T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় সংঘমিত্রা রায়চৌধুরী

জীবন যখন যেমন
হলুদ পার্চমেন্ট পেপারের ওপরে জীবন একবিন্দু আঠা,
ম্যুরালের ছাঁদে পাকানো রঙিন মার্বেল পেপার যত্নে সাঁটা,
টানা টানা দীঘল চোখের ওপরে ধীরে ভ্রুয়ের ধাঁচে গড়ে ওঠা,
জীবন কাফকা আর মুরাকামির ছোট গল্পের ডাকে ছোটা।
বোহেমিয়ান হতে হতে হয়ে যাওয়া ঘোরতর সংসারী,
ছেঁড়া বোতামঘরের সেলাইয়ে সূঁচ সুতো হাতে আনাড়ি,
কেজো জীবনের চেয়ে সহজ দেওয়া জাহাজে সাগর পাড়ি,
পাখনা মেলা হালকা মেঘ হতে গিয়েও জীবন ক্রমশঃ ভারী।
জীবন এক বিরক্তিকর উপন্যাস অধ্যায়ের পর অধ্যায়,
জীবনের অন্য নাম ধৈর্য্য, জীবন কখনও ত্যাগে তিতিক্ষায়,
প্রেম ভালোবাসার ব্যবচ্ছেদে আলো-আঁধারি জীবন মায়াখেলায়,
তবু পরবর্তী পরিচ্ছেদে তুমি আছ বলে জীবনের পাতা ওল্টায়।
জীবন আজকাল সরকারি ফাইলের লাল ফিতের ফাঁসে,
ঘুষখোর পাতাখোর নেশাড়ুর চোখেও যেন পদ্মকুঁড়ি হাসে,
ডিডিম ডিডিম ধামসা মাদল বোল তুলে নূপুর তালে ভাসে,
কাঁকন চুড়ির রিনিঠিনি ঘুমের ঘোরে অলস শিশির হয়ে ঘাসে।
ভোকছানি শেষে জীবন কুরুক্ষেত্রে কর্ণসম কাঁধে কালপৃষ্ঠ,
দৃক-শ্রবণ রুদ্ধ বৃদ্ধ কুটুরে পেঁচার মতো দৃঢ়বদ্ধ শুষ্ক ওষ্ঠ,
পেন্ডিং লাইনে আছে যেন দেউলিয়া হওয়া এক জমিদার শ্রেষ্ঠ,
ব্যাঙ্করাপ্টের খাতায় লেখা বাতিল ব্যালেন্স শিটে জাগর্তি কন্যা ভূমিষ্ঠ।
কখনও জীবনটা ভরপুর পেয়ালায় অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি,
ট্রাপিজের নেটে ঝুলে, মোটর সাইকেলে মরণকূপের ব্যাপ্তি,
রোলার কোস্টারের ওঠা-পড়ায় জেগে থেকে গভীর সুষুপ্তি,
রেল পটরির ফাঁকে আটকানো লাল ঝাণ্ডায় সিগন্যালে সমাপ্তি।
বাতাস আসা, বাতাসে ভাসা হাইড্রোজেন গ্যাসের ঢাউস বেলুন,
আউশ ধানের শিষের ডগায় হিমের ফোঁটায় মিশলে ফুলকি আগুন,
পলাশ শিমুল লালের ছোঁয়ায় মাতলে জাগে অনুরাগের ফাগুন,
তখন একলা যাপন বিদায়ী সুর গেয়ে জীবন আবার নতুন প্রসূন।