সোনমার্গ দিয়ে বালতাল যাবার রাস্তা। পথেই দেখা ঝিলম নদীর সাথে। মনে পড়ে গেলো আমার প্রিয় লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝিলম নদীর তীরে গল্পটি। কিভাবে রাতের অন্ধকারে এই নদী পেরিয়ে আলেকজান্ডার পুরু রাজাকে আক্রমণ করেছিলেন। একদৃষ্টে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে দুপুর হয়ে গিয়ে বাস দাঁড়িয়ে পড়েছে, খেয়াল করিনি। দেবনাথ দার ঝাঁকুনিতে বর্তমানে ফিরে এলাম। হ্যাঁ, বলো। আরে নীচে নাম, লান্চ খাবিনা? ও হ্যাঁ, তাও তো ঠিক। নামলাম। ঝিলমের ধারে একটি পার্ক। সেখানে গাছের নীচে বসে খাওয়া। রান্না শ্রীনগর থেকেই করে আনা হয়েছিল। যেতেই প্লেটে প্লেটে বেড়ে দেওয়া হলো। খিচুড়ি,আলু ভাজা, সব্জি আর চাটনি। খেয়ে, পার্কের পাশের বোল্ডার পেরিয়ে নদীর ধারে এলাম। এক আঁজলা ঠান্ডা জল মুখে দিলাম। এক অনন্য শিহরণ ছড়িয়ে গেলো সারা শরীরে যেনো। নির্মল দাও দেখি কখন পাশে এসে দাঁড়িয়ে আছে। জিজ্ঞেস করলাম, যে রাস্তা দিয়ে আমরা চলেছি সেটি কোথায় যাচ্ছে। নির্মলদা বললেন এটিই এন এইচ ওয়ান.. শ্রীনগর থেকে লেহ চলেছে ভায়া কার্গিল। তার মানে এটাই সেই রাস্তা, যার দখল নিতে চেয়ে পাকিস্তানে হামলা করেছিল। যার ফলস্বরূপ কার্গিল যুদ্ধ। আমাদের সেনাবাহিনীর সেই প্রবল পরাক্রম, অনেক আত্মবলিদান। মনে ভাবি, একবার এই রাস্তা দিয়ে কার্গিল যাবো, তারপর সম্ভব হলে লেহ।
অমরনাথ যাত্রার ৫ বছর পরে সেই রাস্তা দিয়েই লেহ থেকে শ্রীনগর ফিরে ছিলাম। কিন্তু সে অন্য গল্প।
সর্দার জির হাঁকাহাঁকি তে আমরা বাসে এসে উঠি। আর বেশি পথ বাকি ছিলো না। দুপুর আড়াইটা নাগাদ এসে পৌঁছে যাই বালতাল ক্যাম্পে। জঙ্গি হানার ভয়ে এখানকার কঠোর নিরাপত্তা। অনেক বড়ো এয়ারপোর্ট কে সিকিউরিটি নিয়ে টেক্কা দেবে। একগাদা চেকিং, পাল্টা চেকিং এর পর ছাড়া মেলে। গেট পেরিয়ে ক্যাম্পে ঢুকি। সারি সারি লঙ্গরখানা, আর এখানে সেখানে স্যুইস টেন্ট পাতা। তার একটিতে মালপত্র সমেত ঢুকি। বাকি বিকেল শরীর মানানোর প্রস্তুতি, তারপর পরদিন ভোর তিনটের সময় বাবার কাছে যাত্রা।