সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ৪২)

কেমিক্যাল বিভ্রাট
অভিমন্যু বলল, না রে, গা-টা কেমন গুলোচ্ছে…
— ও তাই বল। কিন্তু খাবারের সঙ্গে এগুলো! আজ কি তোর জন্মদিন নাকি?
— না তো… কেন?
— না, পুরো এক প্যাকেট পেন দিচ্ছিস… ইরেজার দিচ্ছিস… তাই…
অভিমন্যু বলল, কেন? আমি তোকে দিতে পারি না? আমি তোর বন্ধু না?
— না, সে তো ঠিক আছে, আসলে… হঠাৎ…
— নে নে, তাড়াতা়ড়ি খা।
শিমূল বলল, সবে তো টিফিনের ঘণ্টা পড়ল!
অভিমন্যু বলল, হ্যাঁ, জানি তো…
— তবে?
— না। বলছিলাম কি… তোর হাতের লেখা তো খুব সুন্দর… তাই, তুই যদি একটা চিঠি লিখে দিস…
— চিঠি? আন্টিকে? গার্জিয়ান হয়ে? মাফ কর বাবা, এই নে, সবটা এখনও খাইনি…
— আরে, না রে, এমনিই… অন্য চিঠি।
— ও, প্রেমপত্র লিখে দিতে হবে?
— লিখতে হবে না। আমি লিখেছি। তুই শুধু দেখে দেখে কপি করে দে, তা হলেই হবে।
— তাই তো বলি… ঠিক আছে, দাঁড়া। খেয়ে নিই।
টিফিন শেষের ঘণ্টা পড়ার আগেই একটা অক্ষরও কাটাকুটি না করে, পুরো চিঠিটাই খুব সুন্দর ভাবে ধরে ধরে কপি করে দিল শিমূল।
সেটা জ্যামিতি বক্সের মধ্যে তড়িঘ়ড়ি ভরে নিল অভিমন্যু। তার পর স্কুল থেকে ফেরার সময় জানালার ধারের সিটে বসে তার নিজের হাতে লেখা চিঠিটা একটু একটু করে ছিঁড়ে চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে উড়িয়ে দিতে লাগল রাস্তায়। হাজার চেষ্টা করেও তার ফেলা সব ক’টা টুকরো কেউ যাতে জোগাড় করতে না পারে। পারলেও, তেরা-বাঁকা করে ছেঁড়া টুকরোগুলো পর পর সাজিয়ে, জোড়া লাগিয়ে তার চিঠিটা যাতে কেউ পড়তে না পারে।
বাবা তো সারা দিনই ল্যাবরেটরিতে পড়ে থাকেন। মাকে নিয়েই যা একটু ভয়। পর দিন মা স্কুলে বেরিয়ে যেতেই রিকিদের বাড়ি থেকে রিকিকে ডেকে নিয়ে এল অভিমন্যু। বারবার করে বুঝিয়ে দিল, কী ভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে চিঠিটা সুস্মিতার হাতে দিতে হবে। সবার চোখ এড়িয়ে। এবং সতর্ক থাকতে হবে, ওদের বাড়ির কাকপক্ষীও যেন টের না পায়। আর তার থেকেও বড় কথা, ধরা পড়ে গেলে ভুল করেও যেন সে তার নাম কিছুতেই না বলে। জোড়াজুড়ি করলে যেন বলে, এটা তোমাদের বাড়ির সামনেই, রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছি। তাই সুমিদিকে দিলাম… যদি তোমাদের কারও হয়!
সব শুনে রিকি বলল, বুঝেছি বুঝেছি, অত বলতে হবে না। অত বোঝালে সব গুবলেট হয়ে যাবে। তোমার কোনও চিন্তা নেই। চাপ নিয়ো না। কাজ হয়ে যাবে। কী খাওয়াবে বলো?