সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ৪৭)

দেবমাল্য
তানিয়া বলল, হ্যাঁ, ওঁদের সবাই চেনে তো…
— এই হোটেলের লোকগুলোও?
— শুধু হোটেলের লোকগুলোই নয়, আশপাশের সবাই। এমনকী, এই হোটেলের উল্টো দিকে যে চায়ের দোকানটা আছে, তারা পর্যন্ত। ওরা জিপ থেকে নামতেই, দিদি দিদি করে সবাই ছেঁকে ধরল।
বিস্মিত হয়ে গেল দেবমাল্য। মুখ থেকে শুধু অস্ফুটে বেরিয়ে এল একটাই শব্দ, তাই?
— তা হলে আর বলছি কী? এই রে, দেখেছ! সত্যি, তোমার জন্য না…
— কেন, কী হল?
— কী আর হবে? বললাম না, ওঁরা নীচ থেকে হাত নাড়াবেন বলে গেলেন।
— তা হলে যাও। আমি কি তোমাকে আটকে রেখেছি?
গলার স্বর নামিয়ে তানিয়া বলল, তুমিও এসো।
— আমি আবার কেন?
— ওঁরা তা হলে বুঝতে পারবেন তুমি এসে গেছ।
— ঠিক আছে, চলো।
— চলো নয়, এদিকে এসো। বলেই, ঘরের পেছন দিকে যে জানালা, সেদিকে গিয়ে ভারী ভারী পর্দাগুলো দু’দিকে ঠেলে সরিয়ে ইস্পাতের ফ্রেমে বাঁধানো কাচের পাল্লা দুটো বাইরের দিকে তানিয়া ঠেলে দিতেই দেবমাল্য যেন ভূত দেখল। দেখল, দূরে, সরু রাস্তার উপরে একটা ল্যাম্পপোস্টের নীচে দু’জন জোব্বা, না না, জোব্বা নয়, বোরখা পরা মহিলা তাদের ঘরের এই জানালার দিকে হা করে তাকিয়ে আছেন। তাঁদের ক’হাত পেছনে একটা জিপ।