সাপ্তাহিক ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন (শেষ পর্ব) 

ফেরা

শ্রীনগরে দুইদিন ঝড়ের গতিতে কেটে যায়। আমার সতীপীঠ দেখার আগ্রহ থাকায় প্রথম দিন গাড়ি ভাড়া করে ক্ষীর ভবানী মন্দির দর্শন করে আসি। আর শ্রীনগরের তিনটি বাগান, যা আগেরবার আমার অধরা ছিলো। নানা ফুলের সমারোহ চোখ ধাঁধায়। তবে, কিন্তু…
অতো যে সুন্দর ভূস্বর্গ… লাদাখ দর্শনের পর কেমন জোলো পানসে লাগে… লাদাখ যে আরো কতো গুণে সুন্দর…
তৃতীয় দিন, একগাদা সিকিউরিটি চেক, দিল্লীর সাত ঘন্টার লে ওভার খতম করে যখন নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে ফিরি, তখন রাত এগারোটা। পরিচিত বিছানায় শুয়ে, বারবার স্বপ্নের দিনগুলো, মনে আসে….
তারপর…
তারপর সাত বছর কেটে গেছে। জীবন দেখেছে অনেক ভাঙা গড়া। তিনজনের টিমে, এক অনিন্দিতা ব্যতিক্রম, যার সাথে বাকি দুজনের এখনো সখ্যতা আছে। বাকি দুইজন? জীবন তাদেরকে শত সহস্র যোজন দূরে সরিয়ে দিয়েছে, এই জীবনে তাদের আর দেখা হবার কোনো সুযোগ নেই…. বলা বাহুল্য, ইচ্ছাও নেই।
তাও, যখন এই লেখা শুরু করেছিলাম, কিছুটা হলেও তো ছুঁয়ে দেখলাম সেই স্বপ্নের দিনগুলো। যতো দিন গেছে, অনেক ভেবে চিন্তে লেখা সাজিয়েছি, গুছিয়েছি, যাতে কোনোভাবে এই লেখার মাধ্যমে কাউকে কোনো আঘাত না দেওয়া হয়। যা লিখেছি, সব সত্যি, কিন্তু কিছু আছে, যা দিনের তারার মতো সূর্যের ঔজ্জ্বল্যে ঢাকা পরে গেছে, রাতে ফুটে ওঠার কোনো সম্ভাবনাই তাদের আর নেই।
এখন বাংলা ছেড়ে পশ্চিম মুলূকে এক নামকরা শহরের বাসিন্দা আমি। জানি না, আবার কবে লাদাখ যাবো। বড়ো ছুটি পেলেই তো মন চাইবে বাড়ি ফিরতে, বুড়ো শহরটার কাছে। কিন্তু একবার হলেও, আবার ফিরতে চাইবো সেই শান্ত সুন্দর ফেলে আসা পাহাড়ি অঞ্চলে। ফিরতে যে আমাকে হবেই……

শেষ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।