সাপ্তাহিক ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন (পর্ব – ১২৩)

ফেরা

লাদাখি শো আর ঝকঝকে তারা ভর্তি আকাশ দেখে আনন্দ যেমন হয়েছিল, গাড়িতে ওঠার পর একটা প্রবল টেনশনে ব্যাপারটা কেমন ঘেঁটে গেল।
ঘটনাটা হলো, হাই অল্টিচিউডের কারণে, আমি ধূমপান কম করলেও, দিনে গোটা পাঁচেক খাচ্ছিলাম, বিশেষত সকালে আর রাতে বাথরুম গেলে। রাতে না হলেও যদি বা চলতো, সারাদিনের ধকলের আগে, সকাল বেলা পেট ক্লিয়ার হওয়া অতি মাত্রায় দরকার ছিলো। এবং তার জন্য সাদা কাঠির ভূমিকা অনস্বীকার্য। এবার আমি জানবো কেমন করে যে গোটা নুব্রা তে সিগারেট নিষিদ্ধ। তুমি খেতে পারো, কিন্তু কিনতে পারবে না। কোনো দোকানে সিগারেট রাখে না। এক ভরসা মরুভূমির ধারে আর্মি ক্যাম্প। দুপুরে নুব্রা পৌঁছে যখন খাওয়ার পরে বরাদ্দ সিগারেট শেষ করলাম, তখন দেখি প্যাকেট শেষ। আশেপাশের কোনো দোকানে না পেয়ে কারণটা জেনেছিলাম, তবে ঘাবড়াইনি, কারণ কর্মা বলেছিল, ফেরার সময় আর্মি ক্যাম্প থেকে কিনিয়ে দেবে।
হা হতোস্মি!! শো দেখার চক্করে দেরি করে আর্মি ক্যাম্প এলাম তখন রাত আটটা। শুনলাম আধ ঘন্টা আগে ক্যাম্প ঝাঁপ বন্ধ করেছে। এবার আগামী কাল একটা লম্বা জার্নি, তার আগে পেট ক্লিয়ার না হলে কি হবে ভেবেই শিউরে উঠছি।
হোটেলে পৌঁছে মহিলারা চলে গেল রুমে, আমি গুম মেরে লনে বসে থাকলাম। কি করবো জানি না।
ক্যা বাবু সাহেব, কোই দিক্কত? হোটেলের সাপোর্ট স্টাফ, আমার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে। তাকে বলি সমস্যার কথা। শুনে একে তাকে ফোন করে বলে, ওর বন্ধু, এক লোকাল অটোওয়ালার কাছে কয়েক বান্ডিল বিড়ি আছে, আমি চাইলে সে আমাকে গোটা দশেক দিতে পারবে, তবে একশো টাকা লাগবে।
বিড়ি, আচ্ছা তাই সই। যদিও গলাকাটা দাম তবু আগামীকালের জার্নির জন্য মেনে নি। মনে ভাবি, ভালো তো, পাহাড়ি তামাক, বেশ নতুন অভিজ্ঞতা হবে।
অটোচালক আসেন। গম্ভীরমুখে একটা প্যাকেট আমার হাতে দিয়ে চলে যান। বিজয়োল্লাসে ঘরে ফিরে আলোর নীচে মোড়ক খুলি।
দেখি বড়ো বড়ো করে লেখা…
হাওড়া বিড়ি, বাংলা হরফে।
বাংলা কুটির শিল্পের ঐ দূর্গম দেশে এ হেন রমরমা দেখে, খুশি হবো না দুঃখ পাবো…

ঠিক বুইতে পারি না।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।