ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৫২

ফেরা
বদ্রীনাথে সকাল কাটিয়ে এবার ফেরার পালা। আমরা ঠিক করলাম, সেদিন ধারেকাছে ঘুরে নেবো। পরদিন যোশীমঠে রাত্রি বাস ও আউলি ভ্রমণ। তারপর দিন সিধা হরিদ্বার।
যে ভাবা সেই কাজ। ঝটিতি লাঞ্চ সেরে গাড়িতে ওঠা। গন্তব্য মানা। ভারত তিব্বতের পথে শেষ গ্রাম। যত এগোচ্ছি, নদীর রূপ ভয়াল হয়ে উঠছে। তবে যাত্রা বেশী ক্ষণের নয় এই যা। গ্রামে ঢুকতে এখানকার অধীবাসীরা আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন। এখান থেকে আর ২৬ কিলোমিটার গেলেই তিব্বত। একসময় এনাদের পূর্বসূরীরা তিব্বতের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য চালাতেন, এখনো যে কেউ কেউ যান না, এটা বলা কঠিন। তবে গ্রামের পরিবেশ মনোমুগ্ধকর। আমরা বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করলাম, তারপর পায়ে পায়ে এগিয়ে চলা ব্যাস গুহার দিকে। কথিত আছে এখানে বসেই ব্যাসদেব মহাভারত রচনা করেছিলেন। কাছেই গণেশ গুহা, লেখার সময় যেখানে গণপতি দেব অবস্থান করতেন। চারিদিক দেখে আবার ফেরার পালা। সংঘে ফিরে সব জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া, পরদিন আর আনপ্যাক করার দরকার নেই বলে।
এক কাপ চা হাতে বাইরে গিয়ে দাঁড়ালাম! তিন ধাম যাত্রা শেষ, আবার হয়তো কৈনোদিন ফিরবো চার ধাম ঘুরতে। বিধাতা বোধহয় অলক্ষ্যে হেসে ছিলেন, সাত বছর পর আবার ফিরে ছিলাম।