বালতালে সেদিন এক বিকেলে নানা রকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম। আজ সেগুলোই বলবো বলে কলম থুড়ি কি প্যাড ধরেছি। আমরা ক্যাম্পে পৌঁছনোর আধ ঘন্টার মধ্যেই টুকু কাকিমা হঠাৎই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লো। তীব্র শ্বাসকষ্ট, ছটফট করছে, আমার হাত ধরে বারবার বলছে যে আমি মরে যাবো, বাবার কাছে আর যাওয়া হবে না। তড়িঘড়ি বাকি সবাইকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হলো মেডিকেল ক্যাম্পে। খুব ভালো ব্যবস্থা ওখানে, সাথে সাথে ডাক্তার ডেকে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হলো। ডাক্তার পরে বলেছিলেন যে টেনশন থেকে নার্ভাস ব্রেকডাউন, সেই থেকেই শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি। আরেকটু দেরী করলে বাঁচানো মুস্কিল ছিলো। আমরা তো থ।এতো সোজা মানুষের মৃত্যু। যাইহোক, মিনিট পনেরো পরে, অক্সিজেন পেয়ে কাকিমা সুস্থ হয়ে গেলে আমরা কাকিমা কে তাঁবুতে নিয়ে গেলাম। ক্যাম্প থেকে বেরোচ্ছি, দেখলাম দুটি স্ট্রেচারে করে দুজন মানুষ কে নিয়ে আসা হচ্ছে। দুজনেই গোঙাচ্ছেন রীতিমতো। আমরা আর না দাঁড়িয়ে কাকিমাকে পৌঁছে দিলাম তাঁর তাঁবুতে। বেরিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছি, আরো একজন কাকিমা এসে আমাকে অনুরোধ করলেন যে তাঁকে যেন মেডিকেল ক্যাম্প থেকে দুটো ডিসপিরিন এনে দি, কারণ আমাদের সবার লাগেজ আছে আলাদা তাঁবুতে, সেখানে গিয়ে উনি আর ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাইছেন না, পাছে অন্য লোকে কে কি ভাবে। অগত্যা আবার হাঁটা লাগালাম মেডিকেল ক্যাম্পের দিকে। গিয়ে সবে স্লিপ জমা দিয়ে, ফার্মাসিস্ট কে বলেছি দিতে, উনি দেখি খেঁকিয়ে উঠলেন। বললেন আধা ঘন্টা বাদ আনা। আমি ছাড়নেবালা নয়, আবার বলেছি। আমাকে তখন বললেন যে, একটু আগে যে দুটো স্ট্রেচার বাহী মানুষকে আমি দেখেছিলাম, তাঁরা দুজনেই মারা গেছে, উনি ব্যস্ত তাই নিয়ে।
স্তব্ধ হয়ে দাঁড়াই। আর ওষুধ নেওয়া হয়ে ওঠে না। ভাবি কত দূর থেকে হয়ত এসেছিলেন বাবাকে দেখতে, বাবা এনাদের কে নিজের কাছেই রেখে দিলেন। বাবাকে মনে মনে ডাকি, বলি যে যখন আশ্রয় দিলেন, তখন যেন এরাঁ চির শান্তি পায় হে পরমেশ্বর। চুপ করে এসে নিজের তাঁবুতে ঢুকি, একা বসে থাকি, মন খারাপ হয়ে যায় হঠাৎই।