ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৫৮

ফেরা
২০১০ সালের মার্চ নাগাদ, দাদু আমাকে ডেকে বলেন যে আমার এক পিসি, যাঁদের সাথে আমি আগেরবারের কেদার বদ্রী গেছিলাম জুন মাস নাগাদ ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার যাবেন। আমি চাইলে ওনাদের সঙ্গে যেতে পারি। ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার ঘুরে ওনারা মাঝে কোথাও দুদিন বিশ্রাম নেবেন, সেই সময় আমি বদ্রী তে গিয়ে বাবার কাজ সেরে ওনাদের সাথে ফিরে আসবো। মোদ্দা কথা, দাদু আমাকে একা ছাড়তে নারাজ, আত্মীয়দের সাথে গেলে উনি নিশ্চিন্ত। আমার কাকা কাকিমার ও একমত।
ঠিক, ওনাদের সাথে গেলে এনারা নিশ্চিন্ত। কিন্তু আমি নয়। আগের বদ্রী ট্রীপের মাঝে সাত বছর কেটে গেছে। আমি ততদিনে তিন বছর একা বাইরে থেকে, আর চাকরি করে স্বাবলম্বী। যাঁরা যাচ্ছেন, সবাই বয়স্ক। আর আমি চিনি, কিছু ব্যাপারে অত্যন্ত গোঁড়া। আগে হতো, কিন্তু তখন খাপ খাওয়ানো ছিল বড়োই চাপের ব্যাপার। তাই আমি একেবারেই রাজি ছিলাম না। এছাড়া আমি তখন ধুমপানে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। বড়ো দের সামনে বা বার বার অন্য কোনো অজুহাতে দূরে গিয়ে ধুমপান, নৈব নৈব চ। তাই মোটামুটি নিজেই ডিশিসন নিলাম, সোলো ট্রীপ করবো।
কিন্তু ঐ যে বলেনা বাবার আশীর্বাদ। আমি যে যাবো, সেটা অনেক আত্মীয়রা জানতেন। আমার এক পিসি এবার প্রস্তাব দিলেন, ওনাদের এক চেনা ট্র্যাভেল এজেন্সি আছে, যাদের ওনার প্রায় ঘরের লোকের মতো সম্পর্ক। বহুবার গেছেন, খুব ভালো বন্দোবস্ত, কোনো অভিযোগ নেই। আর সেই এজেন্সি জুন মাসেই যাচ্ছে চারধাম। আমি তাদের সাথে গেলেই বরং ভালো।
বাড়ির লোক রাও আর আপত্তি করলো না। গৌর ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস এর অন্যতম কর্ণধার, শ্রী নির্মল চক্রবর্তীর সাথে পিসি ফোনে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এক রবিবার সকালে, গিয়ে পৌঁছলাম তাঁদের বাঁশদ্রোণীর অফিসে। সব দেখে শুনে নিতে হবে তো।