সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ২৯)

কেমিক্যাল বিভ্রাট
জবালা তার উত্তর না দিয়েই বললেন, ফোনটা ধর।
পাশে বসেও মুখোমুখি নয়, সে দিন দু’জনে কথা বলেছিলেন ফোনে। কথা বলা শেষ হওয়ার পরে ওই বান্ধবী ওঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এসেইছিস যখন এই কথাগুলি তো সামনা-সামনিই বলতে পারতিস। ফোন করলি কেন?
জবালা বলেছিলেন, আমি ফোন না করলে অন্য কেউ তোকে ফোন করত। আর তুই তখন তার সঙ্গে কথা বলায় ব্যস্ত হয়ে যেতিস। ফলে আমাকে এখনও বসে থাকতে হত। তাই ফোন করলাম…
বাসে-ট্রামে, এমনকী এমনিও নেমন্তন্ন বাড়িতে উনি লক্ষ করে দেখেছেন, সবাই সবার সঙ্গে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও কেউই কারও সঙ্গে কথা বলছে না। সবাই কথা বলছে ফোনে। অন্য কারও সঙ্গে। বারে বারেই তাঁর মনে হত, আরে বাবা, যার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিস, তার সঙ্গে তো পরেও কথা বলতে পারিস, নাকি? যাকে সামনে সরাসরি দেখছিস, তার সঙ্গে কথা বলবি না? কানে ফোন ধরে কথা বলতে বলতে চেনা দেখে সৌজন্যবশত শুধু একটু মেকি হেসে মাথা কাত করবি? এমন ভান করবি, যেন জানতে চাইছিস, ভাল তো?
এই ব্যাপারটা বড় অদ্ভুত লাগে জবালার। আরও অদ্ভুত লাগে ল্যান্ড ফোন থাকলেও কেউই আজকাল সচরাচর সেখানে ফোন করে না। করে মোবাইলে। এক চান্সে পাবার জন্য। তাই রাত দশটা বাজলেই জবালা তাঁর মোবাইলের সুইচ অফ করে দেন। অফ করে দেন ঔপমানবের ফোনও।
ঔপমানবের অবশ্য ফোন নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই। নিজের কাজ নিয়ে সারাক্ষণ এত ডুবে থাকেন যে, কানের পাশে একটানা ফোন বেজে গেলেও তিনি শুনতে পান না। শুনতে পেলেও ধরেন না। ফোন ধরায় তাঁর যেন অ্যালার্জি আছে। তবু মোবাইলটা কিনেছিলেন। কিনেছিলেন কল ধরার জন্য নয়, শুধুমাত্র কল করার জন্য। আসলে তাঁদের ল্যান্ড ফোনটা ও দিককার ঘরে। অত দূরে গিয়ে ফোন করা তাঁর কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর। আর ল্যাবরেটরিতে প্যারালাল ফোন ঢোকানোয় তাঁর ছিল ঘোরতর আপত্তি। তাই খুব দরকার হলেও অনেক সময় তাঁর ফোন করা হত না। ফলে এই মোবাইল নেওয়া। তাই কাউকে ফোন করতে গেলে উনি দেখেন কখনও আটটা, কখনও সাঁইতিরিশটা, কখনও আবার তার চেয়েও বেশি মিসড কল হয়ে আছে। মেসেজের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।