ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৯৩

ফেরা
ততদিনে আমি পুরো প্ল্যান সাজিয়ে ফেলেছি। কোলকাতা থেকে রাজধানী করে দিল্লি, যে বেলা পৌঁছবো, সেই বেলা একটু রেস্ট আরেকটু ঘোরাঘুরি, তারপর রাতের ভলভো ধরে মানালি। দুই দিন অ্যাক্লেমেটাইজেশন করে মানালি থেকে লে। লাদাখ ঘোরা শেষ করে এক রাত কার্গিলে কাটিয়ে পরদিন শ্রীনগর। সেখানে ঐ লম্বা ট্রীপের ধকল সামলাতে দুই দিন টানটান বিশ্রাম। শেষ লগ্নে আকাশপথে কোলকাতা। তার পরের দিন অফিস। যে কটা দিন ছুটি নিয়েছি দুজনে যথেষ্ট। এর ফাঁকে একদিন অফিস থেকে বেরিয়ে টিকিট কেটে আনলাম রাজধানীর।
এবার একটা ঘটনা হলো। আমরা তখন থাকতাম নিউটাউনে। কাছেই সল্টলেকের বাসিন্দা অনিন্দিতা। ওর বাড়িতে মাঝে মাঝেই আড্ডা আর পাত পাড়ার আমন্ত্রণ হতো। সেই রকম এক রবিবার বিকেলে, আমরা তিনজন আর অনিন্দিতার বাবা মা আড্ডা মারছি, হঠাৎই অনিন্দিতা ওর মাকে বললো, যে ও আমাদের সাথে লাদাখ যেতে চায়। ওর বাবা মায়ের কোনো আপত্তি আছে কি না। ওর বাবা মা প্রথমে স্তম্ভিত, তারপর আরো বেশ খানিকটা আলাপ আলোচনা সারার পর মত দিলেন ঠিক ই, কিন্তু একটা সমস্যা দেখা দিলো। অনিন্দিতা ঘোরতর নিরামিষভোজী, পেঁয়াজ পর্যন্ত খায় না। যদি রোজ ওর ঠিক মতো খাওয়ার না জোটে? অনির অবশ্য প্রবল উৎসাহ, সে বলছে একদিন অন্তর জুটলেও ক্ষতি নেই। আমরাও কথা দিলাম, যদি আমাদের জোটে, ওর ও রোজ জুটবে। এবং গোটা সফরে কারুর একফোঁটা অসুবিধা হয়নি। খালি একদিন অনি যোগী বোল নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল। কিন্তু সে কথা যথাসময়ে।
বাবা মা গ্রীন সিগন্যাল দিতেই অনি আর দেরী করেনি, পরেরদিন দিল্লি রাজধানীর টিকিট কেটে নিল। প্রবল উৎসাহে তখন ফুটছি আমরা, আর নিজেদের প্রস্তত করছি, এক স্বপ্ন সফরের জন্য।।