুভসন্ধ্যা। সাউথ ক্যারোলাইনা।