আগের বছর বা তার আগের চারধাম যাত্রা করে মনে বেশ কনফিডেন্স ছিলো যে অমরনাথ যাত্রাও সেরকম হবে। হয় ঘোড়া নয় বাঁধানো পথে ট্রেক। কিন্তু সেদিন সহিসের কথা শুনে সামনের দিকে তাকিয়ে যে চমক খেলাম, সেরকম চমক ততদিনের জীবনে খুব কমই খেয়েছি। এতোক্ষণ যে প্রায় বাঁধানো রাস্তা ধরে চলছিলাম, তার চিহ্ন মাত্র নেই। হ্যাঁ, একটা পথ রেখা রুপে এগিয়েছে বটে, কিন্তু সেটা কাদার একটি দঙ্গল। সেটা পার হতে গেলে মিনিমাম হাঁটু অবধি ডুবিয়ে, তার মধ্যে দিয়ে চলতে হবে। একটা দুটো বড়ো পাথর, মাঝে মাঝে হাত দিয়ে ধরে ব্যালান্স করতে হবে, না হলে কাদায় সাঁতার কাটতে হবে। জুতোর দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে জিন্স গোটাতে শুরু করলাম। তারপর জয় বাবা অমরনাথ বলে এগোলাম। এক পা এক পা করে এগোচ্ছি। কখনো হাঁটু ভুস করে ডুবছে, আবার কখনো আছাড় খেতে খেতে কোনোমতে সামলাচ্ছি। একবার পাথর ধরে সামলাতে গিয়ে কনুইয়ের কাছ ছড়ে গেলো। প্রায় এক কিলোমিটার মতো এই ভাবে চলার পর আবার শুকনো রাস্তা। আমাদের দলের অনেকেই দাঁড়িয়ে সেখানে, কারুর অবস্হাই আর কহতব্য নয়। দুজন আছাড় খেয়ে সারা শরীর ভিজিয়েছে। আবার একটু দাঁড়ানো, এক কাপ চা, একটি সিগারেট, আবার পথ চলা। সহিস জানালেন এরকম সামনে আরো অন্তত বার ছয়েক আছে। কিন্তু এগিয়ে যখন পড়েছি ভাই, থামলে তো আর চলবে না, তাই চরৈবেতি। একবার ঘাড় তুলে দেখলাম, আমার থেকে দশ তলা মতো উপর দিয়ে লোক চলেছে, মনে ভাবলাম যে ঐখানে পৌঁছে গেলেই সিদ্ধিলাভ, যদিও অনেক কসরত করে যখন সেখানে গেলাম, উপরে তাকিয়ে, ধুক করে নিভে গেলো বুক ভরা আশা। দেখলাম তারো প্রায় দশ তলা ওপর দিয়ে লোক যাচ্ছে। কি আর করা, এগিয়ে যাই। দশটার মধ্যে অমরনাথ গুহার বেসে পৌঁছনোর কথা ছিলো, শুকনো মুখ, কালো জিন্স কাদায় সাদা, জুতোর কথা না হয় ছেড়েই দিলাম, শরীর ভেঙে পড়ছে, যখন পৌঁছে গেলাম তখন ঘড়ি বলছে বেলা একটা। এবার আর ঘোড়া চড়ার কোনো অপশন নেই, সামনের দুই কিলোমিটার, স্রেফ পয়দল।একটি ছোটো দোকানে, হাত মুখ ধুয়ে, পার্স, বেল্ট সব জমা রেখে, দলের বাকিদের সাথে এগোই।মিত্র জেঠু আর জেঠিমা বলা যায় আমার হাত ধরে, আর বাকিরা এগিয়ে পিছিয়ে।