কাব্যানুশীলনে সুদীপ্তা রায় চৌধুরী মুখার্জি
আলোর ছায়া
নিরাকার ঘুমের গায়ে ছায়া ফেলে যে বায়বীয় অন্ধকার,
গিরিবর্ত্মের বিপজ্জনক বাঁকে যে হাহাকার লেগে থাকে,
উভয়েই একই আলোতে যাবতীয় শোকনামা লেখে।।
পুষ্পপ্রয়াণের শেষে মাধুকরীর আদিখ্যেতা যে বেমানান তা কি অজ্ঞাত দশমীর বিষন্নতার কাছে?
পাহাড়ের কার্নিস বেয়ে যে টয় ট্রেইনটা গন্তব্যকে বাইপাস করে অনন্তের ভাষা শিখেছে,
সে জানে গাঢ় ব্যথা আদতে শূন্যতার রূপক।।
অনুরোধের আসর আর নীলকন্ঠ পাখির মায়া আবেদনের মাঝে জ্বলজ্বল করে একটি একাকী প্রদীপ রাখা ঠাকুরদালান,
বাহ্য আবিলতার শেষ স্মৃতিচিহ্ন।।
যে আলো বিষন্নতার দ্যোতক তার অন্ধদশার খবর টি.আর.পির প্রতিপাদ্য নয়।
শেষ ট্রামের ধ্রুপদী মেজাজ আর পথ খোয়ানো নদীর কুলুতানে যে শিকড়ের গানের সন্ধান আছে তারা ঠিক জানে ফেরার ঠিকানা…
শীতের কুয়াশা জড়ানো নদীর বুকেও জেগে থাকে সূর্যের মায়া।
রাত্রির উপোসী শরীরে স্থান পায় আলোর মাদকতা।
শেষ রাতের রাঙা হয়ে যাওয়া আলো ধুয়ে দেয় বেশুমার অসুখ দাগ আর অনুক্ষণ দাহ চিহ্ন।
।
অন্ধকার শুষে মাথা তোলে রাশ রাশ আলোর প্রহরী,
ঝর্ণার বর্ণহীন তান আর কস্তুরীর ঘ্রাণ চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ পেরিয়ে কবে যেন ছুঁয়েছিল অসুখী সেলাই,
তেপান্তর পার হয়ে ভেসে যায় সেতারের তান,
রাতের বিবর্ণ আকাশ ডুবে যায় অপার্থিব আলোয়ে,
স্মৃতি সাইক্লোনে ডানা ঝাপ্টাতে থাকে ফ্যাসিজ়ম অফ হ্যাপিনেস।
খুলে যায় তার বন্ধ মুঠো।
একটি মরমী সন্ধ্যা উবু হয়ে বসে তোর ব্যস্ত কারসারে
মোমশিখ মুছে দেয় যাবতীয় যতিচিহ্ন, স্তূপীকৃত নৃত্যরত অন্ধকার।
ঘুমভাঙা সূর্যোদয় সেখানেই নিরুচ্চারে রেখে গেছে পরজন্মের অঙ্গীকার…