ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৮৬

ফেরা

বদ্রীবিশালের পুজো সাঙ্গ হলো। এবার পিন্ড দানের পালা। মন্দিরের সীমানার মধ্যেই, অলকানন্দা নদীর ধারে প্রশস্ত এক চাতাল। এটিই ব্রহ্মোকপোল। এখানেই এবার আমার সেই কাজের পালা, যার ভার বাবা দিয়ে গেছেন অনেক বছর আগেই।
ব্রহ্মোকপোলে পৌঁছে আগে পুরো হিতের সাথে কথা সেরে নি। আমি আর যে কাকিমা পিন্ড দান করবো তপ্ত কুণ্ডের কাছে যাই। মন্দির কতৃপক্ষ দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন কুন্ড কে। ছেলেদের আর মেয়েদের হিসেবে। নিজের ভাগে পৌঁছে, অধিকারী কাকুর হাতে জামা কাপড় দিয়ে, গামছা পড়ে যখন কুণ্ডের ধারে দাঁড়াই, তখন কনকনে ঠান্ডায় হি হি করে কাঁপছি। কিন্তু জলে নামতেই ম্যাজিকের মতো সব কষ্টবোধ উবে যায়। মন ভরে স্নান করি, ডুব দি। যা ব্যাথা বেদনা সব যেন উধাও হয়ে যায়। পাড়ে উঠে জামা কাপড় পরি।এবার পুজোয় বসার পালা।
গরম জলে স্নান সেরে শরীর মন তরতাজা হয়ে উঠেছে। পুরোহিত মহাশয়ের গমগমে গলায় মন্ত্র বলার সাথে সাথে বাবাকে স্মরণ করি, তার অনুরোধ মতো কাজ সারি। এক ঘন্টার মধ্যে পুজো শেষ হয়। এরপর নদীপারে যাই পিন্ড ভাসাতে। এতোক্ষণ যেন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। কনকনে ঠান্ডা জলে চমক ভাঙে। পিন্ড ভাসিয়ে দি। বুঝতে পারি চোখ ঝাপসা হয়ে উঠেছে।
মনে মনে বাবাকে বলি, ছেলে হিসেবে যা কর্তব্য চেয়েছিলে,সেটা পালন করে মুক্তি দিলাম তোমায়। আর তো কিছু দিতে পারিনি কোনোদিনই, আর পারবোও না। যেখানে থেকো, ভালো মনে থেকো। কেন এত তাড়া ছিলো মায়ের কাছে চলে যাবার? আমার যে আরো অনেক বছর দরকার ছিলো তোমাদেরকে।
নদীপাড় থেকে উঠে আসি। অধিকারী কাকুকে সাথে নিয়ে সংঘের দিকে পা বাড়াই।

লিখতে লিখতে এতো বছর পরেও টের পেলাম… কখন আবার চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে।।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।