সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ৩)

দেবমাল্য
তার পর থেকেই ও বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি দেখছিল, ব্যবসাটাকে কালীবাবুর বাজার থেকে তুলে অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু যত জায়গা দেখছিল, কোনওটাই পছন্দ হচ্ছিল না।
এক-একদিন একেক জায়গায় যায়, আর ফিরে এসে বউকে বলে, জায়গাটা ঠিক জুতসই নয়। কোনও দিন বলে, সামনের রাস্তাটা এত সরু যে, গাড়িই ঢুকবে না। কোনও দিন বলে, আশপাশে এত বাড়ি, রাতে কাজ করতে গেলে মেশিনের আওয়াজে ওদের অসুবিধে হতে পারে। আর অসুবিধে হলে কি ওরা চুপচাপ বসে থাকবে? সব দল বেঁধে এসে অবজেকশন দেবে। থানায় গিয়ে হাজির হবে। তখন আরেক সমস্যা শুরু হবে। আবার কোনও দিন বলে, জায়গাটা কারখানার পক্ষে সুইটেবল নয়। যে ক’টা জায়গা দেখছি, একটাও পছন্দ হচ্ছে না। কী করি বলো তো?
— পছন্দ হচ্ছে না, না, ওই গুন্ডাগুলোর ভয়ে তুমি বারবার পিছিয়ে আসছ? তানিয়া বারবার এই প্রশ্ন করলেও ও কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। কারণ, ও যে কারখানাটাকে অন্য কোথাও সরানোর মতলবে আছে, এটা কী করে যেন জেনে গিয়েছিল মাছ স্বপন। যার নামে খুন, ছিনতাই, রাহাজানি, ধর্ষণ থেকে শুরু করে অপহরণ, হুমকি, তোলা আদায়— হাজারখানেক কেস রয়েছে থানায়। মাঝে মাঝেই লালবাজারের অ্যান্টি রাউডি সেকশন রেড করে ওকে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু তার পর দিন সকালেই আবার ওকে বহাল তবিয়তে এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়। ধরা পড়ার আধ ঘণ্টার মধ্যেই নাকি রাজনৈতিক দাদারা ফোন করে ওকে ছাড়িয়ে আনেন।
মাছ স্বপন মাঝে মাঝেই এসে বলে, এখানে ব্যবসা করতে হলে সরকারকে দিন না দিন, আমাদের ট্যাক্স দিতেই হবে। আপনাদের কারখানায় যা ঝুট-ঝামেলা হবে, লেবার প্রবলেম হবে, ইউনিয়নে ইউনিয়নে গন্ডগোল হবে, সে সব আমরা বুঝে নেব। আপনারা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করুন। শুধু আমাদের বখরাটা প্রতি মাসে আমাদের হাতে তুলে দিন। তা হলে আপনাদের আর কোনও দিকে মাথা ঘামাতে হবে না।
অনেক ব্যবসায়ী সেটা মেনে নিয়েছেন। যাঁরা মানতে চাননি, তাঁরা নিজেরা দলবদ্ধ হয়ে এককাট্টা হয়েছেন। থানায় গেছেন। ডেপুটেশন দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিচ্ছু হয়নি। উল্টে তার ফল হয়েছে আরও খারাপ।
যে ক’জন ব্যবসায়ী ওদের বিরুদ্ধে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিলেন, ওরা তাঁদের কারও বাড়িতে ঢুকে বউ-ছেলেমেয়ের সামনেই পর পর গুলি করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। কারও গুদামঘরে চড়াও হয়ে এক কোপে কারও মুণ্ডুু নামিয়ে অন্য ব্যবসায়ীদের বোঝাতে চেয়েছে, ওদের কথা না শোনার পরিণাম কত ভয়ানক হতে পারে। কারও গাড়ির পাশ দিয়ে বাইক নিয়ে যেতে যেতে মাঝরাস্তায় চালিয়ে দিয়েছে ওয়ান শটার। রক্তে ভেসে গেছে গাড়ির সিট।