ক্যাফে গল্পে সুব্রত সরকার

গল্প নিখিল

নুসরত সন্তান সম্ভবা। অথচ ও তোমার সাথে থাকে না দীর্ঘদিন! নতুন বন্ধুর সাথে রয়েছে। তুমি তাই ব্যথিত হলেও বলতে পারলে, ঐ অজাত সন্তানের জনক তুমি নও!..
কিন্তু আমি! আমি তো বুঝতে পারছি না, আমি কি করব? কি করা উচিৎ!…
কাজের সূত্রে আমি শহর থেকে সাড়ে তিনশো কিলোমিটার দূরে থাকি। তেরো মাস হয়ে গেল এখানে পোস্টিং। মাসে কোনওরকমে একবার বাড়ি যেতে পারি। পুলুটাকে একটু আদর করতে পারি। ও আমার একমাত্র সন্তান। তিন পেরিয়ে চার হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে আমি নয়নার নয়নে নয়ন রেখে দেখেছি, ও কেমন অন্যমনস্ক হয়ে গেছে। আমাকে কাছে পেয়েও সেভাবে সাড়া দেয় না। ওর সেই মুগ্ধ করা প্রগলভ হাসি লুকিয়ে ফেলেছে। আমার সামনে খুব মেপে মেপে চলে, কথা বলে। ওকে আমার কেমন অন্যরকম মনে হয়। ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছি এখানে পোস্টিং পেয়ে চলে আসার ঠিক দু’মাস পর।
নয়নার সাথে ফোনে কথা বলে এখন আর সুখ পাই না! ভালোবেসে সুখ পাওয়া যাকে বলে, সে সুখে আমার অসুখ করে গেছে!
ঘর- সংসারের দরকারী কথাগুলো ও কেমন চটজলদি সেরে ফেলতে চায়। খুব ব্যস্ততা দেখায়। “সারাদিন একা একা সব কাজ করতে করতে একটু বিশ্রাম আর নিতে পারি না! এখন একটু শোবো। আর কিছু বলবে?”…
আমি বুঝতে পারি ও মিথ্যে কথা বলছে। শোবে না। এখন মোবাইল নিয়ে বসবে। অনেক রাত পর্যন্ত ওকে আমি অনলাইনে দেখতে পাই!..
কাল ফোনে যখন প্রথম আমাকে কথাটা বলল, আমি বিশ্বাস করতে পারি নি। অবাক হয়ে বললাম, “মানে! তোমার পিরিয়ড দু’মাস স্কিপ করে গেল, আর তুমি আজ আমায় বলছো?”
“আমি ভেবেছিলাম অনেকসময় এমন হয়….পরে আবার ঠিক হয়ে যায়!”
“এবার কি ঠিক হবে না মনে হচ্ছে?”
” বুঝতে পারছি না!”
” মানে!” আমি নোংরা ভাষায় চিৎকার করে উঠলাম।
নয়না চুপ করে থাকল। আমি আবার উত্তেজিত হয়ে বললাম, “এটা কি করে হল? কোয়াইট ইম্পসিবল। কিছুতেই সম্ভব নয়।”
“নয় কেন বলছো?”
“কি বলতে চাইছো তুমি?”
“গতমাসে মনে করে দেখো তুমি বাড়ি এসেই কি করেছিলে?”
” হ্যাঁ, আমি অধিক উত্তেজনায় শেষ করতে পারি নি। আমার বেশ মনে আছে, সেদিন তাড়াতাড়ি…
” পরেরদিন দুপুরে?”
“সেদিন কনডোম ছিল।”
নয়না চুপ করে আছে। আমি আরও উত্তেজিত হয়ে বললাম,” বাহ্ বাহ্ চিত্রনাট্যটা বেশ সাজিয়েছো!”
“তুমি আগে বাড়ি এসো। তখন কথা হবে।”…
কথা তারপর আর হয় নি। ছুটি নাকচ হয়ে গেল। যেতে পারছি না। ছটফট করছি। আমি কিছুতেই বিশ্বাস করছি না, এটা আমাদের যৌথ ফসল হতে পারে!..
প্রেগনেন্সি টেস্টে কি রিপোর্ট আসবে জানি না। সে রিপোর্টে যাই আসুক, এখন আমি আর ওকে বিশ্বাস করতে পারি না! জানি, বিশ্বাস হারানো পাপ!… কিন্তু সবাইকেই কি বিশ্বাস করা যায়?..
নিখিল, আমি কি খুব পুরুষতন্ত্রের কথা বলে ফেললাম!…..
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।