গল্পেরা জোনাকি তে সুতপা পূততুণ্ড

পরিনিতা
সুব্রতা কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! টেবিলের ওপরে একটা চিরকুট লিখে চলে গেছে…..
সুবুর মা কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলিয়ে বড় মেয়ে কে নিয়ে ঘরে খিল দিয়েছে,যতক্ষন না সুবু কে ফিরে পাচ্ছেন ততক্ষণ কিছুই মুখে তুলবেন না।
বড় মেয়ে সুজাতা খিদের জ্বালায় ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে হাতের সামনে চিড়ে আর গুড় খেয়ে পেটের জ্বালা নিভিয়ে বাবার সাথে কথা বলতে গেলো। ও কিছু বন্ধুর নাম ঠিকানা জানত, বাবা আর পাড়ার কিছু মানুষ সেই ঠিকানায় গিয়ে খোঁজ খবর করায় এক টোটো চালকের খোঁজ পেয়ে তাদের বাড়ি থেকে ছোট মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসে,সিঁদূর মুছিয়ে আবার স্কুলে পাঠাতে শুরু করে।সময়ালোচনার ঝড় বয়ে যায়!
“আর কিছুদিন পরেই মাধ্যমিক,এদিকে ১৬ বছর বয়েস এখনিই বিয়ের সখ!”
এর মধ্যেই দু বছর কেটে গেছে,সুবু বড় হয়েছে,মানে ১৮।
সুজির বিয়ে ঠিক হয়েছে,পাশের গ্রামে,বিয়ে ভালো মতো মিটে গেলে,সবার ধ্যান যায় ছোট মেয়ে সুবির ওপর,আবার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!
সেদিন অনেক খোঁজা খুঁজির পর পাশের পাড়ার কালিমন্দিরে এক মাথা সিঁদুর নিয়ে গলায় রজনীর মালা, পাত্র টি সেই! এবার অটো চালক।
“যাক প্রোমোশন হয়েছে তাহলে!”
পাড়ার লোকের মুখ বন্ধ করা অত সহজ কথা নয়!
এবার সুবু কে আর সেই (অটোওলা) বিকাশকে সামনে বসিয়ে কথা বলে ঠিক করা হোলো দুজনেই এখন পড়াশুনা করবে,সুবু, বি এ ক্লাসে ভর্তি হবে,আর পাত্র বিকাশ বি কম পড়বে।দুজনের আলাদা কলেজ।
তিন বছর পর সুবু ২১ আর বিকাশ ২৫।
পাড়ার লোকঃ কি দাদা আবার নতুন করে মেয়ের বিএ দেবেন না কি? এবার ত বি এ পাশ দিল!
উহু আপনারা মশাই পড়েনও, একেবারে হ্যাট্রিক!
সুবির বাবা মনোরঞ্জন বাবু চুপ মেরে গেলেন।
বিকাশ কে ‘ ল’ কলেজে ভর্তি করে মেয়ে কে।এম এ তে ভর্তি করে দিলেন।
ইতিমধ্যে ওরাও নিজেদের বুঝতে শিখেছে। সুবু আবার ওর মায়ের কথায় লুকিয়ে সিঁদুর পড়ে।
বিকাশ এখন বারাসাত কোর্টের উকিল,সুবু পাড়ার একটা স্কুলে পার্ট টাইম টিচার।
পাড়ার লোকঃ কি দাদা এবার কি তবে নাতির মুখেভাত দেবেন?
মেয়ে ত সেয়ানা হয়ে গেছে! জামাইএর সাথে নাইট্ট ক্লাবে যায়!
মনোরঞ্জন বাবু মেয়ে আর বিকাশের সাথে কথা বলে বিয়ের দিন খন ঠিক করলেন।
বিয়ের দিন সকালে বিকাশের বাবা হঠাৎ ম্যেসিভ হার্ট এটাকে মারা গেলেন!
বিয়ে বন্ধ, কিন্তু লগ্ন ভ্রষ্টা মেয়ে কে ঘরে বসিয়ে রাখা,পাড়ার লোক ত ছেড়ে দেবে না, আকথা কুকথা কইবে!
সুবু এখন অনেক পরিনত,বাবা।কে ডেকে বলল, তুমি অত ভেবো না।
“আমাদের রেজিষ্ট্রি ম্যেরেজ হয়ে গেছে!”
মনোরঞ্জন বাবু অ-বাক।
“তোর কি আমার ওপর ভরসা নেই?”
সুবু চুপ করে মাথা নিচু করে থাকল!
বিকেলে শ্মশান থেকে সোজা বিকাশ দের বাড়ি চলে যায় সুবি।
লাল পাড় সাদা শাড়িতে বেশ সংবেদনশীল মনে হয়।
পাড়ার লোকঃ কি দাদা সুবি কে কোথায় রেখে এলেন?
মনোরঞ্জনঃ শ্বশুর বাড়ি।