ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাসে সমীরণ সরকার (পর্ব – ৩৩)

সুমনা ও যাদু পালক

ওইভাবে সুমনাদের সঙ্গে নিয়ে উড়তে উড়তে বেশ কিছুটা সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর ,পথ প্রদর্শক বড় পাখি দুটো একটি বিশাল পাহাড়ের সামনে একটা মস্ত বড় পাথরের উপরে ঝুপ করে বসে পড়ল।
সুমনা দেখতে পেল, সামনে এক বিশাল সবুজ রঙের পাহাড় ।পাহাড়টির আকৃতি একটা বিশাল পাখির মত। মনে হচ্ছে যেন বিশাল বড় একটা পাখি ডানা ছড়িয়ে বসে আছে।আর পাথরের তৈরি সেই পাখিটার বুকের কাছে বিশাল বড় একটা গুহার প্রবেশ মুখ দেখা যাচ্ছে। পাহাড়টার সারা গায়ে ছোট বড় আরো অসংখ্য গুহা।

পাহাড়টার সামনে অসংখ্য বড় বড় জানা-অজানা ফলের গাছ। যে সবুজ পাখির দলটা এতক্ষণ সুমনাদের চারিদিকে বৃত্তাকারে
উড়তে উড়তে আসছিল ,তারা ওই বড় বড় গাছ গুলোর শাখা-প্রশাখায় এখানে ওখানে বসে পড়ল। কিন্তু কি আশ্চর্য এতক্ষণ যে পাখিগুলো কিচিরমিচির করতে করতে আসছিল ,হঠাৎ এই পাহাড়টা সামনে এসে তারা যেন বোবা হয়ে গেল। তারা গাছের উপরে নিঃশব্দে প্রতীক্ষা করতে থাকলো যেন ভয়ঙ্কর কোন কিছুর জন্য।

যে বড় পাখি দুটো এতক্ষণ পথ দেখিয়ে আসছিল, তারা পাথর টার উপরে বসে একসঙ্গে মিষ্টি শিস দিতে শুরু করলো । কিছুক্ষণ শিস দেওয়ার পরে বড় গুহাটার ভিতর থেকে একটা সোনালী রঙের ঈগল পাখি বেরিয়ে এল। বাইরে এসে সে পথপ্রদর্শক পাখিদের বলল, কোটাল পাখি,তোমরা কী সম্মানীয় অতিথিদের সঙ্গে করে নিয়ে এসেছো?
——- আজ্ঞে হ্যাঁ ,সেনাপতি ঈগল।আপনি দয়া করে রাজামশাইকে খবর দিন যে, শুভ্র ঘোটক দুধরাজের পিঠে চেপে রাজকুমারী রত্নমালা উপস্থিত হয়েছেন।
—– রাজকুমারী রত্নমালা কি একাই এসেছেন?
——না, উনি একা আসেননি ,তবে…….
—– তবে কী কোটাল পাখী?—–কথা বলতে বলতে হঠাৎ চুপ করে গেলে কেন?
—— রাজকুমারী রত্নমালার সঙ্গে আরও কেউ একজন এসেছেন।
——কে এসেছেন? তাহলে তাঁর কথা আমাকে জানালে না কেন? আমি রাজামশাই ও রানী মা কে কি জানাবো?
—— সেনাপতি মশাই, আমরা তাঁর কণ্ঠ শুনেছি, কিন্তু এখনো তাঁকে চোখে দেখতে পাইনি। তাহলে আমি কি করে আপনাকে জানাবো যে সঙ্গে আর কে এসেছে?
——- ভারী অদ্ভুত তো!তোমরা ভাল ভাবে তাঁর সম্পর্কে না জেনে, খোঁজ খবর না নিয়ে তাঁকে এই রাজপ্রাসাদের সামনে উপস্থিত করলে? এই তোমাদের দায়িত্ব জ্ঞান কোটাল পাখি?

সোনালী ঈগলের কথা শুনে পথপ্রদর্শক বড় পাখি দুটি মাথা নীচু করল।
হঠাৎ অদৃশ্য কন্ঠ বলে উঠলো, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন হে সেনাপতি সোনালী ঈগল। আমি কোন খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে আসিনি। কোটাল পাখিদের মুখে শুনলাম যে, আপনাদের রাজ্যে নাকি কোন বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সেই সমস্যা সমাধানের জন্য কোটাল পাখিরা রাজকুমারী রত্নমালা কে এখানে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। আমি রাজকুমারী রত্নমালার সর্বক্ষণের সঙ্গী হিসেবে এখানে এসেছি। আশা করি, রাজকুমারী রত্নমালা আপনাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।
——– কিন্তু আপনি কে? আপনার পরিচয় কি?
কিভাবে বিশ্বাস করব যে, আপনি আমাদের বন্ধু?
——- হে সেনাপতি সোনালী ঈগল, আমি আপনার মাতৃকুলের এক পূর্বপুরুষ মহান জটায়ু কে জানতাম। আমি এও জানি যে, আপনি অত্যন্ত শক্তিশালী ,বিচক্ষণ এবং বিশ্বস্ত। তাই এই সবুজ পাখির দ্বীপের রাজা আপনার গায়ের রং সোনালী হওয়া সত্ত্বেও আপনাকে সেনাপতি পদে বরণ করেছেন ।
কিন্তু হে সেনাপতি, আপনি আপনার সুতীক্ষ্ণ ঠোঁট, ধারালো নখ ,অসীম সাহস এবং ক্ষিপ্রতা দিয়েও এই সবুজ পাখির দ্বীপের রাজা ও রানী কে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই কোটাল পাখিরা রাজকুমারী রত্নমালাকে এখানে নিয়ে এসেছে।
অদৃশ্য কন্ঠের কথা শুনে সোনালী ঈগল মাথা নীচু করলো।
অদৃশ্য কন্ঠ বললো, না সেনাপতি,এতে আপনার লজ্জিত হবার কোন কারন নেই। আমার মনে হয় সমস্যা এতটাই জটিল এবং ভয়ানক যে, আপনারা তার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই বলছি, দয়া করে রাজকুমারী রত্নমালা কে পক্ষীরাজের কাছে নিয়ে চলুন। আপনি এই বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে, সমস্যা যতই জটিল এবং ভয়ানক হোক না কেন, রাজকুমারী রত্নমালা তা সমাধান করতে পারবেন।
সোনালী ঈগল বলল,আপনি যখন মহান জটায়ুকে জানতেন, আপনাকে সম্পূর্ণ ভরসা করতে পারি আমি। আপনি রাজকুমারী রত্নমালা কে সঙ্গে নিয়ে আসুন আমার সঙ্গে।
শুভ্র ঘোটক এখানেই অবস্থান করুক। কোটাল পাখি, তোমরাও এখানেই থাকো। তোমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে, আজ দশম দিন। আজ রাত্রে সেই ভয়ঙ্কর বিপদ আসতে চলেছে।
কোটাল পাখি দুটো বললো, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন সেনাপতি,আমরা এখানে পাহারায় আছি।
তবে জানিনা,ভাগ্যে কী আছে আমাদের?

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।