মহালয়ার শারদ প্রাতে মৃন্ময়ী মা দিব্যদূতি স্বরূপা
কাশফুলে হিল্লোলিত মহামায়ার আগমনী বার্তা।
নারী শক্তির অপরিমেয় প্রেরণা…
দুষ্ট দময়ন্তী উগ্রচন্ডা চন্ডিকা;
পর্বতরাজ ও মেনকা তনয়া মহিমান্বিতা উমা
মৃত্যুঞ্জয় পরিণীতা হিমজা,
মহিষাসুর মর্দ্দিনী দেবী দুর্গা…
দিকে দিকে তারই জয়ডঙ্কা আদ্যাশক্তি মহামায়া।
বিশ্ব চরাচর মাঝে তুমি অনন্ত নারী শক্তির আঁধার
তুমি পাষাণ, তুমি পরিত্রাণ সাধুণম…
তুমি অসুরদলনি বিভদ্র শক্তিতে আগুয়ান।
তুমি মৃত্যুঞ্জয়ী পাপনাশিনী প্রচন্ড চন্ডিনী…
তুমি আদি, তুমি অন্ত্য
তুমি উদয়ের পথে দাও শক্তি মুরতি;
তুমি একবিংশের উন্মিলিত নারী চেতনা
তুমি সত্য স্বরূপে উদ্যত খড়গ হস্তা…
তোমাকে প্রণমি নত জানু চিত্তে,
অভয়ারূপিণী শক্তিস্বরূপিণী সদা বিরাজিত অন্তরে।
সভ্যতার অরুণ প্রাতে তুমি চিন্ময়ী মা;
ভগ্নশেষ থেকে নব চেতনার বার্তা…
কালজয়ী মোক্ষদায়িনী স্বস্তিপ্রিয়তি
শান্তিময় বিশল্যকরণী মা দুর্গা দেবী।।
হারিয়ে যাওয়া বনফুল
তুমি হারিয়ে যাওয়া বনফুল হয়ে
সেই মেয়েটির মনেই রয়ে গেলে…
যে নাকি রোজ তোমাকে ছুঁতো আলতো করে
গা ঘেঁষাঘেঁষি বসে সে আরও আপন হতো,
তারই আবক্ষ জুড়ে তুমি ছিলে একটি ফুল
কিন্তু সেই ছেলেটি যে সপ্তমীতে হারিয়ে গেলো;
হঠাৎ প্রেমের প্রলেপ দিয়ে হলে উড়ো পাখি
আগমনীর সুরে সুরে বেশ তো ছিলে সঙ্গে সাথি…
সেই মেয়েটিই অন্য কারো, অন্য কোন দেশে
জীবন নামের নকশিকাঁথা বোনে সকাল সাঁঝে।
সেই ছেলেটি দেখেছিল হঠাৎ থামা সিগন্যালে
সিঁথিতে সিঁদুর পরা সেই মেয়েটিকে
গাড়ির ভিতর নতুন বর পাশাপাশি বসে;
বহু গাড়ি হর্ণ বাজিয়ে চলল তার পাশ কাটিয়ে
সেই ছেলেটি যেমন ছিল তেমনি দাঁড়িয়ে সিগন্যালে;
সপ্তমী রাত বিভীষিকার লিখলো এক স্মৃতি,
হঠাৎ লরির ধাক্কা পেয়ে ছিটকে গেল ছেলেটি।
সেই মেয়েটি চেনা বাইক দেখলো হঠাৎ পাশে
নম্বরটিও মিলে গেলো ঐ ছেলেটির সাথে,
গ্লাস বেয়ে রক্ত পড়ে একটি হাত দিয়ে
তবু যেন সেই ছেলেটি শান্তি পেল
বহু দুঃখের থেকে।
সেই মেয়েটি নেমে এলো রক্তমাখা পথে
সেই ছেলেটি মরছে আজ তারই চোখের মাঝে,
কান্না চোখে হাতটি ধরে বিদায় নেবে বলে
হারিয়ে গেলো সেই ছেলেটি প্রেমের পথের বাঁকে;
সেই মেয়েটি সারা জীবন রাখলো কিনা মনে
সেই ছেলেটি বনফুলের মালা হলো শেষে।।