দিব্যি কাব্যিতে স্বদেশ রঞ্জন মন্ডল (দাদাভাই)

ছেঁড়া পাণ্ডুলিপির কিছু কঙ্কাল কথা

আমার ব্যালকনি ছেঁড়া জানালা দিয়ে শান্তচোখে বাইরের দিকদৃশ্য দেখে মনে হলো অশান্ত আঘাতে নিশ্চিত কোনো অঘটন কিচ্ছুটি ঘটেনি এখনও এ-চরাচরে, জানালার নিচে যত দূর চোখ যায় মস্ত-নিক্ষেপে দীর্ঘ নির্জন দিঘি-টি শান্ত হয়ে রয়েছে গোধূলির মতন……..
প্রায় লম্বা সাড়ে তিন মাস দূরদর্শনে কোনো বায়োস্কোপ তো দূর খবর পর্যন্ত দেখিনি, অধিকাংশ সময় স্যাটেলাইট মোবাইল বন্ধ করে রাখি, সংবাদপত্র সেই যে দুখিরাম দিয়ে যায় গরম-জামার ভাঁজটুকুও খোলা হয় না আর…….
বাইরে অলৌকিক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা চলছে নিছক প্রতিশ্রুতি মতো, প্রতিদিন মৃত্যু গুনছি কালের প্রহরী হয়ে, অগণন গুনেই যাচ্ছি বিমর্ষ উদ্বেগে নগ্ন-মানুষের হালহকিকত…….
প্রতিদিন মৃত্যু আর জন্মের মধ্যে আরও জন্ম নেয় বেজন্মা গণিকাদের অক্ষর, হয়তো এ সব এই তমসার দেশে মিছিলের শব্দ একদিন না একদিন ঠিক আবিষ্কৃত করে নেবে মানুষের ঠোঁটে-মুখে অথবা তোমার আমার প্রতিশোধমূলক কবিতায় কবিতায়…….
প্রতি মুহূর্তে মানুষ এখানে মানুষকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে জাহান্নামের পথ অনুসরণে প্রবেশ নেয় মন্দাক্রান্তা অন্ধকারে আবার এখানেই নারী-পুরুষের সঙ্গম প্রস্তাবে টিকিট বিলি করে মানুষের মত দেখতে আরও এক প্রকার মান-হুঁশ……
একশোদিন ও একশোরাত বা তারও বেশী কিছু দিনরাত, একটি চার দেওয়ালী ঘর, পলেস্তারাহীন দন্ত না মাজা খিলখিলে শ্বাশত শ্লোক মার্কা দেওয়াল আর উপরে জ্বরাজীর্ণ প্রাচীন উষা-ফ্যানের ঘটাং ঘটাং বেদর্দি মেজাজ……এই অবিশ্বাস্য নাট্যঘরে আমার নিজস্ব একটি নিষাদ চরিত্র আছে, যাঁকে হাভাত আখ্যা দেওয়া যায় বড্ড সহজে…..
আসলে কি জানিস ?
কোনো মতে বেঁচেবর্তে আছি কব্জি-উঠিয়ে,
ও যখন ছিল ভালোবেসেছিল ততদিন যতদিন পাঁকাল মাছের আয়ু ছিল দুজনের……
এখানের ঠিকানা আছে আমার নামের পাশে,
এখানের পুরানো রংচটা পিনকোড আছে আমার নামের পাশে, আছে শনশনে কাব্যিক হাওয়া তোর ছবিটির শ্লোক-ই আদরে
আর
কোনোখানে নেই আমি ছাড়া কেউ……
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।