টুকু কাকিমা আর আমি যখন ডাল লেকের ধারে এসে সবে বসেছি, মিত্র জেঠু ও জেঠিমা এসে হাজির। দলে চার জন হয়ে যাওয়ায় অনায়াসেই একটি শিকারা পাওয়া গেল। স্বচ্ছ, কাক চক্ষু ডাল লেকের জল বেয়ে শিকারা চলতে থাকলো। আশেপাশে টুরিস্ট দের ভিড়, ফেরিওয়ালাদের ও কমতি নেই। কেউ বিক্রি করছে কাশ্মীরী চা কাওয়া, কেউ মৃগনাভি, কেউ শাল আরো কত কি। আমরা কেউই এর আগে কাওয়া খাইনি, তাই শিকারায় বসে এক এক কাপ খেয়ে দেখলাম। দারুন লাগলো। এর মাঝে এসে হাজির কাশ্মীরের পোশাক নিয়ে এক মাঝি। আমরা স্হানীয় পোশাকে সজ্জিত হয়ে ছবি তুললাম। এই ছবি তোলা নিয়ে একটু মজাও হলো।
মিত্র জেঠু ও জেঠিমা, দুজনেই সেজেছে। কাশ্মীরী পোশাকে জেঠিকে দেখে জেঠুর সহাস্য উক্তি- আমি আবার প্রেমে পড়ে যাচ্ছি। জেঠিমা কপট রাগ দেখিয়ে বললো… ঢংং। আমি আর টুকু কাকিমা হেসে কুটোপুটি। আমার মনে একটা গোপন ইচ্ছা ছিলো যে পাশে একজন কাশ্মীরী সুন্দরী কে নিয়ে ছবি তুলবো, কিন্তু ওখানে কি ভাববে আর বাড়ি ফিরে কি ঝাড় খাবো একজনের কাছে ভেবে ক্ষান্ত দিলাম। লেকের মধ্যেই ভাসমান বাজার, সেখানে খানিকটা ঘুরে, টুকিটাকি জিনিস কিনে, ব্যাক টু হোটেল। লান্চ সেরে লম্বা ঘুম।
বিকেলে আমাদের যাওয়ার কথা ছিলো শ্রীনগরের বিখ্যাত তিন বাগানে, কিন্তু বাসের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায়, সেটা আর হলো না। আমরা কয়েকজন অটো নিয়ে শংকরাচার্য মন্দির ঘুরে এলাম। সেখানে আলাপ হলো আর্মির এক মেজরের সাথে। মুগ্ধ হলাম তাঁর সাথে আলাপচারিতায়। জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য, চিত্ত ভাবনাহীন, কথাটি যেন তাঁদের জন্য কবি লিখে গেছেন কোন কালে। আমাদের শুভেচ্ছা জানালেন উনি, যেন নির্বিঘ্নে আমরা ভগবান দর্শন করে ফিরে আসি। তাঁকে বিদায় জানিয়ে আমরা হোটেল ফিরলাম, পরদিন যাত্রা, গন্তব্য বালতাল ক্যাম্প।