ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৯২

ফেরা

ছয় বচ্ছর আগের এক সকালবেলা উঠে দেখলাম, আর মাস তিনেকের মধ্যে, আমার একটা ফিক্সড, ম্যাচিউর করবে। অনেকদিন বড়ো কোনো ঘুরতে যাওয়া হয় নি। দেখলাম যা টাকা পাবো, রাজার হালে আমার আর শতাব্দীর ( আমার তৎকালীন স্ত্রী, এখন প্রাক্তন, এই ভ্রমণে যার ভূমিকা অনস্বীকার্য) লাদাখ ভ্রমণ হয়ে যাবে। তা হলে প্ল্যান করা চালু।
এবার ঘটনা হলো, অতো বড়ো ট্রীপে কেবল দুজন যাবো, এটা ভাবাটা বাতুলতা। আমার আর শতাব্দীর যা ট্র্যাক রেকর্ড ছিলো, বেড়াতে গেলে ঝগড়া হবেই। তাই সাথে যদি কেউ বা কারা যায়, অন্তত তাদের খাতিরে, আমরা এট লিস্ট ভদ্র হয়ে থাকবো। অতএব খোঁজো পার্টনার।
পার্টনার জুটেও গেল চটজলটি। আমার বন্ধু কাম দাদা অনিন্দ্য, তার স্ত্রী পিয়ালী, আর তাদের কন্যা একরত্তি পাখি। একদিন জমাটি আড্ডা কাম মিটিংয়ের পর দল তৈরী, এবার খোঁজ খবর লাগাতে হবে। শুরু হলো আমাদের একের পর এক বইপত্র কেনা, চেনা জানা কেউ লাদাখ গেছে শুনলে তাদের থেকে খোঁজ খবর নেওয়া। কারণ এ এমন এক জায়গা, যা অধিকাংশ ভ্রমণ পিপাসুর বাকেট লিস্টে থাকলেও, সশরীরে যাওয়ার সংখ্যা কম। অন্তত, সেই সময়ে। আর এখনকার মতো আমার পরিচিতের সংখ্যাও অনেক কম ছিলো।
এই করতে করতে টাকা ঢুকে গেলো অ্যাকাউন্টে। আরো উৎসাহ বাড়লো। কি কি নেবো, কত কি নেবো এইসব। কিন্তু বলে না, ম্যান প্রপোজেস অ্যান্ড গড ডিসপোসেস।অনিন্দ্য দাকে তার অফিস আবার কয়েকমাসের জন্য অনসাইটে পাঠিয়ে দিলো, ব্যস পিয়ালী ও পাখির যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেলো। আমাদের মাথায় হাত। সেই দুজন মিলে যাওয়াই হবে নির্ঘাত। তবে ভগবান যখন একদিকে বাঁশ দেন, অন্যদিকে কিছু ভালো জিনিস পাঠান। আউট অফ দ্য ব্লু মুন একজন সঙ্গিনী জুটে গেলো। এবং সেটা যিনি, তার কথা আমরা আগে কল্পনাও করিনি। তবে কল্পনার থেকেও যে বাস্তব মাঝে মাঝে মধুর হয়, সেটি এই ট্রীপে অনেকবার প্রমাণ দিয়েছিল, সেই মেয়েটি, যার নাম অনিন্দিতা। শতাব্দীর ছোটোবেলার বান্ধবী, আমার অর্কুটতুতো বোন আর সর্বোপরি, আমাদের বিয়ের ঘটক। তিনি যেভাবে আমাদের দলে এলেন, সেও এক কাহিনী বিশেষ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।