ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ১১৬

ফেরা

লেহ আসতে আর ৪০ কিমি মতো বাকি। একটা ধাবায় দাঁড়িয়ে লাঞ্চ সারলাম আমরা। সাথে কর্মা ভাইয়াও। তাঁর হাতে ততক্ষণে আমরা নিজেদের ভার সঁপে দিয়েছি। পুরো লাদাখ ঘোরানো ওনার দায়িত্ব, আমরা আর কোনো চিন্তা করবো না। উনি যেখানে নিয়ে যাবেন, যেখানে থাকাবেন, আমরা রাজি।
আজ যখন সাত বছর পর লিখতে বসেছি, তখন বুঝি, ঐটা আমাদের শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত ছিল। কি নিশ্চিন্তে, আদর আর যত্নে আমাদের লাদাখ ভ্রমণ কেটেছিল, তার কোনো সীমা পরিসীমা ছিলো না। এত বছর পরেও আমাদের দলের একজনের সাথে কর্মা ভাইয়ার যোগাযোগ আছে। কিন্তু সে প্রসঙ্গে আবার পরে।
ধাবার একটু আগে থেকেই যার যার ফোনে সিগন্যাল চলে এসেছিল। যে যার বাড়ি ফোন করে নিলাম। খেয়ে দেয়ে আর এক ঘন্টার মধ্যে লেহ।
সেদিন আর কোথাও ঘোরার প্ল্যান নেই। খালি একটা ভালো হোটেলে বডি ফেলার অপেক্ষা। প্রথম যে হোটেলটায় কর্মা নিয়ে গেল, সেটা বেশ নামকরা। অধিকাংশ বাঙালীরা ওখানে এসেই থাকে। ভাড়া ৩০০০,কিন্তু ঘর বেশ ছোটো। দুজন হলে ঠিক ছিলো, কিন্তু তিনজন, একটু স্পেস প্রবলেম হলো। স্বভাবতই, আমরা বেরিয়ে এলাম।
কর্মা এরপর নিয়ে গেল, মেন রোড থেকে একটু ভেতরে। এখানে মুলতঃ বিদেশী ব্যাকপ্যাকাররা থাকে। আমাদের সাথে যেহেতু গাড়ি থাকবে, বড়ো রাস্তায় আসার কোনো অসুবিধা নেই। আর যখন গাড়ি থাকবে না, তখন ধারে কাছেই ঘুরবো।
একটা বেশ বড়ো হোটেলের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে, আমি আর কর্মা ভেতরে গেলাম। মেয়েরা গাড়িতেই থাকলো।
বম্বে হোটেল। ম্যানেজার ইউপির ব্রাম্মন, আমাদের সাদর অভ্যর্থনা জানালেন। দলে তিনজন শুনে একটা ঘর দেখালেন তিনতলায়।
উফফ সে কি ঘর। বিশাললল। চারটে বড়ো বেড। একটা বিশাল এলসিডি টিভি লাগানো। চারদিকে জানালা। নীচে প্রশস্ত লন, আর পাশেই পাহাড় চূড়োয় বরফ উঁকি মারছে। বাথরুমটাও চরম, বাথটাব দেওয়া।
ঘর তো তুমুল পছন্দ, কিন্তু ভাড়া কতো? মনে মনে ততক্ষণে হিসাব করছি, চার হাজার অবধি উঠবো পার ডে, তারপর দেখা যাবে। ম্যানেজার অপেক্ষা করছিলেন, ভাড়া জিজ্ঞেস করলাম। ম্যানেজার গম্ভীর মুখে জানালেন, উনি যে রেট দেবেন, তার কম দিতে পারবেন না, আমি যেন অযথা দরদাম না করি। বুক ভরা আশা ধুকধুক করছে। তাও একরাশ চোখে আশা, আর মগজে একগাদা হিসেব নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম।
পার ডে উস রুম কে লিয়ে ১৬০০ রুপায় লাগেগা।
কতোওওও??
১৬০০.
এ কেরে!! লোকটা পাগল না সিপিএম??
ঠিক সে বোলিয়ে।
বোল দিয়া ১৬০০ রুপিয়া। উসসে এক পয়সা কম নেহি।
আর কম!! ততক্ষণে হাত পার্সে ঢুকে কার্ড বার করে এনেছে।
তিনদিনকা পুরা পেমেন্ট লে লিজিয়ে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।