ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৬৮

ফেরা
চল আশ্রম থেকে ঘুরে আসি। দলের একজনের ডাকে মুখ তুলে তাকাই। অধিকারী কাকু, কাকিমা, দিদি, আরো কয়েকজন দাঁড়িয়ে। একা একা কি পাগলের মতো ঘুরছিস।চল আমাদের সাথে। নদী ঘুরে আশ্রম যাবো।
তাই ঠিক হয়। ওদের সাথে বেড়িয়ে পরি। একটু নীচেই মা গঙ্গা প্রবল স্রোতে বয়ে চলেছেন। নীচে রং বেরংয়ের পাথর। ছোটবেলার মতো ব্যাঙ বাজি খেলা হয়। স্বচ্ছ, কনকনে জলে হাত ডুবিয়ে তুলে আনি পাথর, স্মৃতি হিসেবে। অনেক বছর দেখেছিলাম। তারপর এক সময় কোথায় হারিয়ে যায়।।।
বেশ খানিকটা সময় সেখানে কাটিয়ে সবাই আশ্রমের দিকে এগোই। বেশ ধ্যান গম্ভীর পরিবেশ। উঠোনে দীপ জ্বলছে। ধুপ ধুনোও। মন ভালো হয়ে যায়। আশ্রমের পাশাপাশি এটি একটি যোগা সেন্টার। ১৯৯১ সালে এই স্হানে প্রতিষ্ঠিত। ছোটো ছোটো কোর্স করানো হয়। ভারতীয়দের থেকে বিদেশীদের মধ্যে চাহিদা বেশী। কয়েকজন ছাত্র ছাত্রীদের সাথে আলাপ হয়। মঠাধ্যক্ষ আমাদের এলাচ দেওয়া চা খাওয়ান। ঐ ঠান্ডায় সত্যিই খুব কাজে দেয়।
সাতটা নাগাদ মরা বিকেলের আলো কে সঙ্গে করে হোটেলে ফিরে আসা। ব্যালকনিতে চেয়ার টেনে বসে দেখতে থাকা, দূরে গ্রাম গুলোতে মিটমিট করে আলো জ্বলতে শুরু করেছে। এক মনে সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন চোখ লেগে গেছে টের পাইনি।।।