ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ১১৯

ফেরা
দোতলা একটি বিশাল ক্যাফে। আমরা দোতলায় গিয়েই বসলাম। হাল্কা ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে, মৃদু স্বরে লাইট মিউজিক বাজছে, দূরে পাহাড়ের গায়ে একটা একটা করে আলো ফুটে উঠছে বাড়িগুলোর জানালায়। দারুন পরিবেশ। এবার কি খাওয়া যায়?
হেই! আর ইউ বেঙ্গলি? ওয়েটার সামনে এসে দাঁড়ায়। চেহারা দেখে বুঝি, স্থানীয় লোক নয়। লম্বা একহারা চেহারা। চুল, দাঁড়ি গোঁফ কামানো। মাথায় আবার একখানা টিকি। জানতে পারি, বিদেশি কোনো এক গ্রামের ছেলে। এখানে বেড়াতে এসে জায়গার প্রেমে পড়ে আপাতত এখানেই থাকছে। এখানে কাজ করে আর এদিক সেদিকে ঘুরে বেড়ায়। বেশ ভালো ব্যাপার। জিজ্ঞেস করি কি পাওয়া যাবে। লম্বা ফিরিস্তি দেয়। দেশী বিদেশী নানা রকম খাবার। কিন্তু প্রথম দিন সাহস হয় না। আমি আর শতাব্দী অর্ডার করি পাইন্যাপেল পোলাও আর চিকেন কষা। কিন্তু অনি কি খাবে?
ওয়েটার কে বলি, পুরো নিরামিষ, পেঁয়াজ রসুন ছাড়া কি পাবো? বলে নো প্রবলেম। ইয়োগি বৌল নিতে। ইয়োগি বৌল? সেটা আবার কি বস্তু? শুনি, স্পেশাল থালি একখানা, এখানে ইসকনের অনেকে বেড়াতে আসেন, তাদের খুব প্রিয়। ভাল ব্যাপার তো। এক থালি অর্ডার করে দি। ওয়েটারের নাম জিজ্ঞেস করতে চোখ মটকে বলে, বাঙ্গালীজ কল মি বাবুমশাই।
খাবার আসে। আমাদের খাবার দেখতে শুনতে ভালোই। কিন্তু ইয়োগি বৌল দেখে তিনজনেরই আক্কেল গুড়ুম।
একটা বিশাল থালা। তাতে কিছু সব্জি সেদ্ধ। মায় বেগুন ও সেদ্ধ। সেটাকে আবার ফালি করে ভাজার মতো কাটা। আলু ম্যাশড। একটা রুটি। একটা কিসের জানি সেদ্ধ। একটা স্যালাড টাইপের কিছু। এর দাম ৪০০ টাকা!! সে যে কি বিভীষিকা। তাও তিনজন মিলেই হাত লাগাই। সিম্পলি অখাদ্য। কোনোমতে নুন গোলমরিচ মিশিয়ে খাই সবাই। বেরিয়ে কেক টেক কেনা হয়। অনির রাতে খিদে পেলে খাবে। মিথ্যা বলবো না, আমাদের খাওয়ার টা ভালোই ছিলো। তবে ঐ বৌলের হতাশায় এক ফোঁটা এন্জয় করতে পারিনি।
হোটেলে ফিরি। গত কদিনের ধকল, শরীরে ঘুম টেনে আনে। অঘোরে ঘুমিয়ে পড়ি তিনজনেই। একঘুমে রাত কাটিয়ে ঘুম যখন ভাঙে, তখন পাশের পাহাড়চূড়ায় দেখতে পাই সূয্যিমামার আল্পনা।