হঠাৎ করেই ইচ্ছা হলো কিছু লিখি… তাই আবার নিজের দেওয়াল ভরাতে কি বোর্ড হাতে নিলাম। হাবিজাবি যা ইচ্ছা হবে লিখবো। যারা পড়বেন, ভালো মন্দ যা মনে হয় জানাবেন।
বহু বছর আগে, আমার প্রিয় সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর লেখা একটু উষ্ণতার জন্য পড়েছিলাম, লাইব্রেরী থেকে নিয়ে। সে প্রায় বছর ১৮ আগের কথা, ভালো লেগেছিল, মনে আছে, কিন্তু কেন তা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাইনি। পরবর্তীতে ওনার লেখা কোয়েলের কাছে, সবিনয়ে নিবেদন বার বার পড়েছি, কিন্তু একটু উষ্ণতার জন্য অধরাই থেকে গেছে। আজ আবার উপন্যাস টি পড়লাম, আর ভালো লাগার কারণ টি বুঝলাম। সেই নিয়েই ভাবলাম কিছু লিখি। এই উপন্যাস পড়েই যে আমার একটি বহু বছর ধরে মনের গভীরে রেখে দেওয়া স্বপ্ন প্রথম রং নেওয়া শুরু করেছিল, সেই স্বপ্ন যা আমি আজও বুনে চলেছি, একা ,একা সঙ্গোপনে।
বহু বছর ধরেই, আমার ইচ্ছা, গভীর রাতে কোনো নাম না জানা স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে যাবো। হ্যালোজেন ভেপারের আলোয়, একটি রংচটা লোহার বেঞ্চিতে বসে রাত কাটিয়ে দেখতে পাবো, দূরে লাইন পেরিয়ে সূয্যিমামা উঁকি দিচ্ছেন। স্টেশনে পড়ে থাকা ঝরা পাতাকে মাড়িয়ে, রূকস্যাক কাঁধে পা বাড়াবো অধিকাংশ গ্রাম কিঞ্চিত শহরটির দিকে। শহর সীমানা ছাড়িয়ে চোখে পড়বে হাট বসেছে, মোষের দুধের চা, আর পকৌড়ি খেতে খেতে মোরগ লড়াই দেখবো। হাট ছাড়িয়ে আরো এগিয়ে একাকী একটি চার্চে গিয়ে চুপ করে বসবো, তারপর আরো পরে কাছেই একটি ছোটো বাড়ি ভাড়া করে থাকবো। সেখানে চার্চের ঘন্টা ধ্বনি শোনা যাবে মাঝে মাঝে। গভীর রাতে একাকী বিছানায় পাশ ফিরতে ফিরতে আমাকে সঙ্গ দেবে তীর বেগে ছুটে চলা ট্রেনের হুইসেল। শীতের সকালে, ভাড়া করা সাইকেল চালিয়ে চলে যাবো, দূর আদিবাসী দের গ্রামে। সারাদিন কাটিয়ে তাদের নাচে অংশগ্রহণ করবো, কাঁচা শালপাতার থালায় শুয়োর কষা, আর মেটে গেলাসে মহুয়া খেয়ে পূর্ণিমা রাতে, মেঠো পথ ধরে হেঁড়ে গলায় গান গাইতে গাইতে বাড়ি ফিরবো। পরদিন আমার সকালে ওঠা, কোনো কাজের তাড়া থাকবে না। অফিস, আড্ডা, ঘনঘন ফোনকল, মেসেজ, কোনো কিছু থাকবে না। নিজের জন্য, নিজেকে নিয়ে কয়েকটি দিন, বা মাস, বা বছর বাঁচবো।
আজ একটু উষ্ণতার জন্য পড়তে পড়তে ম্যাকলাক্সিগন্জের মধ্যে হারিয়ে, নিজের এই স্বপ্ন দেখা জায়গাটিকে বার বার মনে মধ্যে আঁকলাম।খুব ইচ্ছে করলো, তাই সবার সামনে একটু তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। ভুলভাল লেখা হয়েছে হয়তো, তাই আগেভাগেই ক্ষমা চেয়ে রাখলাম।