কবিতায় সংঘমিত্রা রায়চৌধুরী

উভলিঙ্গ
নারী ও পুরুষ শব্দদুটি দুটি ডাহা মিথ্যা,
গোটা জীবনদর্শন একটা ভুল ধারণায় গড়া।
যেসব কাজে পুরুষের লজ্জা পাওয়া উচিত নয়,
সেসব কাজে নারীরও লজ্জা পাওয়ার কোন যুক্তি নেই।
আদতে তো একলিঙ্গের খোলসে আটকে পড়া
প্রতিটি মানুষই উভলিঙ্গ।
জীবনবিজ্ঞান বলছে…
মানবদেহে সাঁইত্রিশ ট্রিলিয়ন কোষ থাকে,
প্রতিটি কোষে ছেচল্লিশটি ক্রোমোসোম থাকে,
এর মধ্যে চুয়াল্লিশটি অটোসোম,
এবং দু’টি সেক্স ক্রোমোসোম…
যা কিনা পিতা ও মাতা থেকে আসা এক জোড়া।
অতএব, মানবদেহের প্রতিটি কোষই উভলিঙ্গ। বহিরাবরণ না দেখে বরং ভিতরের কোষগুলিকে অনুভব করা যাক।
উভলিঙ্গ মানেই কমপ্লিট… সম্পূর্ণ।
মানুষ জোড়ায় জোড়ায় তৈরি নয়।
বরং প্রতিটি মানুষের অস্তিত্ব স্বয়ংসম্পূর্ণ ও একা।
শুধুমাত্র বংশবিস্তারের প্রয়োজনে বহিরাবরণে একটু ভিন্নতা।
নতুবা একই দেহে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি হলে,
এনার্জির অপচয় বেশি হতো।
বেশি শক্তিক্ষয় হলে মানুষ বেশি অসুস্থ হতো।
দর্শনে ও জীবনদর্শনে পার্থক্যটুকুতেই নারী পুরুষ পৃথক পৃথক,
আদতে তো উভলিঙ্গ, সব মানুষ উভলিঙ্গ।