ফার্স্টস্টপ

মা, মাটি আর মানুষের গল্প
একটা গোরু মাঠে চরছিলো। মনের সুখে কচি কচি ঘাস চিবিয়ে চলছে। এমন সময় তার গলার দড়িতে টান। কে টানলো? তার মালিকই টেনেছে। তবে এই টানটা তার আজ অচেনা লাগলো। মালিকের বয়স সতেরো ছাড়িয়ে আঠারো হয়েছে। পুরুষ্টু হাতের টান। কিশোর মালিক যুবক হয়েছে। কিন্তু মালিকের হাতে আজ ওটা কী! ধোঁয়া উড়ছে কাঠি দিয়ে। বিড়িতে সাবধানে টান দিলো মালিক চন্দ্র। কেউ তার ধোঁয়া গেলা দেখে ফেলে যদি বাপকে বলে দেয় তবে বাপ জ্যান্ত মেরে ফেলবে। গোরুটা এসব দেখে হাসছিলো। এমন সময় গোরুটার দড়িটা ছিড়ে গেল। কিন্তু সে তো আর পালানোর গোরু নয়। তাই ঠায় দাঁড়িয়ে। ওকে ধরেই মালিক বাড়ি মুখো হলো। এই সমস্ত ঘটনাটাই মাঠটা মুখ বুজে দেখছিলো। এখন সে একা। কেউ নেই তাকে দেখবার। তাই মনের সুখে হেসে নিলো ক্ষানিকটা। তারপর হঠাৎ তার বুকে জ্বালা ধরলো। তারতো এসিডিটি নেই।তবে জ্বালাটা কীসের!! হঠাৎ মনে পড়লো গোরুর মালিকতো বিড়ি ফুঁকছিল, সে তো গোরুর দড়ি ছিড়তেই বিড়িটা ফেলে দিয়েছিলো মাঠের মাঝেই। নেভানো হয়নি। গোরুমোষ আসে, রোজ তার বুক থেকে ঘাস ছিড়ে খায়। ওতে তো তার লাগে না। তবে আজ কেন? মাটি মাঠের মা, মা নিশ্চিত এর উত্তর জানবে। সেদিন মাটি তার মাঠকে যে উত্তর দিয়েছিলো তা মাঠ কোনোদিনই ভুলবে না। সেদিন মা মাটি বলেছিলো, ” ওরা মানুষ, ওরা সবুজে আগুন রং যে মেশে না তা জানে না। ওদের ক্ষমা নয়, উপেক্ষা করতে শেখো।”