T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় শম্পা রায় বোস

নষ্ট মেয়ে
ক্লাসের ফার্স্ট হওয়া ঐ মেধাবী মেয়েটা এখন,
রাস্তায় দাঁড়িয়ে ক্লিভেজ
দেখিয়ে নষ্টামি করে।
সিগারেটের ধোঁয়া রিং করতে করতে,
সমাজের ক্ষতগুলো সারাবার স্বপ্ন দেখা সাহসী মেয়েটা
আবার,
নতুন সমাজের কথাও বলে।
রাতের পর রাত নষ্টামির সময়েও ওর মনে থাকে,
ভাইকে কলেজে ভর্তি করানোর কথা।
অনায়াসে ব্লাউজের হুক খুলতে খুলতেও মনে রাখে,
বোনের শাশুড়িকে এবার পুজোয় ভালো গরদ দেওয়ার কথা।
কাস্টমারদের টাকা ছিনিয়ে স্বযত্নে বুকে গুঁজে,
আবার স্বদর্পে নষ্টামির জন্য ঘুরে দাঁড়ানো মেয়েটা ভোলে না-
বাবার শেষ কেমোর টাকাটা যে করেই হোক,
জোগাড় করতেই হবে।
এত কিছুর পরও মেয়েটা হাসিমুখে মনের আনন্দে রবি ঠাকুরের গান গায়।
” সে চলে গেল বলে গেল না”—
সারারাত নষ্টামির পর শরীর মনের ক্ষত মুখোশে ঢেকে,
সেই পরাজিত নষ্ট মেধাবী মেয়েটা,
লাস্ট ট্রেনে বাড়ি ফিরে স্কুলের প্রাইজ গুলোয় হাত বোলায়।
ঘামে ভেজা মোচড়ানো টাকা গুনতে গুনতে,
অদৃষ্টের দোষ দেওয়া গর্ভধারিণীর হাহুতাশ ।
“কত জন্মের পাপে বেশ্যার টাকা সংসারে লাগে।”
টলমল পায়ে শ্রান্ত ক্লান্ত স্বপ্ন দেখা মেয়েটা অপেক্ষা করে সুন্দর একটা ভোরের।
তলপেটে হাত রেখে যন্ত্রণা সহ্য করা মেয়েটা কিন্তু বাঁচতে চায় আরও অনেকদিন।
শুধু এই সংসারটার জন্য ।