ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৪৮

ফেরা
আমার পিসি আর পিসেমশাই, কম্যুনিস্ট ভাবধারা মেনে চলেন। ওঁরা বিয়ের সময় কেবল রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করেছিলেন, দুই বাড়ি আপত্তি করেনি। এবার ত্রিযুগীনারায়ণে যখনই কোনো ম্যারেড কাপল যায়, তখন ওখানকার পান্ডারা তাদের শিব পার্বতীর বিয়ের অগ্নিকুণ্ডের সামনে আবার বিয়ে দেন, ওনাদের বিশ্বাস, তাতে সবাই জন্মজন্মাতরে একে অপরের স্বামী স্ত্রী হিসেবে থাকেন। এবার আমরা গাড়ি থেকে নামতেই পান্ডারা আমাদের ধরেছেন, আর আমাদের দলে কাপল বলতে ওনারাই। ওনারা পড়েছেন ফাঁপড়ে, এবার পান্ডাদের করুণ মুখ দেখে নাও বলতে পারছেন না। বেশ কিছুক্ষণ কথা চালাচালির পর, ওনারা রাজি হলেন, রেজিস্ট্রি ম্যারেজের দশ বছর পর, অগ্নিস্বাক্ষী করে আবার বিবাহ হলো। ওনাদের অবস্হা দেখে হাসি পেলেও আমরা একটু গম্ভীর হয়েই থাকলাম, যাতে ওনাদের লজ্জিত না হতে হয়, তবে ওনাদের মেয়ে, সেসব কিছুর ধার ধারেনি,বাবা মায়ের পুনঃ বিবাহ দেখে হেসে কুটোপাটি হয়েছিল। বিয়ে মিটলে আমরা গাড়ি করে এগিয়ে গেলাম উখিমঠের দিকে, আজ সেখানেই রাত্রি বাস।
গাড়িতে উঠে নবদম্পতি, আমাদের সবাইকে শাসিয়ে ছিলেন, এই কথা যাতে না বেরোয়, তবে ১৮ বছর পর আর গোপন না রেখে পেশ করলাম সবার সামনে।