T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় শঙ্খসাথি

মাতৃরূপা
বোধনের সময় থেকেই মনটা কেমন খচখচ করছে। মায়ের মুখে এত বিষাদ কেন! তবে কি মা রুষ্ট ওঁর ওপর?
রাতে গিন্নিকে কথাটা বলতেই মুখ ঝামটা খেতে হলো।
—চোখের মাথা খেয়েছো নাকি! অমন ঝলমল করছে মায়ের মুখ, আর তুমি কিনা বিষাদ খুঁজেছো! বলি নিবারণ কি আজ প্রথম চৌধুরীবাড়ির দেবীমূর্তি করছে?
ঠিকই তো। তাই হবে তাহলে।
মনকে সান্ত্বনা দিলেও কী যেন একটা অস্বস্তি বুকে চেপে বসেছে। অনেকরাতে সবে চোখ লেগেছে এমন সময় যেন মা ডাকল—
আমি কি শুধু মূর্তিতে থাকি রে বাছা? পুজোতে এত ধুম করতে পারিস, আর হাসপাতালে পড়ে থাকলে তো ফিরেও তাকাস না।
ধড়মড়িয়ে ওঠেন। তাই তো, নিবারণের মেয়েটা হাসপাতালে ভর্তি। কিছু টাকা ধার চেয়েছিল, দেননি।
ভোর হতেই নিবারণের বাড়ি গিয়ে দশহাজার টাকা দিতে গিয়ে দেখেন তালা বন্ধ। অগত্যা শহরে হাসপাতালে যেতে হলো।
বাড়ি ফিরতেই হইচই। না বলে কোথায় চলে গিয়েছিলেন! সন্ধিপুজো শেষ, অঞ্জলি হলো না।
মুচকি হেসে গিন্নিকে বললেন, অঞ্জলি দিয়েই এসেছি।
—মাথাটা পুরোই গেল নাকি! শুনছ…
ততক্ষণে সেখান থেকে সরে এসেছেন। তার আগে একঝলক তাকিয়ে দেখে নিয়েছেন, মায়ের মুখে প্রসন্নতার হাসি।