সাপ্তাহিক ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন (পর্ব – ১৩১)

আবার সেই সিন্ধু, আবার সেই বালতাল। মনে পড়লো অমরনাথ যাত্রার সময় এসে হাঁ করে তাকিয়ে ছিলাম কার্গিল হাইওয়ের দিকে। আজ সেই হাইওয়ে দিয়েই আমরা নামছি শ্রীনগরের দিকে।
বালতাল চলে যায় ঝড়ের গতিতে। জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখি নীচে সেজে উঠছে সারসার তাঁবু, তীর্থ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে। মনে পড়ে পাঁচ বছর আগের সেই সোনাঝরা দিনগুলোর কথা।
সোনমার্গ এসে গাড়ি থামে। একটা রেস্টুরেন্ট খুঁজে দুপুরের খাবার খাই সবাই।
আপলোগকো কাঁহা উতারনা হ্যায়? প্রশ্ন করে ড্রাইভার।
ওকে বলি ডাল লেকের সামনে ছাড়তে। আগেরবার ওখানেই ছিলাম। এবারও তাই থাকবো। বস্তুত বাঙালীরা অধিকাংশ ওখানেই থাকে।
হোটেল বুক কিয়ে?
নেহি। যাকে ঢুন্ড লেঙ্গে।
সেইমতো আরো ঘন্টা তিন পর ডাল লেকের সামনে পৌঁছে যাই। এবার হোটেল খোঁজার পালা। একটা হোটেলে ঘর দেখি। ২৫০০ টাকা ডেইলি, ভালো, তবে ছোটো।
সেই হোটেল থেকে বেরিয়ে, পাশের হোটেলে ঢুকতে যাবো, চোখ যায় সামনে। শান্ত ডাল লেকের উপর সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রাজকীয় সব হাউসবোট।
মন উশখুশ করে। আগেরবার ট্যুর কোম্পানী নিয়ে এসেছিল, তাই তাদের ঠিক করা হোটেলে ছিলাম। তবে মন চেয়েছিল হাউসবোটে থাকার। হয়নি। পরবর্তীতে কেরালা ব্যাক ওয়াটারে হাউসবোটে ছিলাম। তবে ডাল লেকের চার্ম আলাদা। হিসেব করে দেখি, যে টাকা হোটেল বাজেট করেছিলাম, তার মধ্যে হাজার পনেরো ষোল বেঁচে। তিন রাত থাকা, পাঁচ হাজার ডেইলি করে হলেও এফোর্ড করতে পারবো। একটা চান্স নিলে কেমন হয়?
মেয়ে দুটো শুনে এক পায়ে রাজি। পাড়ে দাঁড়ানো শিকারার সাথে কথা বলি। সে একশো টাকা নেবে, আমাদের কয়েকটি হাউসবোট দেখাবে। যদি পোষায় থাকবো নাহলে পাড়ে নেমে হোটেল খুঁজবো।
ড্রাইভারকে ছেড়ে মালপত্র নিয়ে তিনজনে নৌকাবিহারে চলি। প্রথম যেটায় যাই, একটা পুঁচকে হাউসবোট, আমরা পুরোটা নিয়ে থাকবো, তবে বড়ো নোংরা। পরের টায় গিয়ে উঠি।
এটা দেখেই পছন্দ হয়ে যায়। বিশাল। আর তেমনি কারুকাজ করা। ড্রয়িং, ডাইনিং, বাইরের সিটিং এরিয়া ছাড়াও দুটো ছোটো, আরেকটা বিশাল ফোর বেড রুম। ছোটো রুমে একজন প্রৌঢ় বাংলাদেশী, একটা রুম খালি, আর বড়োটা আমরা নিয়ে নি। তিনদিনের জন্য ব্রেকফাস্ট লাঞ্চ সহ, ৭৫০০ টাকা। জ্যাকপট!!
ঘন্টাখানেক পর, ডেকে বসে কাওয়ায় চুমুক দিতে দিতে, বাকেট লিস্টে থাকা একটা ইচ্ছাকে পূরণ হিসেবে চিহ্নিত করি।