সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (অন্তিম পর্ব)

দেবমাল্য
ও রাস্তার ধার ঘেঁষে বাইকটা দাঁড় করাতে গিয়ে দেখল, ওই গাড়িটা স্টার্ট দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। গাড়ি চালাচ্ছেন হরিদা। তার পাশে সামশের। আর তার পাশে, জানালার দিকে দেবমাল্যর বাবা। পেছনের সিটে বোরখা পরা দু’জন মহিলা। আর তাঁদের মাঝখানে বসে আছেন দেবমাল্যর স্ত্রী। এদের প্রত্যেকেই ও কাল রাতে নার্সিংহোমে দেখেছিল। তাদের সঙ্গে কথা বলেছিল।
ওদের গাড়ির পিছু পিছু একটা শববাহী গাড়িও ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। গাড়িটির চালকের পাশে ঠেসেঠুসে অত্যন্ত কষ্ট করে বসে আছে তিন-তিনটে ছেলে। এদেরও কাল দেখেছিল ও। এরা দেবমাল্যর কারখানাতেই কাজ করে।
রাজীব স্তম্ভিত হয়ে গেল। আরও স্তম্ভিত হয়ে যেত, যদি জানতে পারত, এই পৃথিবীর অত্যন্ত বিরল দু’- চার জন মানুষের মতো দেবমাল্যরও একটা তৃতীয় চোখ ছিল। আর ছিল বলেই, সেটা দিয়েই গত কাল দুপুরে আরও অনেক কিছুর মতো সে তার নিজের মৃত্যুটাকেও আগাম দেখে ফেলেছিল। কিন্তু এই কথাটা তাকে বলবে কে! যে বলতে পারত, সে তো এখন শববাহী গাড়িতে শুয়ে হাওড়ার দিকে চলেছে।