T3 || স্তুতি || শারদ বিশেষ সংখ্যায় সুনৃতা রায় চৌধুরী

যা দেবী সর্বভূতেষু

উৎসবমুখর মহানগরীর আয়োজনে কোনো ত্রুটি ছিল না
মা আসছেন যে!
সারা বছর তার জন্যই তো পথ চেয়ে থাকা!
মা এলেন,
মহানগরী যখন লাউড স্পিকারের আওয়াজে গমগম করছে,
কথা ঢেকে যাচ্ছে কথার ওজনে,
কেবল একটা মৃদু গর্জনের মতো কানে বাজছে,
ধ্বনিত হচ্ছে, প্রতিধ্বনিত হচ্ছে,
আজ দুই মাস ধরে যা বারবার বেজেছে,
সেই সুবিচারের দাবি।

জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই দেখছি রাজপথ ছাপিয়ে
রোশনাই আমার বাড়ির সামনে
আলোর জালিকা বুনেছে নানা রঙে।
ঝলমলে পোশাকে চলেছে নরনারী
কোনো গ্রাম থেকে তারা কলকাতায় পুজো দেখতে এসেছে।
পরিবারের ক্ষুদে সদস্যটির ক্লান্ত পা আর চলে না,
পিতা তুলে নিয়েছেন তাকে নিজ স্কন্ধে।
শিশুর হাতে ধরা প্লাস্টিকের বাঁশি
বিস্ময় বিহ্বল শিশু ভুলে গেছে তাতে ফুঁ দিতে।

বড়ো চেনা ছবি। উৎসবে ফিরেছে ওরা।
তবুও রাজপথে এখনও ফুটে উঠছে অক্ষর ,
এত আলোর মাঝে তীব্রতর হয়ে উঠছে কিছু মশাল,
ক্ষুধা রূপেণ, তৃষ্ণা রূপেণ, বুদ্ধি রূপেণ,বৃত্তি রূপেণ সংস্থিতা মা
কার চেতনা জাগাবেন?
কোথায় তাঁর লজ্জা রূপেণ, শ্রদ্ধা রূপেণ, শান্তি রূপেণ,দয়া রূপেণ মূর্তি?
নিষ্ফল প্রার্থনায় আমাদের ছেলেমেয়েরা অজস্র প্রতিকূলতার মাঝে
এখনও অনশন মঞ্চে।
করুণাময়ী মায়ের শরীর জুড়ে ক্ষত,
দুই চোখে রক্তের ধারা
কেবল ললাটনেত্রে আগুনের দীপ্তি।

মাকে আমরা কাঁদাই, আবার মায়ের কাছেই সুবিচার চাই।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।