ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৬১

ফেরা
সেদিন রাত্রে ট্রেনে উঠে এক দুজনের সাথে আলাপ করতে করতেই সময় চলে গেল। অধিকারী কাকু, বয়েস প্রায় ৫৬-৫৭, স্ত্রী ও বিধবা শ্যালিকা কে নিয়ে চলেছেন আমাদের সাথে। আছেন পঙ্কজ দা, বয়স ঐ ৫০-৫২। সাথী স্ত্রী ও দিদি। পঙ্কজ দা খুব মজাদার মানুষ, বৌদিও তাই। দিদি একটু রাশভারী, এক হসপিটালের হেড মেট্রন। পরে আমার সাথে খুব জমে গেছিলো। এক কাকিমা চলেছেন তাঁর স্বামী ও দেওর কে নিয়ে। স্বামীর বয়স হয়েছে, শান্ত মানুষ, আস্তে আস্তে গল্প করেন। তাঁর ভাই, তাঁরো বয়স ষাটের উপরেই একদম বিপরীত। ছটফটে, তড়বড় করে কথা বলেন। বৌদি দেওর অন্ত প্রাণ, সব কিছুতেই তাঁর উপর নির্ভরশীল। সারা জার্নিতে ঠাকুরপো বলে ডাক দিয়েছেন, আর উনিও অলওয়েজ রেডি। দলের সবার সাথেই মুঠোফোনের নম্বর আদান প্রদান হয়েছিল, প্রায় সবাই ঐ ভদ্রলোকের নাম্বার ঠাকুরপো বলে সেভ করেছিল। আমিও রেখেছিলাম, কালের নিয়মে হারিয়ে গেছে। একটু পরেই চমৎকার প্যাকেট ডিনার সেরে বাঙ্কে উঠে গেলাম, এক ঘুমে রাত কাবার।
পরেরদিন উঠতে বেশ বেলা হলো, আর শুরু হলো বিপত্তি। প্রচন্ড গরম। শরীর থেকে অঝোর ধারায় জল বেরোচ্ছে। রীতিমতো হাঁসফাঁস করছে সবাই। উপরন্তু এক জায়গায় ঘন্টা খানেক দাঁড়িয়ে থাকার পর শোনা গেল, মাওবাদীরা গোমো স্টেশনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সমস্ত ট্রেন অন্য রুটে যাবে। আমরা যাবো কিউল মুঙ্গের লাইন ধরে। আরো খানিকক্ষণ পর অবশেষে ট্রেন ছাড়লো। তবে খারাপের মধ্যেও একটা ভালো হলো, ডেলি প্যাসেঞ্জারদের ভিড় হলো না রুট চেঞ্জ হয়েছে বলে। তাতে আমরা অনেকটাই বেঁচে গেলাম, কারণ বিহার ইউপির লাইনে দিনের বেলা যাত্রা করা এক বিশাল বিড়ম্বনা। তবে সেদিন বাঁচলেও পরের দিন নর্মাল রুটে ফিরে গিয়ে প্রাণান্তকর অবস্হা হয়েছিল।