কবিতায় শান্তনু প্রধান

শুক্ল পক্ষের মাথায় চার ফোঁটা অশ্রু রেখে হেঁটে যাচ্ছে অন্ধকার

আবার যদি কখনও আসে অশ্রুসিক্ত চোখের কোনে অমৃতযোগ
দেখা হবে সেদিন বন্য চাঁদের পিঠে বেজে ওঠা মাদলের সাথে
তবে কি আমি দীর্ঘ অপেক্ষার পর সক্ষম হব ঢুকে যেতে
তার নিপুণ গর্ভে সুপ্ত থাকা প্রাচীন ছন্দের ভেতর
অর্থহীন এই সম্পর্কের স্রোত নিদ্রাহীন বৃক্ষের মাথা টোপকে
ঊর্ধ্বমুখী ফড়িং – এর মত কেন যে খুঁজে চলেছে ভিন্ন গ্রহের কক্ষপথ
বলতে পারো, সেই কক্ষপথ জুড়ে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে কাদের রেণু

আমার কাছে সভ্যতার কোন পরমাণু নেই যেখানে তুমি
ক্ষুধার্ত কান্নার শেষে দীর্ঘজীবী ছায়ার মতো অনুশীলন সেরে নিতে পারো
এস ধ্রুপদী জ্বর রুগ্ন বিছানার পাশে শুয়ে থাকা হলুদ চশমার কাচে
শক্ত করে ধরে রাখো বিচিত্র বিকেলের রোদে পুড়ে যাওয়া পান্ডুলিপির ছাই
সমস্ত জীবন জুড়ে ফুটে ওঠা ঘাইয়ের ভেতর ঢালো চোখ নিঙড়ানো দু – ফোঁটা অশ্রু
তবে কি এখন আমি লক্ষ্যহীন পরকীয়া চিরুনির দাঁড়ে গেঁথে ফেলেছি
সংক্রামিত হৃৎপিণ্ডের তীব্রতম ভালভ -এর উচ্ছ্বাস

কিছুই জানি না বলে শ্মশান ঘাটে দু-হাতে সরাই
চাঁদের শরীর থেকে খসে পড়া আগুন পিন্ডের যাবতীয় বর্ণমালা
বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আগে আনন্দযজ্ঞের অন্নব্যঞ্জন ফেলে শুধু একবার এসে দেখো
নিজস্ব ঋতুতে হুড়হুড় করে ভেসে যাচ্ছে তীব্রতম বর্ষার গান
হয়তো তাই সংলাপহীন ওষ্ঠের খাঁড়ি বেয়ে নেমে যাচ্ছে বিসর্জনের কাঠামো
হয়তো তাই আবারও যদি কখনও ফিরে পাই ঠাস বুননের অমৃতযোগ
সেই একনিষ্ঠ অপেক্ষায় অনিঃশেষপাথরের উপর খুলে রেখেছি দেবী পক্ষের অশ্রুসিক্ত চোখ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।