গল্পে সর্বাণী রিঙ্কু গোস্বামী

গঙ্গারাম
গঙ্গারাম…..সে জানেনা নামটি কে বা কেন রেখেছে। খুব পিছিয়ে মনে করতে পারে এই নদীর কিনারে ঘাট হেলাবটতলা, দুর্গন্ধ আর ছেঁড়াকাপড়পরা তার পাগলী মা। চোখের পলকের মতো জলে ঝুলে পড়া বটের ঝুরি আর লোকের আনাগোনা। এই জায়গাটুকু তার নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া পাগলী মায়ের উত্তরাধিকার। ছোটবেলাতে গাছের ঝুরি ধরে দোল খেতে গিয়ে পড়ে মেরুদণ্ডে চোট পাওয়ায় সে ঝুঁকে থাকে এবং ভারী কাজ করতে পারেনা বলে ভিক্ষাই তার জীবিকা।
একদিন ঘুম থেকে উঠে সে আবিষ্কার করে তার পাশে আরেকজন মেয়েমানুষ অকাতরে ঘুমোচ্ছে। মা… তার বুকে যেন সজোরে ধাক্কা লাগে। হতচকিত ভাবটা কেটে গেলে সে বোঝে, মা নয়… এর বয়স আরো কম জটাধরা চুল, অসম্ভব দুর্গন্ধ এবং পেটটা অস্বাভাবিক ফোলা। কেউ মোক্ষলাভ করার সহজ রাস্তা খুঁজতে চেয়েছিলো হয়তো! কিন্তু কেন কে জানে… গঙ্গারামের মনে “মা” ডাকটিই গুনগুন করতে থাকে।
প্রাতঃকৃত্য সেরে সে ঘাটের দোকান থেকে সে দুভাঁড় চা কেনে সঙ্গে একপাউন্ড পাঁউরুটি, তারপর ঘুমন্ত মেয়েমানুষটির মাথার কাছে দাঁড়িয়ে তার মুখ দিয়ে মা ডাকটিই বেরিয়ে আসে! বারকয়েক ডাকার পর পাগলী চোখ মেলে এবং অভ্যস্ত প্রতিক্রিয়ায় উরুদুটি মেলে ধরে। পরক্ষণেই তার কিছু মনে হয়, ধড়মড়িয়ে উঠে বসে এবং ঈষৎ ঝুঁকে দাঁড়িয়ে থাকা জটার ফাঁকে সূর্যের ছটা আসা মানুষটিকে তার কেন কে জানে ভগবান মনে হয়। সে দুহাত জড়ো করে মানুষটিকে পরমভক্তিভরে নমস্কার করে।
“আবার আরেকটা পাগল কোথা থেকে যে এসে জুটলো!” ঘাটে আসা মানুষজন গজগজ করতে থাকে।
ভগবান ধুলো ঝেড়ে আবার তাঁর আসন পাতেন।